সিনেমার গল্পকে হার মানানো জীবন তাঁর

ছয় জুন, ১৯২৮।  দেওয়ান রঘুনাথ দত্ত ও কুলবন্তী দেবী দত্তের ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান। তারা তাদের সন্তানের নাম রাখেন বলরাজ দত্ত। এই বলরাজ দত্তই পরবর্তীকালে ফিল্মি দুনিয়ায় সুনীল দত্ত নামে পরিচিতি পান। সুনীল দত্ত ছিলেন একজন রেডিও জকি, অভিনেতা এমনকি একজন রাজনীতিবিদও।

এই কিংবদন্তির  জীবন তার ছেলে সঞ্জয় দত্তর মতই উত্থান পতনে ভরা। এই অভিনেতাকে আমরা মিডিয়ায় তার সম্পর্কে আসা ঘটনাগুলো থেকেই বিচার করে করে থাকি। তিনি কেমন পিতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন তা পাঠকরা ‘সাঞ্জু ’ সিনেমাটি দেখার মধ্য দিয়েই উপলব্ধি করেছেন। তবে, তাঁর জীবনের অজানা আরো কিছু অধ্যায় আছে। চলুন, সেসব অজ্ঞাত অতিতের স্মৃতিচারণা করা যাক।

নার্গিস-সুনীলের প্রথম দেখা

নার্গিস-সুনীলের প্রথম সাক্ষাৎ এবং তাদের প্রেমকাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। ১৯৫৪ সালে সুনীল দত্ত যখন রেডিও সাইক্লোনে রেডিও জকি হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি সেই আমলের হার্টথ্রুব নার্গিসের সাক্ষাৎকার নেবার কথা ছিল। সুদুর্শন সুনীল দত্তের সুকণ্ঠ হার মেনেছিল নার্গিসের রূপজ্যোতির কাছে। সুনীল দত্ত কোন কথা বলতে পেরেছিলেন না বললেই চলে। অগত্যা বাতিল করতে হয়েছিল সেই সাক্ষাৎকার।

মাদার ইন্ডিয়া: শুরু হল একটি প্রেমের গল্প

‘মাদার ইন্ডিয়া’ হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটিতে ২৮ বছর বয়সী নার্গিস সুনীল দত্তের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন যিনি ছিলেন তাঁর থেকে এক বছরের বড়। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময় দু’জনের মনে ফুটেছিল প্রেমের লাল গোলাপ।

একদিন শুটিং সেটে আগুন লেগে গেলে সুনীল দত্ত জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেন নার্গিসকে। সেই দিন থেকেই দুজন দুজনের প্রতি দুর্বল হওয়া শুরু করেন। শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের ‘ওম শান্তি ওম’-এ যেন ছিল সেই দৃশ্যেরই পুনরাবৃত্তি। সেই দৃশ্য হয়তো পাঠকরা ভোলেননি যেখানে, শাহরুখ খান নিজের জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন দীপিকাকে, পারেননি। কিন্তু বাস্তবে পেরেছিলেন সুনীল। এই দৃশ্যটা যেন ছিল ‘মাদার ইন্ডিয়া’ চলচ্চিত্রের ওই ঘটনারই প্রতিচ্ছবি।

  • মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা

২০০১ সালে এই অভিনেতা বেঁচে গিয়েছিলেন বিমান দুর্ঘটনা থেকে। বিমান দুর্ঘটনার জন্য তাকে বহনকারী বিমানকে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ভাদুরি গ্রামের এক মাঠে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল।সু নীল দত্ত প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছিলেন তিনি।কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

  • কেরানি হিসেবে কাজ করা

দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্তের বাস কন্ডাকটর হিসেবে কাজ করার ঘটনা সবারই জানা। কিন্তু কয়জন জানে সুনীল দত্তের কেরানি হিসেবে কাজ করার কথা। যখন তিনি অভিনেতা হবার জন্য স্ট্রাগল করছিলেন, সেই সময় মুম্বাই শহরের সেরা সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টে কেরানি হিসেবে কাজও করেছেন। কিন্ত, কিছু লোক আজও মনে করে, ‘অভিনেতাদের জীবনের কাহিনী অনেক সরল!’

  • ১৯৯৩ সালে সঞ্জয় দত্তের গ্রেফতার

সঞ্জয় দত্ত যখন ১৯৯৩ সালে বোম্বেতে বোমা হামলার মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, বেআইনিভাবে একে-৫৬ রাখার কারণে গ্রেফতার হন তখন এই কংগ্রেস নেতা ডানপন্থী দল শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠ্যাকারের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছিলেন বলে জোর গুঞ্জন আছে। বলা হয়ে থাকে, বাল ঠ্যাকারের অনুরোধেই জামিন মিলেছিল সঞ্জয় দত্তর।

– বলিওর্ম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।