বলিউড ইন্ডাস্ট্রি: সাফল্যের আড়ালে বিপর্যয়ের ঝুঁকি

বলিউড ভারতের অন্যতম প্রধান বিনোদন খাত। প্রতি বছর শতাধিক সিনেমা নির্মিত হচ্ছে বলিউডে, ব্যবসাসফলও হচ্ছে অনেক সিনেমা। সংখ্যার বিচারের চেয়ে গুণগত মানের দিকটিও বিবেচ্য হয়ে ওঠে অনেকসময়। বলিউডের সিনেমায় কি নেই তার দিকে নজর দেয়া যাক। বলিউডে গুণগত মানসম্পন্ন প্রচুর ছবি নির্মাণ করা হয়, তবুও কিছু ঘাটতি রয়েই গেছে। সেগুলো নিয়েই খানিক কথাবার্তা বলার জন্য এ লেখা।

  • একই ধরনের গল্প, কনটেন্টের অভাব

বলিউডের সিনেমাগুলোয় একটি সাধারন গল্প থাকে। একই গল্পের পুনরাবৃত্তি ঘটে চলে প্রায় নিয়মিত বছরের পর বছর। বিপদগ্রস্থ নারীকে উদ্ধার করা, ছেলে-মেয়ের প্রেম, ভিলেনের আগমন এবং ছোট কিছু টুইস্ট বলিউডের প্রতি মোটেই সুবিচার করতে পারছেনা। শাহরুখের প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই রোমান্স, সালমানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ‘অ্যাটিটিউড’ দেখা যায়। একটা টাইপে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে শাহরুখ, সালমানের সিনেমা – যদিও সিনেমার গল্পে তাদের সিগনেচার ‘স্টাইল’ অপ্রয়োজনীয় তবুও নির্মাতারা তা দিয়ে দিচ্ছেন। এসব তাদের মান যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে, তেমন মান কমাচ্ছে বলিউডের।

  • মৌলিকের খোঁজে

একই ধরনের গল্প যেমন বলিউডকে পেছনে টানছে তেমন মৌলিক গল্পের অপ্রতুলতাও বলিউডকে সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। বায়োপিক ও অন্যান্য কিছু বাদে অধিকাংশ বলিউড সিনেমাই বিদ্যমান কিছু গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ‘ধামাল’ (২০০৭) সিনেমার মতো একই প্লট ছিল ১৯৬৩ সালের ‘ইটস ম্যাড, ম্যাড, ম্যাড, ম্যাড ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার। ‘পিপলি (লাইভ)’ (২০১০) এর সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে ২০০৪ সালের ‘ইনভাইটেশন অব সুইসাইড’ সিনেমাটির।

এসব উদাহরণে প্রতীয়মান হয় মৌলিক গল্পের অভাব বলিউডের আন্তর্জাতিক মানে প্রভাব ফেলছে। কাজেই নতুন সৃজনশীল, মৌলিক গল্প অত্যন্ত জরুরী বলিউডকে পরবর্তী পর্যায়ে নেয়ার জন্য।

  • কুসংস্কারকে প্রাধান্য

বলিউডে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়। কুসংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে বেশ কিছু সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে নিয়মিত। যেমন নাগিন বিষয়টিকে নিয়ে কম সিনেমা আসেনি। সেই শুরু থেকে আজ অব্দি এমন মনগড়া বিষয় নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘নাগিন’, ‘নাগিনা’, ‘জানি দুশমন – এক আনোখি কাহানি’ ইত্যাদি সিনেমা। পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক বিশ্বাসকে পর্দায় এনেছে আরো কিছু সিনেমা যেমন – ‘এক থি দায়ান’, ‘পেহেলি’ ইত্যাদি।

এক্ষেত্রে সাই-ফাই সিনেমার অভাববোধ করেছে অনেকেই। সামাজিক বিশ্বাসের চেয়েও প্র্যাকটিক্যাল সিনেমা সাই-ফাই যার একটি ভিত্তি আছে। ‘লাভ স্টোরি ২০৫০’ সাই-ফাই সিনেমার সম্ভাবনাকে সমূলে নষ্ট করে দিয়েছে।

  • ট্রেন্ডিং স্টাইল

হিন্দী সিনেমার একটি ট্রেন্ডিং স্টাইল হলো নাচ-গান। প্যাকেজের মধ্যে কিছু গান থাকে, যার কোন প্রয়োজনীয়তাই থাকেনা মূল কাহিনীতে। বরং এ গানের কারণে কাহিনী মন্থর হয়ে পড়ে, গতি হারিয়ে ধুঁকতে থাকে। অনেক সময় হুট করে উড়ে এসে জুড়ে বসা আইটেম গান, মিউজিক সিনেমাটিকে স্বস্তা করে ফেলে। সিনেমাটি হারিয়ে ফেলে মৌলিকত্ব, নষ্ট হয় গল্পের ধারা।

  • প্রতিভাদের অবমূল্যায়ন

বলিউডে নতুনদের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। যদিও সুযোগ নতুনরা পাচ্ছে, তবে যাদের নামের সঙ্গে খান বা কাপুর যুক্ত আছে তারাই বড় বাজেটের নতুন নতুন সিনেমায় সুযোগ পেয়ে বসছে। এতে অন্যান্য সাধারন পরিবারের মেধাবী নতুনমুখ আর সুযোগ পাচ্ছেনা, যাদের পক্ষে হয়তো চমৎকার অভিনয় সম্ভব হতোস। এটি একটি কারণ যেখানে দর্শক নতুনদের গ্রহণ করছেনা। কিংবা বলা চলে দর্শকের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে ‘স্টার’ পরিবার থেকে সিনেমায় আসা নতুনরা।

বছর শেষে বলিউড এত এত সিনেমা নির্মাণ করছে, তাদের কাছে তাই আরো ভালো কিছু প্রত্যাশিত ছিল। উপরের যে পয়েন্টগুলো আলোচনা করা হলো এগুলোতে নজর দিলে মানের দিক দিয়ে বলিউড আরেকটু উন্নত হবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য যে ইন্ডাস্ট্রীতে তার মানের দিকে তো নজর দিতেই হবে সংশ্লিষ্টদের।

– দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।