ভাইস: আমেরিকার রাজনীতি, ডিক চেনি ও ক্রিস্টিয়ান বেল

হলিউডে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই যে মুভিগুলো মুক্তি পায় তাতে মার্কিন মুল্লুকের রাজনীতির অলিগলির বিষয়টা খুব একটা যে উঠে আসে এমনটা নয়। আবার একেবারে অমূলক হয় তেমনটাও না। তবে হলিউড কখনোই রাজনীতি বিমূখ ছিলো সেটাও নয়। তাদের মুভিতেও রাজনীতির ভেতরের কুটিলতা, জটিলতা , রাষ্ট্রনীতির ‘হিংটিংছট’ অনেক সময়ই উঠে এসেছে অনেক মুভিতে। এই ইন্ডাষ্ট্রি থেকে বাস্তবের রাজনীতিবিদদের বায়োগ্রাফিমুলক মুভিও তৈরী হয়েছে অনেক।

সাম্প্রতিক সময়ের অন্তত তিনটি ছবি হলিউডে এনেছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প-বিরোধী জোয়ার থেকে। যাইহোক ‘ভাইস’ মুভিটি কেনো অ্যামেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ‘হোয়াইট হাউস’-কে নতুনভাবে চেনায় তা নিয়ে সংক্ষেপে দুটো কথা বলবো।

সবার পূর্বে অন্তত এটুকু বলি ‘ভাইস’ মুভিতে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির চরিত্রে অভিনয় যিনি করেছেন তার বিষয়টা। কে করেছেন? ক্রিস্টিয়ান বেল নামের সেই অসাধারণ অভিনেতা যি্নি নিজের চরিত্রে একাত্ম হবার জন্য নিজেকে নিয়ে অবলীলায় ভাঙচুর করতে পারেন।

কখনো বা ওজন বাড়িয়ে কখনো বা ওজন কমিয়ে এমন সব অসাধারণ কাজ তিনি তার এই নাতিদীর্ঘ ক্যারিয়ারে করেছেন যে, ‘ভাইস’ মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি আছেন শুনে অন্তত প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের চরিত্রের জন্য বেল নিজের চেহারা-সুরুতে কি কি পরিবর্তন এনেছেন তা দেখার আগ্রহ থেকেও সবাই মুভিটা একবার হলেও দেখতে চাইবে। আমিও তো আর সবার মতোই। বেলকে সাবেক একজন বয়স্ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রূপে দেখার আগ্রহ আমারও সমান রয়েছে।

‘ভাইস’ মুভিটি রিচার্ড ব্রুস চেনির বায়োগ্রাফি। যিনি ডিক চেনি নামে সবার কাছে সুপরিচিত। ডিক চেনি একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী যিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ তথা জুনিয়র বুশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদে কাজ করেছেন। এই জুটির সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তুান ও ইরাক দখল ও অভিযানের কীর্তি গড়ে আমেরিকা। লাদেন ও টুইন টাওয়ারে হামলার ৯/১১ ইস্যুতে সারা মধ্যপ্রাচ্যে তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ নিমূল অভিযানের নামে পেট্রোল পাওয়ার দখলের বিষয়টা এখন সর্বজনবিদিত।

ইরাক দখল কিংবা সাদ্দামকে উৎখাত ও মৃত্যূদন্ড এসবই বুশ ও চেনির প্রশাসনের সময়কারই আলোচিত ঘটনা। বলা হয়ে থাকে বুশের ডানহাত হিসেবে এসব পরিকল্পনার মাষ্টার মেকার ও অন্যতম বাস্তবায়নকারী ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট চেনি। আর এহেন চেনিকে নিয়ে মুভি হলো ‘ভাইস’ আর তার চরিত্রে অভিনয় করেছন বেল!

একটা মুভি দেখার জন্য আর কি রসায়ন চাই?

মুভিতে ডব্লিউ বুশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ব্যাপক ক্ষমতা দখল ও আধিপত্যবাদের চেষ্টার ক্ষেত্রে ডিক চেনির অসাধারণ আমলাতান্ত্রিক অর্ন্তদৃষ্টিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিষয়টা আমরা বিশ্ববাসিী এখন অনুভব করি এবং সেই সময়ের কার্য্যক্রমকে নতুনভাবে মুল্যায়ন করার সুযোগ পাই। গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মুভিটি মুক্তি পায়।

‘ভাইস’ মুভির লেখক ও পরিচালক হলেন অ্যাডমা ম্যাককে। অভিনয়ে ডিক চেনির চরিত্রে ক্রিস্টিয়ান বেল ছাড়াও অ্যালেক্স ম্যাকনিকল ও এইডান গেইল তরুন বয়সের ডিক চেনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অ্যামি অ্যাডামস করেছেন লিন চেনির চরিত্রে রুপায়ন। জর্জ ডব্লিউ বুশের চরিত্রে স্যাম রকওয়েল ও ডোনাল্ড রামসফেল্ডের চরিত্রে স্টিভ ক্যারেল অভিনয় করেছেন।

বায়োগ্রাফি ও ড্রামা জনরার মুভিটির বর্তমান আইএমডিবি রেটিং – ৭.২/১০। জার্মান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে মুভিটির মূল্যায়নে যা বলেছে তা এখানে একটু উল্ল্যেখ করা যেতে পারে।

  • ভাইস প্রেসিডেন্টের গুরুত্ব

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ডানহাত’ বলে পরিচিত তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি৷ চেনি’র জীবন নিয়ে তৈরি ‘ভাইস’ ছবিটিতে ডিক চেনির ভূমিকায় দেখা যায় গোল্ডেন গ্লোবজয়ী অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল-কে৷ এই ছবি শুধু বুশের আমলের অ্যামেরিকাকে তুলে ধরে না, বরং বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরও সমালোচনা করে৷

  • লোকচক্ষুর আড়াল থেকে

পরিচালক ম্যাককে’র মতে, হোয়াইট হাউস তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের কথায় কম, আর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির আদেশে চলতো বেশি৷ ম্যাককে তাই এই মুভিতে সেই দৃষ্টিকোণটাই হাইলাইটস করার চেষ্টা করেছেন। ‘ভাইস’ ছবিতে রয়েছে বুশ-জমানার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ও তার পেছনে চেনির অবদানের অনেক অজানা তথ্য৷

  • আসল ‘পাওয়ার কাপল

অনেকেই মনে করেন, মার্কিন রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা রাখেন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী বা ফার্স্ট লেডি৷ ‘ভাইস’ ছবি এই বিশ্বাস ভাঙতে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরে ডিক চেনি ও তাঁর স্ত্রী লিন-এর কাহিনি, যাদের প্রভাবে গোটা ওয়াশিংটনের রাজনীতি এক সময় নির্ধারিত হতো৷ বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স-কে ডিক চেনির সঙ্গে তুলনা করেন অনেকে৷

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।