রাভিনা ট্যান্ডন: এমন আবেদনময়ী আর কেউ আসেননি!

‘চিজ বারি হ্যায় মাস্ত মাস্ত’ – সেই ‘মাস্ত মাস্ত’ নায়িকাটি হলেন রাভিনা ট্যান্ডন। সিনেমায় সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে যতটা না, নব্বই দশকে তার চেয়েও বেশি কথা হত রাভিনা ট্যান্ডনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। ওই সময় অক্ষয় কুমারের সাথে তাঁর প্রেম খুব জমে উঠেছিল। বিষয়টা ছিল ওপেন সিক্রেটের মত।  সবাই জানতো, কিন্তু মুখে কিছু বলতো না!

শোনা যায়, কোনো এক মন্দিরে গিয়ে নাকি গোপনে বাগদানও সেরে নিয়েছিলেন এই দু’জন। কিন্তু, লম্বা দৌঁড়ে এই সম্পর্ক টেকেনি। অক্ষয় কুমারের ‘খিলাড়ি’ ইমেজটা তখনই গড়ে উঠেছিল।

আজ শিল্পা শেঠি তো কাল পূজা বাত্রা – এমনই চলছিল অক্ষয়ের জীবন। এর মধ্যে রাভিনাও এসেছিলেন, আর সব কিছু শেষ হতেও সময় লাগেনি। অথচ, দু’জনই জাতিগত ভাবে পাঞ্জাবি, তখন অনেক অনুষ্ঠানেই এক সাথে হাজির হতেন দু’জন।

অক্ষয়ের সাথেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভাল সময়টা কাটিয়েছিলেন রাভিনা। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় এই জুটির ব্যবসাসফল ছবি ‘মোহরা’। ছবিটিতে ‘টিপ টিপ বারসা পানি’ গানে এই দু’জনের রসায়ন এখনো বলিউডে একটা আইকনিক জায়গা ধরে রেখেছে।

এরপর ১৯৯৬ সালে অক্ষয়, রাভিনা ও রেখার ছবি ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’ মুক্তি পায়। তখন, গণমাধ্যমে বলছিল রেখার সাথেও নাকি সম্পর্কে জড়িয়েছেন অক্ষয়। ব্যাপারটা হজম করতে পারেননি রাভিনা। এর ওপর, অক্ষয় তাঁকে শর্ত দিয়ে রেখেছিলেন, বিয়ে করতে হলে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

তাই, এত ঝামেলা না করে আলাদা হয়ে যাওয়াকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মেনে নিয়েছিলেন দু’জন! যদিও, সেই বিচ্ছেদের মানসিক চাপ একদমই নিতে পারেননি রাভিনা। নব্বই দশকের অন্যতম আবেদনময়ী এই নায়িকার ক্যারিয়ার তাই সময়ের অনেক আগেই থেমে যায়।

রাভিনাকে চাইলে স্টারকিডও বলা যায়। বাবা হলেন পরিচালক-প্রযোজক রাভি ট্যান্ডন। মা হলেন ভিনা ট্যান্ডন। ‘রাভি’ ও ‘ভিনা’ যোগ করে তাই ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া মেয়েটির নাম রাখা হল রাভিনা ট্যান্ডন। ডাক নাম হল মুনমুন। নামটা রেখেছিলেন রাভিনার মামা ও ৭০-৮০’র দশকের জনপ্রিয় ভিলেন ম্যাক মোহন। শিশু বেলা থেকেই ঋষি কাপুরের ভক্ত হলেও কখনো সিনেমায় আসতে চাননি রাভিনা। সন্তুষ্ট ছিলেন মডেলিং নিয়েই। অনেক প্রস্তাব শুরুতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

নব্বই দশকের শুরুতে মন গলে। মত পাল্টান রাভিনা। ১৯৯১ সালে রাভিনার ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হল সালমান খানের বিপরীতে। ছবির নাম ‘পাত্থার কে ফুল’। এর জন্য ফিল্মফেয়ারের বিবেচনায় সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রাভিনা।

এরপর ১৯৯৪ সালটা তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই সৌভাগ্যপূর্ণ। সেবার ‘মোহরা’, ‘দিলওয়ালে’ ও ‘লাডলা’- তিনটি ছবি ব্যবসাসফল হয়। একই বছর আসে থ্রিলার ‘ইমতিহান’ ও কাল্ট কমেডি ‘আন্দাজ আপনা আপনা’।

১৯৯৫ সালে শাহরুখ খানের সাথে জুটি বেঁধে স্বয়ং রমেশ সিপ্পির নির্মানে ‘জামানা দিওয়ানা’ ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হন রাভিনা। কিন্তু, সেবার বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এই জুটি। আর কখনোই বলিউড বাদশাহ’ বিপরীতে কাজ করা হয়নি রাভিনার।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ – এই সময়ে ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’, ‘জিদ্দি’, ‘বাড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’, ‘আনাড়ি নম্বর ওয়ান’ – ইত্যাদি ছবি করে ব্যবসাসাফল্য ধরে রেখেছিলেন তিনি। তাকে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে সেকেন্ড লিডের জন্য প্রস্তাব করা হলেও তিনি সেটা ফিরিয়ে দেন। কারিশমা কাপুর সেই চরিত্র করে এক গাদা পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে।

বলিউডে রাভিনা তখন একটা ‘ম্যাটার’ ছিলেন। নিজের আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছিলেন। সাহসী চরিত্র কিংবা আবেদনময় কোনো দৃশ্যে কাজ করার জন্য তাঁর কোনো জুড়ি ছিল না।

২০০০-এর পরবর্তী সময়ে বিকল্প ধারায় ঝুঁকে যান রাভিনা। ২০০১ সালে ‘আকসে’-এর জন্য পান ফিল্ম ফেয়ারের বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার। একই বছর সেরা অভিনেত্রীর ক্যাটাগরিতে ‘দামান’-এর জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

সেখান থেকে শুরু করে, ভিন্নরকম এক রাভিনার উত্থান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সেটা আর হয়নি। ২০০৩ সালে ‘সত্য’ ও ২০০৪-এ ‘দোবারা’ করে তিনি একটা বিরতিতে চলে যান। বিরতির মাঝেও আলোচিত না হলেও ছোটখাটো বেশ কিছু ছবি করেছেন।

বিয়ের আগে থেকেই দুই কন্যা দত্তক নিয়েছেন। এরপর বিয়ে করেন ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর অনিল ঠাডানিকে। এরপরও আরো দু’বার মা হয়েছেন। মোট চার সন্তানের মা তিনি। আজকাল প্রায় নানারকম রিয়েলিটি শো-তে বিচারক হয়ে হাজির হন। এর মধ্যেই ২০১৭ সালে ‘মাত্রর’ নামের একটি ছবি আলোচনায় এসেছিল।

একটা মজার তথ্য দিয়ে শেষ করি। রাভিনা আর অজয় দেবগন ছিলেন সহপাঠী। পড়তেন একই কলেজে।  যদিও, বলিউডে যেদিন প্রথম দেখা হয় সেদিন রাভিনাকে চিনতেই পারেননি অজয়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।