ইংল্যান্ড ক্রিকেটের আসল সমস্যা!

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত দেই। ঔদ্ধত্য আর অহম স্পোর্টসে আমি বরাবর পছন্দ করি, অনেক ক্ষেত্রে প্রিয় খেলোয়াড় নির্বাচনে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পছন্দ হয়ে যায়, কিন্তু সেটা মাঠে থাকাই ভালো, মাঠে যেটা হয় কখনো কখনো স্পোর্টসম্যানশিপকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

কিন্তু, ইংল্যান্ডের এই দলে সেটা মননে মগজে ঢুকে যাওয়ার একটা প্রবণতা, ইয়ন মরগ্যানের দুইটা প্রেসমিট দেখেছি, আমাদের এক বড় ভাই জিজ্ঞেস করলেন, ২০১৫ তে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর যে প্রভাব সেটার দরুনই কি এই নতুন ইংলিশ দল, আগ্রাসী ও ইতিবাচক? মরগ্যান উত্তর দিতে নারাজ, ‘That’s just a loss’ – হার তো হার, সবাই জানে হারের পর তো ইংল্যান্ডের ভালোই হয়েছে, তো সেটা স্বীকার করতে সমস্যা কোথায়?

এরপর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে আবারো সাংবাদিকদের মুখোমুখি, স্টিভ স্মিথকে দুয়োধ্বনি থেকে বাঁচাতে কোহলি যেটা করেছে, সেটা কি আপনি করবেন?

মরগ্যানের জবাব – ‘না, অবশ্যই না, যেটা তারা করেছে, সেটার প্রভাব এখনও যায়নি, ফ্যানরা যা ইচ্ছা করবে মাঠে, আমি কেন বলতে যাবো!’

এর চেয়ে তো সরফরাজ ভালো, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ভক্তরা এমন না যে কাউকে দুয়োধ্বনি দিবে।

ওদিকে উনি ইতিহাসও ভুলে গেছেন বোধহয়, ট্রেসকোথিকের পকেটে বালি নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নেমেছিলেন, বল ঘসতে।

আসলে কি হয়, আইরিশ ক্রিকেটে থাকলে আপনি আজ বালবির্নিদের সতীর্থ হতেন, আপনার মানসিকতাই বিশ্বকাপ জেতার যোগ্য না। আর ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইংল্যান্ডের সব শক্তি ব্যাটিং নির্ভর, ‘On a given day’, ব্যাটিং নাই তো কিছু নাই।

পাকিস্তান টানা ১১ ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপে এসেছিলো, ইংল্যান্ডের সাথে টানা চারটি, একটি পরিত্যক্ত, পাকিস্তান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচটিকে নিয়েছে সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচ হিসেবে, যেটা জিতলেই হলো বাকিটা তারা ভুলে গেছে। জিতেও গেছে পাকিস্তান, ১৪ রান ব্যবধানের চেয়ে দুইটা পয়েন্ট বড়।

ইংল্যান্ডের বোলিংও ব্যক্তিনির্ভর, জোফরা আর্চার, ১৫ উইকেট নিয়েছেন এই ম্যাচের আগে, কিন্তু বিগ ব্যাশে খেলেছেন লম্বা সময়, যার ফলশ্রুতিতে অজিরা তাকে চেনে, জাস্টিন ল্যাঙ্গার প্রি ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে অকপট উত্তর আমার ছেলেরা ওকে খেলেছে, সমস্যা হবেনা, হয়ওনি, আর্চার বরং এক ওভার কম বল করেছেন আজ।

ইংল্যান্ড হয়তো হিসেব মতে সেমিতে উঠে যেতেও পারে, কিন্তু এই মানসিকতা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জেতাই মানানসই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।