ভ্যাটিকান সিটি: ছোট্ট দেশের বড় বিস্ময়

ভ্যাটিকান সিটি – নামটা শুনলেই প্রথমে যে কথাটা মাথায় আসে তা হল এটা পোপের দেশ, পোপের শহর। আরেকটি প্রচলিত তথ্য হল এটাই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। ইতালির রোম শহরের ভেতরে এটা আরেকটি দেশ। আয়তন মাত্র ১১০ একর। এর কোনোটাই ভুল নয়। তবে, দেশটির ব্যাপারে অজানা আরো অধ্যায় আছে।

  • অপরাধের দেশ

ভ্যাটিকান সিটিতে জনসংখ্যার তুলনায় অপরাধ অনেক বেশি। এর চেয়ে বেশি অপরাধ হয় কেবল সাও পাওলো, লাগোস ও ব্রঙ্কসে। ২০০৬ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ৪৯২। আর একই সাথে রেজিস্টারকৃত অপরাধ কর্মের সংখ্যা ৮২৭ টি। মানে প্রত্যেক নাগরিগ ১.৬৮ টি অপরাধের সাথে জড়িত।

  • ওয়াইন আসক্তি

ভ্যাটিকান শীর্ষ পাঁচটি ওয়াইন আসক্ত দেশের একটি। বাকি চারটি হল অ্যান্ডোরা, ক্রয়োশিয়া, স্লোভেনিয়া ও ফ্রান্স। প্রতি বছর একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ দেশটিতে কমপক্ষে ৫৪.২৬ লিটার ওয়াইন পান করেন।

  • ক্ষুদ্র রেলওয়ে

ভ্যাটিকানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রেলওয়ে অবস্থিত। মাত্র ৩০০ মিটার রেল লাইন বিশিষ্ট এই রেলওয়ের নাম সিটা ডেল ভ্যাটিক্যানো। কোনো যাত্রী নয়, মূলত মালামাল আনা-নেওয়ায় এটা ব্যবহৃত হয়।

  • ভ্রমণ পিপাসুদের তীর্থস্থান

জনসংখ্যার তুলনায় এখানে টুরিস্ট বেশি আসে। জনসংখ্যা যেখানে বর্তমানে ৮০০-এর আশেপাশে সেখান প্রতিবছর ভ্রমণ করতে আসে সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ। কারণ, ধর্মীয়, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভ্যাটিক্যান বেশ সমৃদ্ধশালী।

  • জেমস বন্ড

২০০২ সালের বন্ড সিনেমা ‘স্কাইফল’-এর প্রযোজক কে ছিল জানেন? খোদ ভ্যাটিকান সিটি।

  • বিবাহ বিচ্ছেদ নিষিদ্ধ

ভ্যাটিকানে চাইলেই কেউ বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবেন না। কারণ, বিচ্ছেদের আপিল করলেও কোনোটাই আমলে নেওয়া হয় না। এমন আজব নিয়ম আর আছে কেবল ফিলিপাইনে।

  • নিজস্ব ইউরো

২০০০ সালে ইতালির সাথে ভ্যাটিকানও ইউরো মূদ্রা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে, ভ্যাটিকানের ইউরো একটু আলাদা। সেখানে পোপের ছবি খোঁদাই করা থাকে। এই মূদ্রা ভ্যাটিকান ছাড়াও ইতালিতে চলে।

  • ভ্যাটিকান আর্মি

তাঁদের অফিশিয়াল নাম ‘পটেনশিয়াল সুইস আর্মি’। সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৩৫। পোশাকটা যথেষ্ট ভুতুড়ে হলেও এই বাহিনীতে যোগ দিতে যথেষ্ট নিয়ম কানুন মানতে হয়। বয়স সীমা ১৯ থেকে ৩০। প্রত্যেকের উচ্চতা হতে হয় কমপক্ষে পাঁচ ফিট সাড়ে আট ইঞ্চি। ক্যাথলিক হতে হয়, এর চেয়েও বড় ব্যাপার এদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ। ৫০০-এর বেশি বছর ধরে এই বাহিনী পোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

  • ড্রেসকোড

ভ্যাটিকানে গেলে আপনি যেমন তেমন পোশাক পরিধান করতে পারবেন না। বিশেষ করে হাফ প্যান্ট বা শর্ট স্কার্টে তাদের বিধিনিষেধ আছে। বেশি চামড়া দেখালে ওরা দেশ থেকে বের করেও দিতে পারে।

  • পাসপোর্ট স্ট্যাম্প

ভ্যাটিকানের নিজস্ব কোনো পাসপোর্ট স্ট্যাম্প নেই। মানে ওই দেশে বেড়াতে গেলে ওরা আপনার পাসপোর্টে কোনো স্ট্যাম্প বা সিল লাগিয়ে দেবে না। অর্থকড়ি দিলেও না। এমন নিয়ম অ্যান্ডোরাতেও আছে।

– দ্য টেলিগ্রাফ, ব্রাইট সাইড ও হিস্টোরি.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।