সিনেমায় ব্যবহৃত পোশাকগুলো কোথায় যায়?

‘ইউ আর মাই সোনিয়া’ গানে কারিনা যে লাল রঙা জামাটা পরেছিলেন সেটা কোথায়? কিংবা ‘ডোলা রে’ গানে পার্বতীর চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রায় যে বাঙালি ঢঙের শাড়ি পড়েছিলেন সেটার পরিণতিই বা কি হয়েছিল? ডিরেক্টররা যখন ‘প্যাক আপ’ বলে দেন, তখন এই কস্টিউমের পরিণতি কি হয়? চলুন জেনে নেই।

  • পরিবর্তন করে পুনর্ব্যবহার

সিনেমা শেষে কস্টিউম গুলো স্টোরেই রেখে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কিছু দিন বাদে নতুন কোনো সিনেমায় ব্যবহার করেন কোনো জুনিয়র শিল্পী। কিন্তু, একই আউটফিটকে কাটছাট করে ভিন্নধর্মী কোনো পোশাকও বানিয়ে ফেলেন ডিজাইনাররা।

‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ সিনেমার কস্টিউম ডিরেক্টর আয়েশা খান্না এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যশ রাজ ফিল্মসের ক্ষেত্রে ছবির নাম, ক্যারেক্টারের নাম অনুসারে পোশাকগুলো স্টোরে সংরক্ষিত থাকে। পরে অন্য সিনেমার প্রয়োজনেও সেগুলো ব্যবহার করা হয়। ২০০৫ সালে ‘বান্টি অওর বাবলি’ সিনেমার ‘কাজরারে’ গানে ঐশ্বরিয়া যে আউটফিট পরেছিলে সেটা পাঁচ বছর পর ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এ একজন ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট পরেছিলেন। শুধু ঘাঘরাটা ভিন্ন ছিল। এটা কারো পক্ষে লক্ষ্য করে খুঁজে বের করাটা প্রায় অসম্ভব।

  • ‘আমি এটা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি’

কোনো কোনো অভিনয় শিল্পী সুভ্যেনির হিসেবে কস্টিউম নিজের কাছেই রেখে দেন। আয়েশা বলেন, ‘কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী স্মৃতি ধরে রাখতে কস্টিউম নিজেদের কাছে রেখে দেন। হয়তো পরে আর কখনোই পরেন না, তবে সুভ্যেনির হিসেবে সংরক্ষণ করেন।’

এখানে যেমন দীপিকা পাড়ুকোনের কথা না বললেই নয়। ‘ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমায় তাঁর করা চশমা পরা ‘ন্যায়না’ চরিত্রটা খুবই মনে ধরেছিল। সিনেমায় তিনি যে সোয়েটারটা পরেছিলেন, সেটা নিজের কাছেই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন।

  • ডিজাইনার’স কালেকশন

অনেক সময় ডিজাইনরা পোশাকগুলো ফিরিয়ে নেন। রেখে দেন নিজেদের কালেকশনে। যেমন ‘বোম্বে ভেলভেট’-এ  আনুশকা শর্মা যে সবুজ রঙের জমকালো গাউন পরেছিলেন সেটা ফিরিয়ে নিয়েছেন খ্যাতনামা ডিজাইনার মনিশ মালহোত্রা।

  • পুরনো পোশাকে অনীহা

অনেক কস্টিউম ডিজাইনার পুরনো পোশাক আর ব্যবহার করতে চান না। তারা শুধু সিনেমা শেষে পোশাকগুলো বাক্সবন্দী করে স্টুডিুওতে ফেলে রাখেন।

‘অগ্নিপথ’ ও হিম্মতওয়ালা সিনেমায় কাজ করা কস্টিউম ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট নাভিন শেঠি বলেন, ‘আমি প্রতিটা সিনেমা নিয়ে নতুন করে ভাবি। তাই, আগের কোনে প্রোজেক্টের পোশাক একটু পরিবর্তন করে ব্যবহার করার কথা ভাবিও না। সিনেমার চরিত্রগুলো আমি ভাল ভাবে স্টাডি করে সেই অনুযায়ী পোশাক বানাই। যে চরিত্রের জন্য যেমনটা মানানসই তেমনটা নিজের কালেকশন থেকে বের করি। শ্যুটিং শেষে সেসব চলে যায় প্রোডাকশন হাউজের জিম্মায়। এগুলো তো তাঁদেরই প্রাপ্য। ওসব আমি আর নিজের কাছে রাখি না। নতুন প্রোজেক্ট এলে নতুন করে ভাবি।’

  • নিলাম

অনেক কস্টিউম নিলামে তোলা হয়। ‘জিনে কে হ্যায় চার দিন’ গানে সালমান যে তয়লা ব্যবহার করেছিলেন সেটা নিলাম থেকে এক লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় রুপি আয় করে। সেই অর্থ দান করা হয় একটা এনজিওতে।

‘রোবট’ সিনেমায় ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন ও সুপারস্টার রজনীকান্ত যে কস্টিউম ব্যবহার করেছিলেন সেটাও নিলামে তোলা হয়েছিল। অর্থ ব্যয় করা হয় দাতব্য খাতে।

  • এক চরিত্রে ১২৫ টি পোশাক

২০১০ সালের সিনেমা ‘অ্যাকশন রিপ্লে’-তে ১২৫ টি ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। সিনেমাটির নির্মাতাদের দাবী একটি গানের জন্য কমপক্ষে ৪০ বার পোশাক পাল্টেছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। একবার ভাবুন তো সিনেমার কস্টিউম ডিজাইনারদের কি খাটনি টাই না হয়েছিল!

– বলিবাইটস ও মিড ডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।