বরুণ ধাওয়ান: টুপি খোলা সম্মান প্রাপ্য তাঁর

বরুণ ধাওয়ান – নামটা শুনলেই এক সুদর্শন তরুণের চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব, সুঠাম শরীর, দুর্দান্ত কমিক সেন্স, সদা হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি – সব মিলিয়ে তিনি অনন্য। কিন্তু, যখন অভিনয়ের প্রশ্ন আসে, তখন অনেক সমালোচকই নাক সিঁটকায়। হাসি-তামাশা আর সিক্স প্যাকের আড়ালে বরুণের সিরিয়াসনেসটা যেন কারো চোখেই পড়ে না।

যদিও অভিনেতা বরুণের প্রতি অনীহা একেবারেই অমূলক। সময়ের সেরা অভিনেতা না হলেও, তিনি বেশ সব্যসাচী একজন অভিনেতা। ২০১৭ সালে করলেন ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’ আর ‘জুড়ুয়া ২’, ২০১৮-তে করলেন ‘অক্টোবর’ ও ‘সুই ধাগা’, ২০১৯-এ ‘কলংক’ – কোনো চরিত্রই একঘেঁয়ে নয়, কোনোটাই অন্য আরেকটার মত নয়। তাহলে, ‘মসলাদার সব ছবি করেন’ – এই তকমাটা কেন তাঁর ক্ষেত্রে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হবে।

এই প্রশ্নে কবি নীরব। বরুণ নিজেও অবশ্য বরাবরই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসেন। বলেন, ‘সাফল্য আর ব্যর্থতা যেকোনো পেশাতেই আসে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি বিশ্বাস করি, খারাপ কিছু ঘটলে তার পরেই আপনার জন্য ইতিবাচক কিছু অপেক্ষা করে। আমি ব্যর্থতাকে কখনো ভয় পাই না। তবে, প্রতিটা সিনেমাই একেকটা চ্যালেঞ্জ। প্রতিটা প্রোজেক্টের জন্যই আমাকে সমানভাবে পরিশ্রম করতে হয়। প্রতিনিয়ত আমি নিজের কাজটাকে আরো বেশি ভাল ভাবে করতে চাই।’ বোঝাই যাচ্ছে, বরুণের ডেডিকেশনের কোনো অভাব নেই!

আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে স্টার-কিড হওয়ার পরও এতটা ডেডিকেশন সচরাচর দেখা যায় না। আর বরুণ যে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন, তাতে তার গোট দশেক ফ্লপ সিনেমা করলেও নতুন সিনেমা পেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরুণ বলিউডের ‘হিট মেশিন’ খ্যাত স্বয়ং ডেভিড ধাওয়ানের ছেলে।

যদিও, তিনি পিতার গুনে নয়, নিজের গুনেই বলিউডে জায়গা করেছেন। ‘লাইফ অব আ পাই’ ও ‘ধোবি ঘাট’ – দু’টো ছবিতে অডিশন দেন, দু’টোতেই ব্যর্থ হন। ‘মাই নেম ইজ খান’ সিনেমায় তিনি করন জোহরের অধীনে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সাথে সহকারী পরিচালকের ভূমিকায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ২০১২ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ সিনেমায় ব্রেক পান। এরপর আর কখনোই পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

১৯৮৭ সালে যখন স্ত্রী করুনার কোলজুড়ে বড় ছেলে বরুণের জন্ম হয় ডেভিড ধাওয়ান কি বুঝতে পেরেছিলেন, ঘরে বলিউডের ‘নেক্সট সুপারস্টার’-এর জন্ম হয়েছে? বাবা ডেভিড ধাওয়ান নি:সন্দেহে খুবই ভাগ্যবান। তিনি যেমন ধরণের সিনেমা বানান তাঁর সাথে খুব ভালভাবেই মানিয়ে যান বরুণ ধাওয়ান। মনে হয় চরিত্রগুলো তাঁকে ভেবেই বানানো হয়েছে। কেবল বাবার ছবিগুলো করলেই দিব্যি বলিউডে লম্বা সময়ের জন্য টিকে যাবেন বরুণ।

কিন্তু তিনি ভিন্ন ধাঁচে গড়া। ঝুঁকি নিতে ভাল বাসেন, দর্শকদের সাথে সংযোগ গড়াতেই আনন্দ তাঁর। তিনি বলেন, ‘আপনি যত বড় ঝুঁকি নিতে পারবেন, ততই আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে। যত বেশি অভিজ্ঞ হবেন, তত বেশি আপনি দর্শকদের কাছাকাছি আসতে পারবেন।’

ঝুঁকিগুলো ‘হিট’ হয়ে ফুঁটলে হয়তো আগামী প্রজন্মের সেরাই হবেন তিনি। তখন, বাকিদের ঘুম যেমন হারাম হবে, সমালোচকরাও নড়েচড়ে বসবেন। সেসব না হলেও, বিনোদন দেওয়ার যে মুখ্য উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয় একেকটা সিনেমা, তাতে তো এখন অবধি পুরোপুরি সফল বরুণ। কেবল বিনোদনের জন্য হলেও টুপিখোলা সম্মান প্রাপ্য তাঁর!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।