ভেপ বা ই-সিগারেট: ধূমপান ছাড়ার কৌশল না মরণঘাতক!

সাধারণ সিগারেটে প্রায় সাত হাজার ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে যার মধ্যে ৬৯ টি সরাসরি ক্যানসারের জন্য দায়ী। আমেরিকান এক গবেষণায় নাকি এই তথ্য পাওয়া গেছে। তাই, ধূমপান ছাড়তে মরিয়া মানুষের অভাব তাই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে একদমই নেই।

এখন একধরণে অ্যান্টি-স্মোকিং মেশিন এসেছে, যা আসলে ধুমপানের অভ্যাসকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে। ্সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবেই মূলত ধূমপায়ীরা ই-সিগারেট বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যবহার করে থাকেন। আরেক নাম হল ভেপ। এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি চালিত ডিভাইস। যদিও, এই ভেপ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের কোনো শেষ নেই।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্যমতে, ২০১৫ সালে ই-সিগারেট ব্যবহার করে প্রায় ৫৫ হাজার জন ধূমপায়ী ধূমপানের আসক্তি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৮৮৬ জনের উপর পরিচালিত এনএইচ-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, ই-সিগারেট ব্যবহার করে প্রায় ১৮ শতাংশ ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দেন। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সিগারেট ছাড়তে অনেকেই এখন ই-সিগারেটের শরনাপন্ন হচ্ছেন।

যদিও, ঠিক আলোর নিচেই আছে অন্ধকার। এই তথ্য শুনে যতটা আশাবাদী হচ্ছেন আসলে ব্যাপারটা তা নয়। ভেপিং করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। ভেপে সাধারণ তামাকজাত সিগারেটের থেকে বেশি ক্ষতি হতে পারে, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির হেলথ ম্যানেজমেন্ট ও পলিসি বিভাগের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ভেপের অনেকরকম জুস থাকে। স্বাদ পরিবর্তনের জন্য ব্যবহারকারীরা নানা রকম ‘ফ্লেভার’ ফুসফুসে নেন। আর তাতেই আসে বিপদ।

ভেপ যে ঝুকিমুক্ত নয়, সেটা একদম শুরুতেই আমেরিকাতে বোঝা গিয়েছিল। প্রথমদিকে দেশটিতে ডাক্তাররাই ধূমপান ছাড়ার জন্য ভেপিংয়ের পরামর্শ দিতেন। এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ। হঠাৎ করেই সেখানে ফুসফুস সংক্রমনের মাত্রা বেড়ে  গেল। নড়ে-চড়ে বসলো প্রশাসন।

ভেপে ক্ষতিকারক পদার্থের কোনো শেষ নেই। এর মধ্যে নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল অথবা ভেজিটেবল গ্লিসারিন থাকে, থাকে নানারকম ফ্লেভারের মিশ্রন। থাকে। দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ই-সিগারেটে আছে জীবাণুনাশক ফরমালডিহাইড, যেটি ক্যানসার তৈরির উপাদান। ফলে, আর না বলে দিলেও চলে যে, ভেপিং মানুষকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভেপিং ব্যাপারটা বাংলাদেশেও খুব নতুন নয়। ঢাকায় এখন বেশ কয়েকটা জায়গা ভেপ পাওয়া যায়।গুলশানের ডিসিসি মার্কেট থেকে শুরু করে, বসুন্ধরা সিটি, ধানমন্ডির মেট্রো শপিং মল, আনাম র‌্যাঙস প্লাজা – বেশ কয়েকটা জায়গায় ভেপ পাওয়া যায়। রাজধানীতে ভেপ এখন বেশ ‘জনপ্রিয়’। কেউ শখের বশে ব্যবহার করছেন, কেউ করছেন ধূমপান ছাড়ার জন্য। আর অজান্তেই তাঁরা নিজেদের আরো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।