১৭ বছরের অচলায়তন ভেঙেছিল যে তামিল ছবি

১৭ বছর পর কোন তামিল সিনেমা অস্কারের জন্য অফিসিয়াল সিলেক্ট হয়েছিলো। এর আগে লাস্ট ২০০০ সালে কমল হাসানের (সাথে শাহরুখ খানও ছিলো। ইয়ে মানে, চান্স পেলেই শাহরুখের আগের করা ভালো সিনেমা গুলোর কথা বলে দেই। এখন তো আর করে না!) ‘হে রাম’ সিনেমাটি অস্কারে পাঠিয়েছিলো ভারত।

২০১৭ সালে ভারত থেকে অস্কারের ফরেন ফিল্ম ক্যাটাগরিতে ২৯ টি হাই প্রোফাইল সিনেমা গুলো কে পেছনে ফেলে, যে সিনেমা সিলেক্ট হয়েছিলো তার নাম ভিসারানাই। ‘ভিসারানাই’ মানে অনুসন্ধান।

সিনেমাটি মূলত পুলিশের বর্বরতা, অবিচার, দুর্নীতি করে কিভাবে নিরপরাধ মানুষ গুলো কে অপরাধী বানিয়ে দেয়া হয় তারই উপাখ্যান। এমনই এক বর্বরতার স্বীকার একজন অটো চালক (এম চন্দ্রকুমার ওরফে অটো চন্দ্রান) কোনভাবে বেঁচে ফিরে লিখে ফেলেন উপন্যাস ‘লক আপ’। তারই লেখা উপন্যাস থেকে চিত্রনাট্য লিখে সিনেমা বানান পরিচালক ভেট্রিমারান।

ভেট্রির সিনেমায় সব সময় মাটির কাছাকাছি থাকা একটা গন্ধ পাওয়া যায়। খুব সম্ভবত অন্য পরিচালকের কাজ থেকে এটাই সবচেয়ে বেশি আলাদা করে তাকে। সিনেমাগুলোতে খুব আহামরি স্টারকাস্ট, বাজেট, হাইফাই ভিএফএক্স এসব কিছুই থাকে না। তবে যেটা থাকে সেটা হলো একটা সুন্দর গল্পের উপস্থাপন, যেনো এ গল্প তো আমার আশেপাশেই। একটা নেইবারহুড ফিল পাওয়া যায় আর সাথে দুর্দান্ত চিত্রনাট্য। এই দুইয়ের চমৎকার মিশেলে তৈরি হয় দারুণ কিছু সিনেমা।

এর সাথে যোগ হয়েছে ধানুশ। ভেট্রির সাথে ধানুশের কম্বো কেমন যেনো সবসময়ই সোনায় সোহাগা টাইপ হয়ে যায়। সেই আদুকালাম থেকে শুরু করে লাস্ট অসুরান পর্যন্ত। নাহ, এই সিনেমায় ধানুশ অভিনয় করেননি, আছেন প্রযোজক হিসেবে। সিনেমা দেখার আগেই জানতাম এটা ধানুশ প্রযোজনা করেছে কিন্তু ‘লাইকা’ সাথে ছিলো এটা জানতাম না। দেখে অবাকই হলেও সিনেমা দেখার পর সে ধারনা পাল্টে গেছে।

সামুথিরাকানি সেরা সহশিল্পী হিসেবে জাতীয় পেলেও আমার কাছে আফজাল চরিত্র করা এস রন্তাসোয়ামী ছেলেটার অভিনয় দারুণ লেগেছে। তবে এতে তার ওমন অসহায় চেহারাও একটা মেজর প্রভাব রেখেছে অভিনয়ে। পান্ডি চরিত্রে দীনেশ রবি সহ মাত্র মিনিট খানেকের জন্য আসা আনন্দীও যতটুকু স্ক্রীনে ছিলেন, ঢেলে অভিনয় করে গেছেন। তাদের এই অভিনয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিলো জিভি প্রকাশের মিউজিক।

জিভি লোকটা খুব সম্ভবত বুকের ভেতর হাহাকার তৈরি করে এমন মিউজিক ভালো তৈরি করতে পারেন। রিসেন্ট অসুরান সিনেমাতেও ভালো কাজ দেখিয়েছেন। আদুকালামে থাকা কিশোর তে এই সিনেমার কালার কারেকশন সহ সম্পাদনার দায়িত্বে থেকে জাতিয় পুরস্কার বাগিয়ে নেন।

ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল সিলেক্টেড, সেরা জাতীয় সিনেমা, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার সহ অনেক সম্মানে ভূষিত হওয়া এই সিনেমা আসলে পুরষ্কারের চেয়ে মানবিকতার গল্পই বেশি বলে যায়। কিভাবে মানুষ নিপীড়িত হয়, আইনের কালো দিক গুলোতে ফাঁসানো হয়? পলিটিক্যাল, জাতিগত, রাজ্যগত সহ নানা সমস্যা তুলে ধরার সিনেমার নাম ‘ভিসারানাই’। এতো কিছুর মধ্যেও এই সিনেমা বন্ধুত্বের গল্প, ভালোবাসার গল্পও বলে যায় সমানতালে। এই দুই বিপরীত তাল লয়ের গল্প সমান্তরাল ভাবে দেখতে দেখতে কখন যে চোখের কোনে একটু পানি চিকচিক করছে, টেরও পাবেন না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।