প্রতিপক্ষ যেদিন ভাগ্য

‘ভুতুড়ে দিন’ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। ক্রিকেটে এই দিনটাতে একজন ব্যাটসম্যান যা করতে চায় সেটাই হয়। হেইডেন যেদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৮১ রানের ইনিংস খেললো সেদিন জিম্বাবুয়ের বোলাররা স্রেফ হাসাহাসি করছিল। ইয়র্কার বলেও যদি কোন ব্যাটসম্যান অবলীলায় ছয় মারে তাহলে সেদিন তাকে আউট করার চেস্টা না করে খেলাটা উপভোগ করাই ফিল্ডারদের জন্য বেটার।

মনে মনে শুধু অপেক্ষা করতে হবে যে কখন ব্যাটসম্যান ভুল করে। এই দিনটাকে বলা হয় ব্যাটসম্যানদের জন্য ‘ফ্রিক ডে’। বোলারদের জন্যেও এমন দিন আসে। সেদিন বোলাররা আনপ্লেয়েবল হয়ে যায়। ইচ্ছে মতো বলকে সুইং করাতে পারেন, বলে বাউন্স দিতে পারেন। বোলারদের জন্যেও সেটা ‘ফ্রিক ডে’।

তবে পুরো একটা দলের জন্যে যে এমন ‘ফ্রিক ডে’ আসতে পারে সেটা কখনো ভাবিনি। গতকালকের ম্যাচ শুরুর আগ থেকেই ভারতের সাথে শক্তির ব্যবধানে বাংলাদেশ ঢেড় পিছিয়ে, এর সাথে পেল শ্রীলংকানদের সমর্থন। সেগুলো স্বাভাবিকই ধরে নিয়েছিলাম কিন্তু ভাগ্যের এতটা সমর্থন পাবে সেটা কিভাবে মেনে নেই?

শুরুটা হয়েছিল তামিমের আউট নিয়ে। এরকম শটে একটু উনিশ বিশ হলে ক্যাচের বদলে ছয় হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাচটা ধরে ফেললো ঠাকুর। এই ক্যাচ মিস হয়ে ছয় হলেও ফিল্ডারকে কেউ দোষ দিত না, ক্যাচটা ধরে ফেলায় সেটা অসাধারণ হয়ে রইলো। কি দরকার ছিল অসাধারণ কাজটা কালকেই ঘটার?

রান আউট, যে কোন ফরমেটেই রান আউট বিরক্তিকর। টিম ইন্ডিয়া যেন দূর্দান্ত ফিল্ডিং করলো। যে কোন থ্রোই স্ট্যাম্পে এসে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের একটা থ্রোও সরাসরি স্ট্যাম্পে হিট করলো না। অন্তত দুইবার ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা দৌড় বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু বল স্ট্যাম্পে না লেগে সাইট দিয়ে গেল। কিভাবে লাগবে? কালকে দিনটা ভারতের না!

শেষ বলে ছয় মেরে ম্যাচ জয়। এরকম মূহুর্তে ১০ টা ম্যাচ হলে ৮ দিনই বোলার জেতে, ২ দিন জেতে ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের দূর্ভাগ্য যে তারা সেই দুই দিনের মাঝেই পরে গেল। পুরো ম্যাচে একটাও ছয় না খাওয়া সৌম্য শেষ বলটাতেই ছয় খেলো।
খেতেই হবে, কারণ দিনটা ভারতের।

ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্স নিয়ে আমি পুরোপুরিই গর্বিত। কেউ কেউ হয়তো কিছুটা নার্ভাস ছিল কিন্তু সেটা খেলাতে প্রভাব ফেলেনি। সাকিব অসাধারণ অধিনায়কত্ব করেছেন। খেলোয়াড়রাও শতভাগ দেবার চেস্টা করেছেন। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে আপনি প্রতিপক্ষের সাথে কৌশল করে জিততে পারবেন কিন্তু ভাগ্যের সাথে পারবেন না।

কেন যেন ভারতের ভাগ্যটাই আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়েছিল। তবে আমি বিশ্বাস করি হতাশ না হয়ে চেস্টা করে গেলে উপরওয়ালা কোন না কোন সময় এর প্রতিদান দেবেনই।

সেই দিনটার আশাতেই আছি। শুভ কামনা বাংলাদেশ দলের জন্য।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।