ওয়ারেন বাফেট ও গুড প্যারেন্টিংয়ের অনন্য এক নজীর

ওয়ারেন বাফেটের বাবা হাওয়ার্ড বাফেট ছিলেন একজন আমেরিকার রিপাবলিক পলিটিক্যাল পার্টির জনপ্রিয় নির্বাচিত নেতা ও একজন নামকরা বিনিয়োগকারী। এরপরও তাঁর বাবা ক্ষমতায় থাকাকালীন ১১ থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি স্কুলে চুইংগাম, কোকাকোলা ও সাইকেলে করে খবরের কাগজ বিক্রি করতেন।

এখানেই শেষ নয়, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি নিজের নামে সরকারের ট্যাক্স একাউন্ট খুলেন ও ৩৫ ডলার ডিডাকশনও করান। এই ডিডাকশন আসলে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি যে আয় করছেন এখানে তিনি ৩৫ ডলার লাভের অংশ থেকে পুনরায় বিনিয়োগ করছেন খবরের কাগজ ডেলিভারি করার জন্য সাইকেল ও একটি হাত ঘড়ি কিনতে।

আর সেই মানুষটা যদি পৃথিবীর মানুষের জন্য এত পরিমান দান না করতেন তবে তিনিই হতেই বিশ্বের সেরা ধনী। এরপরও তিনি বিগত ১ যুগ ধরে রয়েছেন বিশ্ব সেরা ধনীদের তালিকায়। জীবনে তিনি মরতে বসা এমন অনেক কোম্পানীতে বিনিয়োগ করে সেই কোম্পানিকে সবচেয়ে লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করেছেন।

যাই হোক, এখান থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে – গুড প্যারেন্টিং। হাওয়ার্ড বাফেট একজন ধনী ব্যবসায়ী ও নেতা ছিলেন কিন্তু তিনি তার সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন, পরিবারের পরিচয়ে নয় বরং নিজের পরিচয় তৈরি করতে শিখিয়েছেন। সন্তানকে কোন কাজে নিরুৎসাহ না করে পাশে থেকে উৎসাহ দিয়েছেন।

এদেশের নেতা তো দূরের বিষয়, মধ্যম সারির পরিবারের বাবা মা ও কি নিজের বাচ্চাকে এতটা সহযোগীতা কি আসলেই করে? ভাবে আমার বাচ্চা আমার মতই হবে, বয়স হলে এমনিই হবে বা সে তো ছোট এতকিছু কি সে বুঝবে নাকি!

মনে রাখা উচিৎ, ১৩ বছর বয়সে ছয় বোতল কোকাকোলা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা মানুষটা আজ কোকাকোলা কোম্পানিরও ৬.৫২% মালিক।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।