দে নেক্সট সুপারস্টার

সময় ২০১২ সাল। স্বনামখ্যাত প্রযোজক ও নির্মাতা করন জোহর তাঁর তারুণ্য নির্ভর সিনেমা ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ এ অভিষেক ঘটান করান তিন তরুন তুর্কিকে। সেই তিনজনের দু’জন হলেন মহেশ ভাট কন্যা আলিয়া ভাট ও নিজের একজন সহকারী পরিচালক সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকে।

এই দু’জনের বাইরে ‘রোহান’ চরিত্রে নির্বাচন করেছিলেন তাঁরই আরেকজন সহকারী পরিচালককে। তাঁর অন্য পরিচয় সে একজন জনপ্রিয় নির্মাতার সন্তান। প্রথম ছবিতে সেভাবে হয়তো প্রশংসা অর্জন করতে পারেননি, তবে ধীরে ধীরে একের পর এক ছবিতে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

তিনি আজ অবধি ফ্লপের দেখা পাননি। বরং বিবেচিত হচ্ছেন ‘নেক্সট সুপারস্টার’ নামে। তিনি এই মুহুর্তে বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন ‘বরুণ ধাওয়ান’।

বাবা বলিউডের সবচেয়ে বেশি সিনেমা নির্মান করা জনপ্রিয় নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ান। যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর করন জোহরের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

এই করন জোহর তাঁর ক্যারিয়ার গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছাড়াও জনপ্রিয় সিরিজ ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’ ও ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’র প্রযোজক হচ্ছেন করন জোহর। সামনে কাজ করছেন তাঁরই তারকাবহুল ছবি ‘কলঙ্ক’তে।

বাবা ডেভিড ধাওয়ানের সাথে প্রথম কাজ করেন ‘ম্যায় তেরা হিরো’ ছবিতে। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা। গত বছর ‘জড়ুয়া ২’ দিয়ে আবার বাবার ছবিতে কাজ করেন। এটা ছিল গত বছরের অন্যতম সুপারহিট সিনেমা। বাবার সবচেয়ে প্রিয় নায়ক ছিলেন সালমান খান ও গোবিন্দ, ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় বরুনের মাঝেও এই দু’জনের ছাপ রয়েছে।

২০১৫ সালে নৃত্যশিল্পী সুরেশ মুকুন্দের জীবনীর উপর নির্ভর করে নির্মিত ছবি ‘এবিসিডি ২’ তে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। সুপারহিট এই ছবিতে বরুণ ছিলেন প্রধান সম্পদ। অভিনয় এবং নাচ দুইটাতেই তিনি বেশ নজর কাড়েন। এছাড়া অভিনয় করেছেন দিলওয়ালে, ঢিশুম সিনেমায়।

বরুণের ক্যারিয়ারে আলাদা করে বলতে হয় দুটি সিনেমার কথা, ব্যবসায়িক সাফল্য হয়তো সেভাবে আসেনি, তবে তিনি অভিনয়ে দর্শকদের মন ভরিয়েছেন। বিশেষ করে যারা ‘মাসালা’ ছবি পছন্দ করেন তাদের প্রিয় পাত্র বরুণ।

আলাদা করে বলতে হয় ‘বদলাপুর’-এর কথা। একজন প্রতিশোধকামীর চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে নিজেকে ভেঙেছিলেন। আরেকটি সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘অক্টোবর’। সুজিত সরকারের এই ছবিতে নিজেকে দুর্দান্তভাবে পাল্টছেন বরুণ। পুরস্কার পাবার মত অভিনয় করেছেন।

সামনে মুক্তি পাবে তাঁর ‘সুই ধাগা’, বাণিজ্যিকতার শীর্ষ থেকেও যে নিজেকে এইভাবে ভাঙার যে চেষ্টা করেছেন এই ছবিতে,তাঁর জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসার প্রাপ্য। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফের বিপরীতে একটি নাচ ভিত্তিক সিনেমায়। বোঝাই যাচ্ছে ভবিষ্যতের দিন গুলিতে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করবেন।

বাবা ডেভিড ধাওয়ান নি:সন্দেহে খুবই ভাগ্যবান। তিনি যেমন ধরণের সিনেমা বানান তাঁর সাথে খুব ভালভাবেই মানিয়ে যান বরুণ ধাওয়ান। মনে হয় চরিত্রগুলো তাঁকে ভেবেই বানানো হয়েছে। এই না হলে বাপ কা বেটা!

বরুণ ধাওয়ানকে তরুণ মনে হলেও আসলে কিন্তু তিনি ততটাও তরুণ না। ১৯৮৭ সালের ২৪ এপ্রিল জন্ম। সেই হিসেবে বয়স ৩১ বছর। অভিনেতা হিসেবে এখন তাঁর আরো এক ধাপ ওপরে ওঠার সময়। স্রেফ বিনোদনের খোড়াক যোগানোর সাথে সাথে এবার পুরস্কার জেতার দিকেও মন দিতে হবে। আর সেটা হলেই, এই ভদ্রলোককে আটকানো কঠিন!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।