‘স্পেশাল’ সাকিবের অপেক্ষা

সুপার ফোরে ভাল কিছু করতে হলে রানে ফিরতে হবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে, একথা আগেই বলেছিলাম। আর, ফাইনালে উঠতে কিংবা শিরোপা জেতার জন্য হাসতে হবে সাকিব আল হাসানের ব্যাটও।

এই এশিয়া কাপে এখনো পর্যন্ত সাকিবকে অচেনাই লেগেছে। পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য কিছুদিন ব্যাট-বল এর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা একটা কারণ। এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়ানো আঙুলের ইনজুরি তো আছেই।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এই টুর্নামেন্টে সাকিবকে বিশ্রাম দেয়ার পক্ষপাতি ছিলাম। শেষ পর্যন্ত খেলছেনই যখন, আশা করি দারুণ কিছুই করবেন বাকি ম্যাচগুলোতে।

টুর্নামেন্টে প্রথমদিন মাঠে নেমেই লাসিথ যে বলে বোল্ড হয়েছেন তা সামলানো অবশ্যই কঠিন ছিল, কিন্তু অসম্ভব নয়। ঐ আউটেই সাকিবের খেলা থেকে দূরে থাকাজনিত অনভ্যস্ততা ফুঁটে উঠেছে।

তবে সবচেয়ে অবাক করেছে, ভারত আর আফগানিস্তান ম্যাচে সাকিবের আউট হবার ধরণ। সাকিব বরাবরই ‘স্মার্ট’ ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। সেই সাকিবকেই জাদেজার বলে ধোনিদের পাতা ফাঁদে ওভাবে পা দিতে দেখ ছিল চরম বিস্ময়কর।

আর, পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসম্ভব এক সিংগেল নিতে গিয়ে রান আউট হওয়া ছিল আরো অকল্পনীয়। সাকিবের কাণ্ড দেখে মুশফিকের হতভম্ব চেহারাই বলে দেয় এমন ‘স্কুলবয় মিসটেক’ কতখানি কল্পনাতীত ছিল সাকিবের কাছ থেকে। তবে, পরে ফিল্ডিং এর সময় দুর্দান্ত এক রান আউট করে কিছুটা মিটিয়েছেন মনের জ্বালা!

আমি বরাবরই সাকিবের কথায় বিশ্বাস রাখি। কারণ, এই মানুষটা অধিকাংশ কথাই ব্যাট-বল দিয়ে বলেন। মুখে যেটুকু বলেন, সেটুকুও মাঠে নিজেই করে দেখান। তাই, আফগানিস্তান ম্যাচের আগে যখন তিনি দাবি করেছিলেন যে এই বাংলাদেশ দল আফগানিস্তানের চেয়ে ভাল তখনি ধরে নিয়েছিলাম ব্যাটে-বলে দারুণ কিছু করতে চলেছেন সাকিব। যেমনটি করেছিলেন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কিংবা খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি ভুতুড়ে রান আউটের কারণে। বল হাতেও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন তা বলা যাবে না।

তাই এই টুর্নামেন্টে সাকিবের কাছ থেকে স্পেশাল কিছু এখনো পাওনা আছে বলেই আমার বিশ্বাস।

রিয়াদ, কায়েস, মুস্তাফিজদের বিশেষ ধন্যবাদ এই কারণেই। তারা সাকিবের মুখ রেখেছেন। এবার সাকিবের পালা বাংলাদেশের মুখ রক্ষার।

হ্যালো ওয়াহাব রিয়াজের দেশ পাকিস্তান। কাল দেখা হবে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।