বিরাট বনাম স্মিথ: কে এগিয়ে!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ১৬ মাস পর সাদা পোশাকে মাঠে নামেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ২০১৮ সালের মার্চে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফেরা স্মিথ নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখেন দুটি শতক হাকানোর মাধ্যমে।

প্রথম ইনিংসে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলের মধ্যে তার ১৪৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানের ইনিংসটি জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ মিশন শুরু করার পেছনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। এমন বীরত্বমাখা প্রত্যাবর্তনে বর্তমানে সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছেন স্টিভ স্মিথ।

প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি খোদ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান প্রশিক্ষক জাস্টিন ল্যাঙ্গারও। এজবাস্টনে টানা দুটি শতক হাকানোর পর স্টিভ স্মিথকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির সমান বলে মনে করছেন তিনি।

ল্যাঙ্গারের মতে এর পুরো কৃতিত্ব স্মিথের। কারণ স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে নিজেকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানে রূপান্তর করেন তিনি। ল্যাঙ্গার বলেন, ‘স্মিথ যখন লেগ স্পিনার হিসেবে প্রথম দলে ঢুকে তখন আমি তার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলাম। তারপর সে লেগ স্পিন থেকে বেরিয়ে আসে এই ভেবে যে, সে লেগস্পিনার হতে চায় না। সিদ্ধান্ত নেয় সে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হতে চায়। তারপর সে নিজেকে রূপান্তরিত করে এবং বর্তমানে বিরাটের সাথে সেও বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। এটা একটি দারুণ  কৃতিত্ব তাঁর। গত গ্রীষ্মের সময় আমি বলেছিলাম যে বিরাট কোহলি আমার দেখা সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান। তবে এখন বলতেই হচ্ছে স্মিথ অন্য পর্যায়ের।’

কোহলি বর্তমানে আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যান র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছেন এবং স্মিথ তার সর্বশেষ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে তৃতীয় অবস্থানে ওঠে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় কুখ্যাত বল টেম্পারিং কান্ডের জন্য এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই টানা দুই শতক হাকিয়ে সোমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫১ রানের দুর্দান্ত জয় পেতে অস্ট্রেলিয়াকে সাহায্য করেন স্টিভ স্মিথ। ল্যাঙ্গারের মতে এজাবাস্টনে স্মিথের পারফরম্যান্স তার মানসিক দৃঢ়তা ও অসাধারণ খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দলে, বিভিন্ন যুগে দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে। তবে স্মিথের মত একজন যার গড় কিনা ষাটের ওপরে এবং সমস্ত চাপের মধ্যেও সে যেভাবে ব্যাটিং করেছে সেটা কেবল তার দারুণ দক্ষতাই নয় বরং বিশাল চরিত্র, প্রচুর মনোবল, অত্যন্ত সাহসী, অবিশ্বাস্য মনোঃসংযোগ, অবিশ্বাস্য শারীরিক সহনশক্তি, অবিশ্বাস্য মানসিক মনোবলও যেগুলো একজন অসাধারণ খেলোয়াড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

প্রাক্তন বামহাতি এই ওপেনার স্মিথকে তাঁর দলের সমস্যা সমাধানকারী বলে অভিহিত করেছেন, যিনি শুধু দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। ল্যাঙ্গার বলেন, ‘আপনি তাকে নেটে নিয়ে গেলে আক্ষরিক অর্থেই অনুভব করবেন যে তাকে আপনি আউট করতে পারবেন না এবং তার মত এমন আর কোন ব্যাটসম্যানও নেই। আপনি মিলিয়ন বল ছুড়ে সে যাত্রা শেষ করবেন এবং বলার মত তেমন কিছুই থাকবে না আপনার।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি মনে করি ইংল্যান্ডকে আপনার জিজ্ঞাসা করতে হবে যে তারা স্মিথের সম্পর্কে কেমন অনুভব করেন এবং তার জন্য তাদের কাছে কিছু আকর্ষণীয় কৌশল ছিল। তাদের খুবই সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য ছিল যা আমি এর আগে কখনও দেখিনি। নিঃসন্দেহে তাদের প্রস্তুত করা একটি কৌশল ছিল এবং ‘ট্রেভর বেলিস’ স্মিথকে শৈশব থেকেই প্রত্যক্ষ করে আসছেন। তারা স্মিথকে আরও মনযোগের সাথে অধ্যয়ন করতে পারত কিন্তু স্মিথেরও একটি নকশা আছে। আর তিনিই এই খেলায় সেরা সমস্যা সমাধানকারী।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।