এভাবেই ফিরে আসতে হয়!

যেই মানুষটাকে শুনতে হয়েছে একের পর এক দুয়োধ্বনি। সবাই যাকে নিয়ে ছি ছি করে বেড়াচ্ছে। জাতীয় শত্রুতে পরিণত হয়েছিলো যেই মানুষটা; সেই মানুষটাকে’ই হাজার হাজার মানুষ আবার হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

যার পুরো পৃথিবী বদলে গিয়েছিল শুধু একটি মাত্র ঘটনায়। প্রকাশ্যে হেঁটে বেড়ানোও যার জন্য ছিল ভীষণ কষ্টের। যাকে নিজ দেশের নাগরিক’রাই প্রকাশ্যে ভিলেন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সেই মানুষ’টা আবার জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছে।

ডেভিড ওয়ার্নার; অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সাবেক সহ অধিনায়ক। বল টেম্পারিং এর কারণে যাকে নিষিদ্ধও করা হয়েছিলো। ফিরে আসার পর যেই মাঠে’ই খেলতে গিয়েছেন, শুনেছেন দুয়োধ্বনি। এই অবস্থায়ও সে ভেঙে পড়েনি।

নিজের কাজটা ঠিক মতো করে গিয়েছে। নিজের প্র্যাকটিস জারি রেখেছে। যার কারণে গতকাল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যাডিলেড টেস্টে অপরাজিত ৩৩৫ রানের একটা ইনিংস খেলে এমনকি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের হিসেবে। হয়ত লারা’র রেকর্ডটাও ভেঙে ফেলতে পারতেন, যদি না তাদের অধিনায়ক ইনিংস ঘোষণা করতো।

৩৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ওয়ার্নার যখন মাঠ ছাড়ছে – তখন গ্যালারিতে থাকা প্রতিটা দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানিয়েছে।

এর কোন কিছু’ই হয়ত ডেভিড ওয়ার্নারের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হতো না – যদি সে ওই ঘটনার পর ভেঙে পড়তো। কিন্তু সে ভেঙে পড়েনি; থেমে থাকেনি।

নিজের কাজটা করে গিয়েছে নিরবে। মানুষ তাকে দুয়োধ্বনি দিয়েছে – সেটা নিয়ে সে মাথা ঘামায়’নি। নিজের কাজটা করে গিয়েছে একাগ্র চিত্তে।

দুই দিন আগেও যারা তাকে ছি ছি বলেছে; তারাই এখন তাকে বলছে – এ রিয়েল চ্যাম্পিয়ন।

হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়নরা ভেঙে পড়ে না; থেমে যায় না। চলতি পথে হাজারো প্রতিবন্ধকতা আসবে। মানুষ হাসবে; ছি ছি করবে; কিন্তু এরপরও থেমে যাওয়া যাবে না।

যারা হাজারো প্রতিবন্ধকতার পরও নিজের কাজটা ঠিক মতো করে যায়, তারাই জয়ী হয়।

এই জন্য আপনাকে বিশাল প্রতিভাবান হতে হবে না। বিরাট ভালো ছাত্রও হতে হবে না। স্কুল কলেজে যাদের প্রতিভাবান হিসেবে জানতাম; ফার্স্ট, সেকেন্ড বয় কিংবা ভালো ছাত্র হিসেবে জানতাম; তাদের অনেকেই মাঝ পথে থেমে গিয়েছে। তেমন একটা কিছু করতে পারেনি। অথচ এরা প্রতিভাবান ছিল।

যেই ছেলে পেলে গুলো অতটা ভালো ছাত্র কিংবা প্রতিভাবান ছিল না, কিন্তু লেগে থেকেছে; তারাই এখন নানান জায়গায় সফল হিসবে কাজ করে বেড়াচ্ছে।

তাই লেগে থাকতে হবে। যারা হাল ছেড়ে না দিয়ে লেগে থাকে – তারাই দিন শেষে জয়ী হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।