ডিডিএলজে: দ্য আনটোল্ড স্টোরি

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা কোনটি? কেউ বলবেন শোলে, কেউ বলবেন থ্রি ইডিয়টস। তবে, সব শেষে সবাই একমত হবে যে, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র ওপরে কিছু নেই। নব্বই দশকের বিখ্যাত এই সিনেমাটা আজো সবার মধ্যেস সমান ভাবে জনপ্রিয়।

আজো যখন শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সিনেমাটা টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হয় তখন দর্শকরা ঠাঁয় বসে থাকেন। বিজ্ঞাপন বিরতি ছাড়া তারা টেলিভিশন সেটের সামনে থেকে নড়েন না। বার বার দেখে ফেলা সিনেমাটাও তাদের কী যেন এক অজানা আকর্ষণে আবদ্ধ করে ফেলেছে।

অথচ, মজার ব্যাপার হল যশ রাজ ফ্লিমসের যশ চোপড়া ছেলে আদিত্য চোপড়ার প্রথম সিনেমার জন্য কোনো কমতি রাখতে চাননি। সিনেমাটা ভেবে রেখেছিলেন হলিউডের তারকা টম ক্রুসের জন্য। তাকে ঘিরেই সাজিয়েছিলেন চিত্রনাট্য। ইংল্যান্ডের এক ছেলে সাধাসিধে এক ভারতীয় মেয়ের প্রেমে পড়ে যাবে, আর নিজের জীবন বাজি রেখে মেয়েটির পরিবারের সাথে যুদ্ধ করবে – এমনই ছিল গল্পের প্লট। কিন্তু, আদতে সেটা হয়নি।

টম ক্রুসকে পাওয়া যায়নি। তার জায়গায় সাইফ আলী খান কিংবা আমির খানকেও প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরপর আসেন শাহরুখ খান। তখনও তিনি খ্যাতিমান ছিলেন, তবে আজকের দিনের মত বলিউড বাদশাহ ছিলেন না। তার ওপর টম ক্রুসের হাইপটা তো ছিলই। সব মিলিয়ে সেদিনের শাহরুখের মাথায় ছিল আকাশচুম্বি চাপ। কাজলও ছিলেন তরুণ, ইন্ড্রাস্টিতে তখনও জায়গা পাকা হয়নি।

কিন্তু, সেই চাপ একাই ঝেড়ে ফেলে সিনেমাটা হয়ে গেলে সুপার-ডুপার, ব্লকবাস্টার কিংবা তার চেয়েও বড় কোনো হিট। শাহরুখ খান ভারতে হয়ে উঠলেন ভালবাসার প্রতীক। রাজ আর সিমরান জুটিকে বলা হত ভারতের রোমিও-জুলিয়েট। পার্থক্য একটাই, রোমিও-জুলিয়েটের প্রেমের পূর্ণতা আসেনি, কিন্তু, রাজ-সিমরানের এসেছিল। একই সাথে সিনেমার গান, অ্যাকশন-কমেডি, রোমান্স সব কিছুই হয়ে ওঠে অনন্য।

নব্বইয়ের দশকের প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির আদর্শ ছিল এই রাজ-সিমরান। সিনেমাটা বলিউডের ব্যবসায়ও রেখেছিল বড় অবদান। তখনও ভারতীয় সিনেমা আজকের মত বিশ্বায়নের রূপ নেয়নি। হিন্দি সিনেমাগুলো ওই আমলে উপমহাদেশের বাইরে আজকের মত ব্যবসা করতো না। তবে, ডিডিএলজে’র অভাবনীয় সাফল্য বলিউডের ভোল পাল্টে দেয়।

প্রথম সিনেমার পর আজ আদিত্য চোপড়া হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক মহীরূহ। ১৯৯৫ সালের দিওয়ালির মৌসুমে মুক্তি পেয়েছিল। দিনক্ষণের হিসেবে তারিখ ছিল ২০ অক্টোবর। আজ এতগুলো বছর কেটে গেলেও সিনেমাটির আবেদন এক বিন্দুও কমেনি।

দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে হতে চললো মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটার স্ক্রিনিং চলছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত লম্বা সময় ধরে কোনো সিনেমার প্রদর্শনীর কোনো নজীর নেই। ২০১৫ সালে একবার সিনেমাটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কারণ, সেবারই সবচেয়ে কম দর্শক এসেছিল শো দেখতে।

সেই দর্শকের সংখ্যাটা শুনলেও রীতিমত আকাশ থেকে পড়বেন – ২১০ জন! পরে দর্শকদের অনুরোধে শো আর বন্ধ করা হয়নি।  এখনো প্রতি ছয় মাস পর সময় সুযোগ হলে শাহরুখ খান ও কাজল মারাঠা মন্দিরে যান, দর্শকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

সিনেমাটি নিয়ে দর্শকমহলে আজো যেন আগ্রহের কোনো কমতি নেই। ডিডিএলজের ব্যাপারে কয়েকটি তথ্য শুনলে দর্শকরা এখনও চমকে যেতে বাধ্য। এই যেমন একটা বলি। ১৯৮০ সালে একই নামে আরেকটি হিন্দি সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। রাজেন্দ্র সিং অতীষের পরিচালনায় সিনেমাটিতে ছিলেন বীনা ব্যানার্জী, দেশ গৌতম ও তারিক শাহ।

 

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।