বিধাতাও একদিন ক্লান্ত হবেন

কেই বা ভেবেছিল ২২২ রানের সামান্য একটা স্কোর নিয়েও এমন জোরদার লড়াই করবে বাংলাদেশ!

জয়ের জন্য ২২৩ রানের খেলতে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। প্রথম ৪ ওভারে ২৪ রান যোগ করেন এই দুই ওপেনার। পঞ্চম ওভারের প্রথম তিন বল থেকে ১১ রানও নিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন রোহিত ও ধাওয়ান। তবে ওই ওভারের চতুর্থ ধাওয়ানের পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম। মিড-অফে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩টি চারে ১৪ বলে ১৫ রান করেন ধাওয়ান।

তিন নম্বরে নামা আম্বাতি রাইডুকে ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। ৭ বলে ২ রান করে ফিরেন রাইডু। দলীয় ৪৫ রানে রাইডুকে হারানোর পর দিনেশ কার্তিককে নিয়ে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার রোহিত। দেখেশুনে খেলতে থাকেন রোহিত ও কার্তিক।

ফলে দলীয় সংগ্রহ শতরানের দিকে এগিয়ে যায় ভারতের। তবে দলীয় ৮৩ রানে রোহিতকে শিকার করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরার সুযোগ করে দেন রুবেল হোসেন। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫৫ বলে ৪৮ রান করেন রোহিত।

অধিনায়ককে হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন কার্তিক ও মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচের লাগাম নিজেদের দিকে নেয়ার চেষ্টা করেন কার্তিক ও ধোনি। নিজেদের পরিকল্পনায় সফলও হন তারা। উইকেটে সাথে মানিয়ে নিয়ে সহজেই রান জড়ো করছিলেন কার্তিক ও ধোনি।

তাই এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরাতে অস্থির হয়ে উঠেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। শেষমেষ মাহমুদউল্লাহ’র অধিনায়ককে চিন্তা মুক্ত করেন। কার্তিককে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। একটি করে চার ছক্কায় ৬১ বলে ৩৭ রান করেন কার্তিক।

কার্তিককে তুলে নিয়েই দমে যায়নি বাংলাদেশ। মিডল-অর্ডারে ভারতের প্রধান ভরসা ধোনিকেও প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার ডেলিভারিতে ধোনিকে বোকা বানান ফিজ। তিনটি বাউন্ডারিতে ৬৭ বলে ৩৬ রান করেন ধোনি। ফলে ১৬০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ভারত।

ধোনিকে বিদায়ের কিছুক্ষণ পর পায়ের ইনজুরিতে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন কেদার যাদব। ফলে লোয়ার-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান রবীন্দ্র জাদেজা ও ভুবেনশ্বর কুমার লড়াই শুরু করেন। বাংলাদেশ বোলারদের সামনে নিজেদের সেরাটা দেয়া চেষ্টা করেন তারা। সিঙ্গেলসের উপরই বেশি নির্ভর করেন জাদেজা ও ভুবেনশ্বর। ফলে ম্যাচ জয়ের পথেই হাটতে থাকে ভারত। শেষ ৪ ওভারে ১৮ রান দরকার পড়ে টিম ইন্ডিয়ার।

৪৭তম ওভারে ৫ রান তুলে নিয়ে ভারতকে জয়ের পথেই রাখেন জাদেজা ও ভুবেনশ্বর। তবে ৪৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জাদেজাকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্র্রু এনে দেন ডান-হাতি পেসার রুবেল হোসেন। একটি চারে ৩৩ বলে ২৩ রান করেন জাদেজা।

এরপর ব্যাট হাতে নামেন ২০ বলে ১৯ রান নিয়ে আহত অবসর নেয়া যাদব। তবে ৪৯ তম ওভারের প্রথম বলে ভুবেনশ্বরকে তুলে নিয়ে দারুনভাবে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান মুস্তাফিজুর। ওই ওভারে মাত্র তিন রান দেন ফিজ। এতে শেষ ওভারে ছয় রান প্রয়োজন পড়ে ভারতের।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে আসেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম দু’বল থেকে দুই রান নেন যাদব ও কুলদীপ। তৃতীয় বলে দুই রান নেন কুলদীপ। চতুর্থ বলে কোন রান দেননি মাহমুদউল্লাহ। ফলে শেষ দুই বলে দুই রান দরকার পড়ে ভারতের। পঞ্চম বলে এক রান নেন কুলদীপ। এরপর শেষ বলে এক রান নিয়ে ভারতকে শিরোপার স্বাদ দিয়েছেন যাদব।

একটি চার ও ছক্কায় ২৭ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেন যাদব। পাঁচ রানে অপরাজিত থাকেন কুলদীপ। বাংলাদেশের পক্ষে দু’টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজুর ও রুবেল এবং একটি করে উইকেট নেন নাজমুল-মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহ। সবাই মিলে বিশ্বকে উপহার দেন এশিয়া কাপের ইতিহাসের অন্যতম ক্লাসিক একটি ম্যাচ।

বাংলাদেশ প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল সেই ২০০৯ সালে। এরপর কেটে গেছে নয়টা বছর। এর মধ্যে এই এশিয়া কাপসহ মোট ষষ্ঠবারের মত কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেললো বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে যে চারটা এশিয়া কাপ হয়েছে, তার মধ্যে তিনবারই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কোনোবারই শিরোপা জেতা হয়নি।

মাশরাফি বিন মুর্তজা আর কখনোই হয়তো এশিয়া কাপ খেলবেন না। শিরোপা না জিতলেও সম্ভবত এটাই বাংলাদেশের সেরা এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট। যে লড়াইয়ের মানসিকতাটা ছড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি তাতে কোনো একদিন অবশ্যই শিরোপার আক্ষেপ ঘুচতে বাধ্য। একদিন বিধাতাও নিশ্চয়ই ক্লান্ত হবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।