ওয়াজির: আর দশটা থ্রিলার ছবির মত নয়!

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ফারহান আখতার ও অমিতাভ বচ্চনের ‘ওয়াজির’ সিনেমা নিয়ে একটু আলাপ করা যাক। এটা প্রথাগত কোনো রিভিউ নয়। শুধু দেখতে দেখতে যেসব বিষয় মনে হয়েছে সেগুলো বলছি।

প্রথমে কিছু অসঙ্গতি বা বাজে দিক নিয়ে বলি।

ছবি শুরু হয় স্লো মোশন সিনের মাধ্যমে। ফারহান আখতারের বিয়ের জন্য অদিতি রাও হায়দারিকে কনে হিসাবে দেখতে যাওয়া। দু’জনের ঠোটের কোণে মুচকি হাসি, ভাল লাগা, বিয়ে, প্রথম সন্তান, এবং সন্তান বড় হয়া উঠা। এই সবগুলা বিষয় কয়েক মিনিটে স্লো মোশনের মাধ্যমে দেখায়া শুরু হবে ছবির আসল অংশ।

এসব ইম্পরট্যান্ট বিষয়াদি যখন একটানে আপনাকে দেখাতে থাকবে, তখন আপনার মনে হওয়াই স্বাভাবিক ছবির মূল গল্পটা অন্য জায়গায়। আসলে গল্প অন্যটাই, কিন্তু এই সিনগুলা স্লো মোশনে না দেখায়া যতটুকু পারা যায় বিস্তারিত দেখালে ভাল হত। এটা বলার পিছনে দু’টো কারণ আছে।

প্রথমত, এই দৃশ্যগুলা এতটাই সুন্দর ভাবে চিত্রায়ন করছে, এজন্য স্লো মোশনে দেখানোটা দৃশ্যগুলার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটাও আমি বলতাম না যদি ছবির দৈর্ঘ্য বেশি হইতো। ছবির মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। সেখানে এই সীনগুলার জন্য আর দশটা মিনিট বাড়লে কিছুই ক্ষতি হতো না। এটা তাই ছবির একটা অ-সুন্দর দিক।

ছবিতে প্রথম যে শত্রুদের আস্তানায় হামলা করে ভারতীয় পুলিশ, তারা মূলত পাকিস্তানি টেররিস্ট। অ্যাজ ইউজুয়াল বলিউড ছবিতে যেমন দেখায়। সব থেকে গাঁজাখুরি কনসেপ্ট হলো পুলিশ যখন হামলা করে তখন পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা উচ্চ শব্দে কালেমা পড়ে আর গুলি করে। সন্ত্রাসকে পশ্চিমা কায়দায় ইসলামীকরণের পদ্ধতি আরকি। এটা ছবির আরেকটা বাজে দিক।

  • চরিত্র বিশ্লেষণ

ছবিতে ফারহান আর অমিতাভ উভয়েই প্রধান চরিত্র। ফারহানকে মুসলিম হিসেবে কেন এনেছে তার কোন শৈল্পিক দাবী বা মেটাফোরিক সূত্র খুঁজে পাই নাই।

অমিতাভ আর ফারহানের মধ্যে কিছু মিল ছিলো। দু’জনেই তাদের নিজেদের মেয়েকে হারিয়েছেন, মানে তারা মারা গেছে। এবং সেটা অস্বাভাবিক মৃত্যুতে। ছবিতে দুজনেই গোঁফ বিশিষ্ট। কিন্তু একজন পণ্ডিত আর অন্যজন মুসলিম। এজন্যই মূলত ফারহানের মুসলমান হতে যাওয়া নিয়া আমার প্রশ্নটা মনে জাগলো।

  • ছবির ভাল দিক

অসাধারণ ক্যামেরার কাজ। একদম প্রথমের বৃষ্টির দৃশ্যটা জাস্ট অস্থির। আর পুরা ছবিটার দৃশ্যায়ন করছে অসাধারণ সব জায়গায়। ফারহানের মেয়েকে যে জায়গাটায় মাটি দেয়, কবরস্থান এবং মসজিদ পাশাপাশি, কিংবা যেসব স্থানে অমিতাভ ফারহান বসে বসে দাবা খেলে, বা ফারহান অমিতাভকে নিয়ে হাটতে যায়। এছাড়া সব আউটডোর লোকেশন ছিল সুন্দর।

আরেকটা ভাল লাগার বিষয় ছিলো ছবির গান। একদম প্রথমের গানটা ‘তেরে বিন’ আমি অনেকবার শুনলাম অলরেডি। মজার ব্যাপার হলো এটা বিধু বিনোদ চোপড়ার লেখা লিরিক্স, এবং তিনি যে গানও লেখেন তা এই প্রথম জানলাম।

সংলাপ খুব গোছানো। বিশেষ করে অমিতাভের মুখের কথাগুলা ভাল লাগছে। চরিত্রটার সাথে ওইরকম কথাবার্তা মানাইছে খুব। একটা কথা আমি আলাদা নোট করছি -হাম দোনো যাহা হে, হামারে দুশমন এক হি হায়, ওয়াক্ত!’

এছাড়া মদের সাথে দাবা খেলার পদ্ধতিটা ভাল ছিলো।

  • শেষ কথা

এটা একটা ভাল ছবি। শুধুই ভালই না, অসাধারণ ছবি। যতবার ফারহান তার মেয়ের কবরের কাছে যায় আর কাঁদে, আমার নিজের মধ্যে খুব ভাবান্তর হয়। মেয়ের মৃত্যুর কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার দুরত্বে আপনি নিজে অস্বস্তি ফিল করবেন। তাদের জন্য আপনার খারাপ লাগবে। আমার মনে হয় ছবির এইটাই মূল বিষয় ছিলো, ফারহান আর অদিতির মধ্যকার প্রেম। আপনি যদি এটাতে মজে যান, তাহলে মূল স্টোরিতে আপনি ডুব দিতে পারবেন। না হলে আর দশটা থ্রিলার ছবির মতই মনে হবে।

সিনেমার শেষ মিনিটে একটা চমক আছে। এটা গোপন রাখলাম।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।