‘ওয়ার’ নামের প্রলয়ংকারী তুফান

‘দ্য প্রিন্ট’ নামের ভারতীয় একটি গণমাধ্যম লিখেছে – ‘ওয়ার’ দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে হলিউডের মিশন ইম্পসিবল সিরিজের জবাব দিল বলিউড। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক তারান আদর্শ খুব কম ছবিকেই পাঁচে চার দেন। সেটা তিনি দিয়েছেন  সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘ওয়ার’কে। সাথে বলছেন, ‘প্রিয় বক্স অফিস, তুফানের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও!’

ফলাফল, প্রথম দিনেই বলিউড বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে ওয়ার। ধুন্ধুমার অ্যাকশ, হৃতিক রোশন ও টাইগার শ্রফের রসায়নে প্রথম দিনে বক্স অফিসে ছবিটি যা আয় করেছে, সেটা বলিউডের ইতিহাসে আগে আর কোনো ছবিই করতে পারেনি। কোনো সন্দেহ ছাড়াই ছবিটি বলিউডের ইতিহাসের সেরা ব্যবসাসফল ছবির একটি হতে যাচ্ছে।

ছবিটি অবশ্যই টাইগারের জন্য তো বটেই, হৃতিকের জন্যও একটা অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তো কি আছে? ওয়ারকে আক্ষরিক অর্থে তুফান বললেও আসলে কম বলা হয়। আর সেই তুফান হল অ্যাকশনের। আর সেই অ্যাকশনকে গেঁথে দিয়েছে দারুণ একটা গল্প।

আর হৃতিক রোশন যে এ ধরণের ছবিতে নম্বর ওয়ান সেটা আবার প্রমাণিত হয়ে গেল। বরাবরের মতো এবারো তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। এ ধরনের সিনেমায় তাঁর ধারের কাছেও কেউ নেই। ছবিতে হৃতিকের এন্ট্রি দৃশ্যে দর্শকরা যেভাবে আবেগ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সেটা তো ফেসবুকের সৌজন্যে তো দেখেই ফেলেছেন।

যদিও, হৃতিক নয় এই ছবিতে চমকে দিয়েছেন টাইগার। তাঁর যে অভিনয়ের দিক থেকে উন্নতি হয়েছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছেন এই ছবিতে। ছবিতে টাইগারের চরিত্রটি কোনো ভাবেই হৃতিকের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। টাইগার হৃতিকের ছায়ায় না থেকে নিজেকেও ছবির জন্য যোগ্য করে তুলেছেন নৈপুণ্যের সাথেই।

অ্যাকশন ছবির ভক্তদেরকে এই ছবিটি এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত করবে না। মূল দুই চরিত্র কবির লুথরা (হৃতিক) ও খালিদ রাহমানি (টাইগার) অ্যাকশনের অন্যরকম এক থ্রিলিং দুনিয়ায় নিয়ে যাবেন সবাইকে। ছবিতে মুহূর্তে মুহূর্তে আছে টুইস্ট। আশুতোষ রানার চরিত্রটি অন্যরকম রহস্য ছড়ায়।

নায়িকা হিসেবে বানি কাপুর বাড়তি কোনো মাত্রা যোগ করতে পারেননি। যদিও, তার উপস্থিতি কম হওয়াতে সেটা কখনোই বিরক্তিকর হয়ে ওঠেনি তিনি না হয়ে অন্য কেউ হলেও ছবির আবেদন কমতো বা বাড়তো না। আবার কোনো নায়িকা না থাকলেও কোনো যায় আসতো না।

ছবিতে অনেক কিছুই নেই। অহেতুক প্রচলিত কিছু কমেডি সংলাপ দিয়ে লোক হাসানোর অর্থহীন চেষ্টা নেই, রোম্যান্টিক দৃশ্য দেখানোর বাড়তি কোনো চেষ্টা নেই, নেই আবেগের কচকচানি। টুইস্ট, সাসপেন্স, অ্যাকশন আর থ্রিলের সাগরে দর্শকদের একবার ডুবিয়ে দেওয়া গেলে আসলে কাটতি বাড়াতে বাড়তি কিছুর প্রয়োজন পরে না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।