গিটারের আর্তনাদ

রকস্টাররা এমনিতেই খুব শক্ত হন। ইস্পাতের মত দৃঢ় মনোবল তাদের। সেদিক থেকে জেমস আবার আরো এক কাঠি এগিয়ে। কখনোই খুব বেশি আবেগী হতে দেখা যায় না তাঁকে। কনসার্টেও ঠিক তাই। কিন্তু, প্রিয়জন হারানোর শোক তো তাঁকে ছুয়ে যেতেও বাধ্য।

তাই তো জেমস আর্তনাদ করলেন, চোখ বেয়ে বের হল পানি। সাথে গিটারের বাজনা যেন আরেকটা মায়াবী দ্যোতনা সৃষ্টি করলো। তাতে, কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে আরো একবার বিদায় জানানোর সুযোগও পাওয়া গেল।

‘ছয়টি তারে লুকিয়ে আছে, ছয় রকমের কষ্ট আমার, ফুরিয়ে যাওয়া মানুষের মতো, নির্ঘুম রাত জেগে জেগে, গিটার কাঁদতে জানে…’ – গানটা এই মাহফুজ আনাম জেমসই গেয়েছিলেন। এবার সেই জেমসের গিটার আক্ষরিক অর্থেই কেঁদে উঠলো বন্ধু হারাবার বেদনায়।

বরগুনায় একটি কনসার্ট ছিল। উন্নয়ন মেলার কনসার্ট। ঠিক সেদিন সকালেই জীবন নদীর ওপারে চলে যান আইয়ুব বাচ্চু। মঞ্চে ওঠার পর থেকেই তাই স্বাভাবিক ছিলেন না জেমস। বোঝাই যাচ্ছিল, এক কিংবদিন্তর বিদায়ে ভেতরে ভেতরে আরেকজনও একদম ভেঙে পড়েছেন।

জেমস বলতে শুরু করলেন, ‘কিংবদন্তি গায়ক আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। আজকের অনুষ্ঠানটি করার একদম ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু ১৫ বছর আগের একটা গল্প বলি। আমি আর বাচ্চু ভাই আড্ডা মারি; একদিন আসতে আসতে বাচ্চু ভাইকে বললাম, আমাদের শিল্পীদের জন্য ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, দ্য শো মাস্ট গো অন। তাই চেষ্টা করবো…’

জেমস আক্ষরিক অর্থেই চেষ্টার কমতি করেননি। কিন্তু, একবার গিটার হাতে নিতেই আর পারেননি। গিটারে ঝড় উঠলো, আর হৃদয়ের ঝড়টা বোঝা গেল তাঁর অভিব্যক্তিতে। রকস্টাররাও দিন শেষে রক্ত-মাংসের মানুষ।

(বাঁ-থেকে) হামিন আহমেদ, জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু

জেমস ও বাচ্চু – বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ভূবনের দুই প্রবাদ পুরুষ। দুজনই একটা সময়ে ছিলেন ফিলিংসে। আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে জেমসের পরিচয় ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক। দু’জন এক সাথে কত শো, কত কনসার্ট যে করেছেন তাঁর কোনো হিসাব নেই।

জেমস বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের এই গভীরতার কথা কখনো বোঝাতে পারব না। কেউ হয়তো জানবেও না যে আমাদের একের হৃদয়ে অপরের জন্য কতটা জায়গা রাখা আছে। আমাদের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল।’

এখন সেই প্রতিযোগীতাটা নেই। তারপরও সময় কেটে যাবে। তারপরও শো করতেই হবে। ওই যে বলে না, দ্য শো মাস্ট গো অন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।