ফ্লপ তারকারাই যখন সফল পরিচালক

অনেকেই বলিউডে পর্দার সামনে এসে ভাগ্য যাচাই করেছেন। কেউ সফল হয়েছেন, অধিকাংশই হয়েছেন ব্যর্থ। কখনো কখনো এই ব্যর্থরা এসেছেন পর্দার পেছনে, মন দিয়েছেন সিনেমা নির্মানে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি সে পরিচালনায় তাঁরা বিস্তর সাফল্যও পেয়েছেন।

  • আরবাজ খান

নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ব্যর্থ হন। এরপর ভিলেন হিসেবেও আসেন। এখন অবশ্য তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেন। মন দিয়েছেন প্রযোজনা ও পরিচালনায়। ‘দাবাঙ’-এর প্রযোজক তিনি, এরপর সিকুয়েল ‘দাবাঙ ২’ পরিচালনা করেন নিজেই।

  • রাকেশ রোশন

৭০ ও ৮০’র দশকের পরিচিত অভিনেতা ছিলেন। কিন্তু কিংবদন্তি বা আহামরী পর্যায়ের ছিলেন না। সেই রাকেশ রোশন পরিচালনায় এক ভিন্ন মানব। ১৯৮৭ সালে ‘খুদগার্জ’ দিয়ে তিনি নির্মানে আসেন। এরপর একে একে ‘কয়লা’, ‘করণ অর্জুন’, ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’, ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’ কিংবা ‘কৃষ’-এর মত জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেন।

  • যুগল হংশরাজ

তিনি অভিনেতা হিসেবে একটি আক্ষেপের নাম। সুদর্শন হওয়ার পরও তারকাবহুল ‘মোহাব্বাতে’ ছাড়া তাঁর ক্যারিয়ারে আর কোনো প্রাপ্তি নেই। শিশুচরিত্র দিয়ে সুনাম যা কুড়িয়েছেন নায়ক হয়ে তাঁর সব খুঁইয়েছেন। পরবর্তীতে ‍তিনি দু’টো সিনেমা পরিচালনা করেন। একটা যশ ফিল্মসের ব্যানারে ‘প্যায়ার ইম্পসিবল’। আরেকটা হল ‘রোড-সাইড রোমিও’। অ্যানিমেশন এই সিনেমাটি পরিচালনার জন্য রীতিমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

  • আশুতোষ গোয়ারিকার

১৯৮৪ সালের ‘হোলি’ দিয়ে শুরু। এরপর নাম (১৯৮৬), চমৎকার (১৯৯২) কিংবা কাভি হা কাভি না (১৯৯৩) – সিনেমাগুলোতে কাজ করেছেন। থিতু হতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে ‘পেহলা নেশা’ করার পর ১৯৯৫ সালে আসে তাঁর আরেকটি নির্মান ‘বাজি’। এরপর একে একে ‘লগান’, ‘স্বদেশ’, ‘যোধা আকবর’ নির্মান করেন তিনি। লগান ছবিটি তাঁকে অস্কার অবধি নিয়ে গিয়েছিল।

  • পূজা ভাট

অভিনেত্রী হিসেবে খুব মন্দ ছিলেন না মহেশ ভাটের কন্যা ও আলিয়া ভাটের বড় বোন। তাঁর ক্যারিয়ারে ‘সড়ক’ ও ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’র মত সিনেমা আছে। পরে পরিচালনায় এসে ‘পাপ’, ‘হলিডে’ ও ‘জিসম টু’ নির্মান করেন তিনি।

  • অভিষেক কাপুর

নব্বই দশকে টুইঙ্কল খান্নার বিপরীতে ‘উফ! ইয়েহ মোহাব্বাত’ সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন। এরপর পরিচালক হয়ে ‘রক অন’ ও ‘ফিতুর’-এর মত সিনেমা নিয়ে হাজির হন।

  • সুভাষ ঘাই

তিনি বলিউডে কত অসংখ্য হিট সিনেমার নির্মাতা, সেসব বলে শেষ করা যাবে না। ‘খলনায়ক’, ‘তাল’, ‘পরদেশ’, ‘ইকবাল’ – তালিকাটা অনেক লম্বা। তবে, তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল অভিনেতা হিসেবে। ছোট খাট চরিত্র ছাড়াও ৭০-এর দশকের ‘উমাঙ’ ও ১৯৭৬ সালের ‘গুমরাহ’ ছবিতে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। সেসবে স্থায়ী আসন গড়তে না পেরে ১৯৭৬ সালে ‘কালিচরণ’ সিনেমা দিয়ে পরিচালনায় তাঁর অভিষেক হয়।

– আরভিসিজে.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।