যে কারণে ভাগ্রশ্রীর ভাগ্য খোলেনি!

সিনেমার ইতিহাসে ভাগ্যশ্রী বিচিত্র এক চরিত্র।

১৯৮৯ সালের কথা। ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবি মুক্তির পর সালমান খানকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল বলিউড, ঠিক একই স্বপ্ন ছিল মিষ্টি মেয়ে ভাগ্যশ্রীকে ঘিরেও। কিন্তু, তিনি কখনো সেই প্রত্যাশার চাপ মেটানো তো দূরের কথা, পৌঁছাননি তার ধারের কাছেও। ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ঢাকার ছবিতে শাকিল খানের সাথে ‘এসো না গো আরো কাছে’র মত গানে ঠোঁট মিলিয়ে।

সব মিলিয়ে ভাগ্যশ্রী ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসেরই বিশাল একটা আক্ষেপ। ভাগ্রশ্রী হলেন মহারাষ্ট্রের সাঙলির পটবর্ধন নামের মারাঠী রাজপরিবারের মেয়ে। তার বাবা বিজয় সিংরাও মাধবরাও পটবর্ধন হলেন সাঙলির বর্তমান রাজা। ভাগ্যশ্রীর পরিবার অনেক কট্টরপন্থী।

সব সময় ভাগ্রশীকে সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরে ফিরতে হত। কে জানে, এ কারণেই কিনা জমকালো অভিষেকের পরও ভাগ্রশ্রীর ক্যারিয়ার খুব বেশিদূর এগোয়নি! ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও শেষ সাফল্য।

‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’র পর মনে করা হচ্ছিল, নব্বই দশকের বড় জুটি হবেন সালমান-ভাগ্যশ্রী। সেই মঞ্চটা প্রস্তুতও ছিল। ভাগ্যশ্রীর বয়স তখন মাত্র ২০। মাত্রই ফিল্ম ফেয়ারের বিবেচনায় সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতলেন।

সালমানের বিপরীতে ‘রণক্ষেত্র’ চলচ্চিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।কিন্তু, ভাগ্যশ্রী বিয়ের পিঁড়িতে বসলে এই চলচ্চিত্রের কাজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রটির স্ক্রিপ্ট ফাইলবন্দী হয়ে যায় চিরদিনের জন্য।

বলা হয়, বিয়ের পর নাকি বলিউডে নায়িকাদের জনপ্রিয়তা থাকে না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্ভবত ভাগ্যশ্রী। তিনি আর কখনোই বলিউডে হারানো আসন ফিরে পাননি। ২০০২ সালে ঢালিউডের সিনেমা ‘শত্রু ধ্বংস’তে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।

দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত সিনেমাটিতে আরো ছিলেন নূতন, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাকিল খান, গোলাম মুস্তাফা, আনোয়ার হোসেন, আহমেদ শরীফ ও নাছির খান। বলিউডের খান ও ঢালিউডের খান – দুই দেশের ভিন্ন দুই খানের সাথে জুটি বেধে কাজ করা একমাত্র নায়িকা সম্ভবত এই ভাগ্যশ্রী।

মাত্র ২১ বছর বয়সে হিমালয় দাসানির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পরও অবশ্য সিনেমা করা বন্ধ হয়নি। হিন্দি, ভোজপুরি, তেলেগু, কান্নাড়া, মারাঠি ও বাংলা ভাষায় মোট ২৭ টির মত ছবি করেছেন।

এর বাদে টেলিভিশনের সিরিজ করেছেন, অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন – কিন্তু কখনোই ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’র কাছাকাছিও যেতে পারেননি। সারা জীবন তিনি ‘ওয়ান মুভি ওয়ান্ডার’ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন।

কে জানে ভাগ্যশ্রীর ভাগ্য কখনো না খুললেও হয়তো তার পরের প্রজন্ম সেই আক্ষেপ রাখবে না। এরই মধ্যে ছেলে অভিমন্যু দাসানির অভিষেক হয়ে গেছে বলিউডে। ‘মার্দ কো দার্দ নেহি হোতা’য় অভিমন্যু বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। এটা অ্যাকশন কমেডি জনরার ছবি। যদিও, ছবিতে নানারকম টুইস্ট আর গল্প নিয়ে আছে কারিশমা। ভারতে এমন স্ক্রিপ্ট নিয়ে আগে কখনো কাজ হয়নি বললেই চলে।

আমেরিকান ওয়েবসাইট ‘ব্লাডি ডাসগাস্টিং’-এর রাফায়েল মাতমেয়র এই মুভি নিয়ে বলেছেন, ‘এটা দিয়ে ডেডপুলের জবাব দিলো ভারত।’ টরোন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘মিডনাইট ম্যাডনেস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে এই সিনেমা। এছাড়া ‘ম্যাকাও ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস-এ অভিমন্যু দাসানিকে সেরা নবাগত’র পুরস্কার দেওয়া হয়।

গুঞ্জন আছে, ভাগ্যশ্রীর মেয়ে অবন্তিকা দাসানিও শিগগিরই বলিউডে আসবেন। তিনি যুক্তরাজ্যের একটা বিজনেস স্কুলে পড়াশোনা করছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।