অদূর ভবিষ্যতে পাঠাও যা করবে

কোনো এক বিকালে পাঠাও রাইডের জন্য কল দেয়ার পর-

– হ্যালো, ধানমন্ডি বারো ল্যাব এইড হসপিটালের সামনে আসেন, গুলশান যাবো।

– কিন্তু স্যার, আপনি কাল রাতে আপনার আম্মুকে ফোনে বললেন আজ সারাদিন বাসা থেকে বের হবেন না।

– আরে ধুর, আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেছে। এক বড় ভাইয়ের সাথে মিট করতে যাব।

– স্যরি স্যার, আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি কিছুক্ষণ আগেই সোনিয়া নামের এক মেয়ের সাথে দেখা করতে চেয়ে মেসেজ দিয়েছেন।

– হুম, কোনো প্রবলেম? আমার বড় আপু হয়।

– কিন্তু এতদিনের চ্যাটে আপনি কখনোই তাকে আপু সম্বোধন করে কথা বলেননি। এমনকি আপনি তাকে তুমি ডাকেন।

– হ্যাঁ ডাকি, তো আপনার কী? আপনার বোনরে তো আর তুমি ডাকি নাই।

– দুঃখিত স্যার, সোনিয়া ম্যাডাম কি আপনার গার্লফ্রেন্ড?

– তা জেনে আপনাদের কাজ কী?

– আপনার আম্মু আপনার বিয়ের জন্য মেয়ে খুজছে, আপনি চাইলে আমরা উনাকে ইনফর্ম করে দিতে পারি যে ইউ হ্যাভ এ গার্লফ্রেন্ড।

– থাক, তার কোনো দরকার নাই। আর হ্যা, আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই, ওকে?

– এটা তো স্যার ভুল বললেন, আপনার ফোনে ‘জান’ নামে যে এয়ারটেল নাম্বার সেভ করা সেটা কার?

– ওহ, শিট, হ্যাঁ ওটা আমার গার্লফ্রেন্ডের নাম্বার। ওটাই সোনিয়া, আমি এখন যার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।

– কিন্তু স্যার, জান নামের ঐ নাম্বার থেকে কাল আপনাকে মেসেজ করেছে সে সিলেট যাচ্ছে সকালে। আপনি রিপ্লাই দিয়েছেন, হ্যাভ এ সেফ জার্নি।

– ওকে ওকে, ওটা নাতাশা। আমার গার্লফ্রেন্ড ওটাই। ওর খালামনি অসুস্থ তাই সিলেট যাচ্ছে দেখতে।

– স্যরি স্যার, আমরা আপনাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে নাতাশা ম্যামের ফোনে খালামনি নামে যে নাম্বার সেভ করা ওটাতে একটা ছেলেকন্ঠ কথা বলে। তাদের লাস্ট কনভার্সেশন ছিলো, আমি সিলেট আসতেছি, খুব মজা হবে। লেটস এঞ্জয়।

– হোয়াট দ্যা এফ, সিরিয়াসলি? সে আমার সাথে এইভাবে চিট করলো? আমি জাস্ট ভাবতে পারিনাই। আমি তাকে সত্যিকারের ভালোবেসেছিলাম। দুনিয়ায় সত্যিকারের ভালোবাসার দাম নাই।

– এভাবে মিথ্যা বললে আল্লাহ আপনাকে গুনাহ দেবে স্যার। আপনি কিছুক্ষণ পর সোনিয়া নামের একটা মেয়ের সাথে রেস্টুরেন্টে মিট করতে যাচ্ছেন?

– তো? তার সাথে তো আর আমার অন্যরকম কোনো সম্পর্ক নেই। সে আমার জাস্ট কলিগ। আমি তো নাতাশাকেই ভালোবেসেছি শুধু। ওকে চিট করিনি।

– আচ্ছা, তো কাল রাত সাড়ে তিনটায় সোনিয়াকে ‘সেন্ড ন্যুডস’ লিখে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, সেটা চিট না?

– আচ্ছা জাহান্নামে যাক নাতাশা তাতে আমার কি? আমি আসলে সোনিয়াকেই ভালোবাসি। আজ থার্ড ডেট আমাদের।

– কিন্তু স্যার সোনিয়া এই মুহুর্তে..

– ওহে গরীবের উইকিলিকস মিস্টার পাঠাও, আমি এতো বকবক শুনতে চাচ্ছি না। আপনি বাইক নিয়ে তাড়াতাড়ি আসেন। গুলশান যাবো।

– তার আর দরকার হচ্ছে না স্যার, এই মুহুর্তে সোনিয়া আপনাকে মেসেজ লিখছে সে আর আপনার সাথে রিলেশান রাখবে না। আজকের ডেট ক্যান্সেল। মেসেজ সেন্ড করে দিয়েছে। দেখেন আসছে।

– হ্যা আসছে আসছে, শিট। এখন আমার কি হবে। আচ্ছা দেখতেছি বিষয়টা, আপনার আসা লাগবে না। রাখেন।

– স্যরি স্যার, আমি অলরেডি বাইক নিয়ে ল্যাব এইডের সামনে চলে এসেছি এবং আপনি কোথাও না গেলেও আপনাকে বিল পে করতে হবে। মাত্র তেইশ শো চল্লিশ টাকা।

– এতো কেন?

– এই যে এতোক্ষণ আপনাকে যেসব ইনফরমেশন দিলাম, পাঠাও এর জন্য চার্জ করছে। ফুড ডেলিভারির পর ইনফরমেশন ডেলিভারি। পাঠাও ইনফরমেশন।

– আমি এতো টাকা দিতে পারব না, আমার কাছে টাকা নাই।

– কিন্তু স্যার আপনি কালই সেমিস্টার ফির কথা বলে আপনার বাবার থেকে চল্লিশ হাজার টাকা নিয়েছেন।

– হ্যাঁ তো ওটা ভার্সিটিতে জমা দিতে হবে।

– কিন্তু ভার্সিটির মেইল বলছে আপনার কাছে তাদের কোনো টাকা পাওনা নাই।

– না থাক, আমার টাকা আমি আপনারে দিব না। যা খুশি করেন।

– অসুবিধা নেই স্যার, আমরা অলরেডি আপনার একাউন্ট থেকে ভ্যাটসহ আমাদের বিল কেটে রেখেছি।

– হোয়াট!

– ইয়েস স্যার। রাখি তাহলে। হ্যাভ এ গুড ডে। বাই!

_______________

নিছক কল্পনাপ্রসুত একটি রম্য রচনা। এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।