অর্জুন রামপাল: একটি না বলা ইতিবৃত্ত

নিন্দুকেরা বলতো, অর্জুন রামপাল নাকি অভিনয় জানেন না!

যদিও, নিন্দুকের মুখে ছাইটা ঠিকই ছুড়ে দিতে পেরেছিলেন এই ফিটনেস ফ্রিক। ২০১০ সালে ‘রক অন’ সিনেমায় সহ-অভিনেতা হিসেবে তিনি রীতিমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে যান।

যদিও, অর্জুন রামপালের ক্যারিয়ারটা এর আগে কিংবা পরে – কখনোই স্বস্তিদায়ক ছিল না। এই উত্থান, এই পতন – এমন দোটানার মধ্যেই ক্যারিয়ারটা গড়ে উঠেছে।

রামপালের জন্ম ১৯৭২ সালের ২৬ নভেম্বর, মধ্য প্রদেশের জাবালপুরে। তিনি আর্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের এক পরিবারে বড় হয়েছেন। নানা ছিলেন ব্রিগেডিয়া গুরুদয়াল সিং। স্বাধীনতার পর তিনি ছিলেন ভারতের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের একজন।

অর্জুন অবশ্য সে পথে হাঁটেননি। অল্প বয়সেই তাঁর বাবা-মার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায। তিনি থাকতেন মায়ের সাথে। পড়াশোনা করেন সেন্ট প্যাট্রিক স্কুলে। সেই স্কুলেই শিক্ষকতা করতেন অর্জুনের মা। এরপর দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিন্দু কলেজ থেকে অর্থনীতিকে স্নাতক করেন অর্জুন।

মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। যদিও, খুব সহজে সুযোগ আসছিল না। দিল্লীতে এক পার্টিতে অর্জুনের সাথে দেখা হয় বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার রোহিত ব্যালের। সেদিনই অর্জুনকে তাঁর মনে ধরে। রোহিত ব্যালের হাত ধরেই মডেলিংয়ের দুনিয়ায় আসেন, কালক্রমে বনে যান ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলদের একজন। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘সোসাইটিজ ফেস অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জয় করেন।

বলিউডে অর্জুনের অভিষেক হয় ২০০১ সালে। সিনেমার নাম ‘প্যায়ার ইশক অওর মোহাব্বাত’। সিনেমাটিতে তিনি এক মডেলের চরিত্র করেন। এর জন্য বেশ কিছু পুরস্কারও জয় করেন। সমালোচকদের মন জয়ের পাশাপাশি তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা নবাগত নায়কের পুরস্কারের জন্য মনোনিতও হন।

খুব কম লোকই জানেন যে, অর্জুন রামপাল হলেন অভিনেত্রী কিম শর্মার কাজিন। কিম ‘মোহাব্বাতে’ ও ‘ক্যাহতা হ্যায় দিল বার বার’ সিনেমাগুলোর জন্য পরিচিত।

সিনেমায় আসার আগেই বিয়ে করেন অর্জুন। ১৯৯৮ সালের সেই বিয়েতে তাঁর পাত্রী ছিলেন সুপার মডেল মেহর জেসিয়া।। তাদের মাহিকা ও মিরা নামের দুই মেয়ে আছে। গুজব উঠেছিল হৃত্বিক রোশনের সাবেক স্ত্রী সুজান খানের সাথে সম্পর্কে জড়ানোয় ‍ঘর ভাঙতে চলেছে অর্জুন-জেসিয়ার। সুজানের সাথে অর্জুনের সম্পর্কটা গুজব হলেও সংসার টিকেনি এই দম্পতির। ১৮ বছর সংসারের পর ২০১৮ সালের ২৮ মে তাঁরা আনুষ্ঠানিক ভাবে আলাদা হয়ে যান।

একটা ছোট্ট তথ্য দিয়ে লেখার ইতি টানি। ‘লক্ষ্য’-তে অর্জুন রামপালই ছিলেন পরিচালক ফারহান আখতারের প্রথম পছন্দ।  শিডিউল জটিলতায় ফারহান সিনেমাটি করতে পারেননি। পরবর্তীতে চরিত্রটির জন্য হৃত্বিক রোশনকে প্রস্তাব করা হয়। হৃত্বিক প্রস্তাব লুফে নেন। ২০০৪ সালের সিনেমাটি ব্যবসা সফল না হলেও সমালোচকদের মন জিততে সক্ষম হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।