জির্ণ কুটিরের অন্ধকার ছাপিয়ে সাফল্যের রুপালি আলো

পৃথিবীর অনেক কোণা থেকে এসে অনেকেই অভিনেতা হতে চায়। কিন্তু, খুব কম মানুষই সেই স্বপ্নের প্রতি একাগ্র থেকে পরিশ্রম করে সফল হতে পারেন। আর বলিউডে তো প্রতিযোগীতার শেষ নেই।

এখানে অধিকাংশই আসেন ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। সিনেমার অলিগলি, কোথায় গেলে কাজ পাবেন, কোথায় পাবেন না – এসব জেনে বুঝেই তাঁরা আসেন। আর স্টার কিড হলে তো কথাই নেই। তাঁদের এমন সব যোগাযোগ থাকে, যাতে খুব ঝক্কি ছাড়াই কাজ পান তারা।

তবে, এর বাইরে থেকে যারা আসেন তাঁদের পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। সাফল্য তো বটেই, ব্রেক পেতেই তাঁদের অসংখ্য কঠিন সিঁড়ি, অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়। এমনই একজন অভিনেতা হলেন ভিকি কৌশল।

তার জীবনের গল্পটাও  সিনেমার চেয়ে কম কিছু নয়। বস্তির আধুনিক সংস্করণ ‘চওল’-এ বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনায় মনোযোগ ছিল। ইঞ্জিনিয়ার বনে গিয়েছিলেন। কিন্তু, স্বপ্ন দেখতেন অভিনেতা হওয়ার। তাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বড় অংকের চাকরী ছেড়েছেন।

ছুটেছেন নিজের স্বপ্নের পেছনে। ‘মাসান’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়ায়। এর পরের দু’টো সিনেমা ভাল ব্যবসা করতে না পারলেও ভিকি কৌশলের প্রত্যবর্তন হয়েছে মনে ররাখার মতই। তাই তো তিনি এখন রাজকুমার হিরানি, করণ জোহর কিংবা অনুরাগ কাশ্যপের মত পরিচালকদের পছন্দের শিল্পী।

১৯৮৮ সালের ১৬ মে জন্ম হয় ভিকি কৌশলের। শৈশব কাটে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে। ভিকির বাবা বিখ্যাত স্টান্ট ডিরেক্টর শ্যাম কৌশল। কাজ খুঁজতে মুম্বাই এসেছিলেন শ্যাম, তখন পরিবারও সাথে নিয়ে আসেন। কাজ পেয়ে থিতু হয়ে যান স্বপ্নের নগরী মুম্বাইয়ে।

শৈশব থেকেই অভিনয়ে ঝোঁক ছিল ভিকির। স্কুলে সব সময় মঞ্চে পারফরম করতেন, পুরস্কার পেতেন। ২০০৯ সালে তিনি রাজীব গান্ধী ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইলেক্ট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশনে স্নাতক শেষ করেন। তখন বিশাল বেতনের চাকরিও জুটে যায়। কিন্তু, সেই সুযোগ তিনি ছেড়ে দেন।

কারণ সিনেমাই যে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। ‘লাভ সুভ তে চিকেন খোড়ানা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালকের কাজ করেন। ‘গ্যাঙস অব ওয়াসিপুর’-এও তিনি ছিলেন সহকারী পরিচালক। সেখান থেকে আসে অভিনয়ের সুযোগ। অভিষেক সিনেমা হওয়ার কথা ছিল ‘জুবান’। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তি পেতে দেরী হয়।

ভিকির অভিষেক সিনেমা তাই ‘মাসান’। অনুরাগ কাশ্যপের ‘গ্যাঙস অব ওয়াসিপুর’-এর সেটে ছিলেন ভিকি। তখনই তাঁকে দেখে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন নীরাজ ঘেয়ান। সিনেমায় যতই গ্যাঙস্টারদের বিপক্ষে ভিকিকে লড়াই করতে দেখা যাক না কেন, বাস্তব জীবনে তিনি খুব ভয় পান গভীর জলাধারকে!

‘রাজি’ সিনেমায় তিনি আলিয়া ভাটের সাথে ‘ইকবাল’ চরিত্রে কাজ করেন। সিনেমাটি ১০০-কোটির ওপর ব্যবসা করে। সঞ্জয় দত্তর বায়োপিক ‘সাঞ্জু’-তে তাঁকে দেখা গেছে সাঞ্জু বাবা’র প্রিয় বন্ধুর ভূমিকায়। ২০১৯ সালে উরি দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সেরাদের কাতারে। ছবিটি বছরের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল ছবি।

বড় পর্দা ছাড়াও কাজ করেছেন ওয়েব সিরিজ ‘লাভ পার স্কয়ার ফুট’-এ। করণ জোহরের পরিচালনায় কাজ করার স্বপ্ন ছিল। ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর সৌজন্যে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মজার ব্যাপার হল ভিকির ভাই সানি কৌশলও একজন অভিনেতা।

স্কুলে থাকতে ভিকি খুব রোগা ছিলেন। তবে, এখন তিনি ফিটনেস নিয়ে খুব সচেতন। শরীরটার কেমন রূপ দাঁড়িয়েছে সেটা তাঁর স্যোশাল মিডিয়া ঘাটলেই বোঝা যায়। যার প্রিয় অভিনেতা খোদ হৃতিক রোশন তিনি শরীর নিয়ে সচেতন তো হবেনই।

– দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।