শিক্ষা নামের বানিজ্য, করোনা ও ডেমরা ল’ কলেজের অনন্য দৃষ্টান্ত

‘সবচেয়ে বড় ব্যবসা এখন শিক্ষা’ – হৃতিক রোশনের ‘সুপার ৩০’ ছবির এমন একটা সংলাপেই শিক্ষার উপমহদেশীয় চরিত্রটা প্রকাশিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চরিত্রটা একই। শিক্ষার মান যাই হোক না কেন, এখানে শিক্ষা বিষয়ক ব্যবসার ‘মান’ সব সময়ই ভাল।

এই যেমন করোনা ভাইরাসে যখন পৃথিবী থমকে আছে, তখনও শিক্ষার ব্যবসা টিকে আছে। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হলেও কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট টিউশন দেওয়া বন্ধ হয়নি। জীবনের চেয়ে এখানে এখনো অর্থের মূল্যটাই বেশি।

অথচ, এত কিছুর মধ্যেও অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ডেমরা ল’ কলেজ। ঢাকার যাত্রাবাড়িতে অবস্থিত এই কলেজের শিক্ষার্থীদের বছরের ১২ মাসের মধ্যে এক মাসের বেতন মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, শর্ত একটাই এই এক মাসের বেতন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থটা তাদের ব্যয় করতে হবে দুস্থ দু’টি পরিবারকে চাল-ডাল, সাবান ইত্যাদি নিত্য ব্যবহার্য জিনিস কিনে দেওয়ার স্বার্থে।

কলেজ খুললেই এই এক মাসের টাকা প্রাপ্তির রশিদ কলেজ কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেবে শিক্ষার্থীদের। কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আখনূখ জাবীউল্লাহ নিজের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতেই এই ঘোষণা এসেছে।

দেশের নাম করা কলেজগুলোর নাম নিলে হয়তো ডেমরা ল’ কলেজের নাম প্রথম ১০০-তেও আসবে না, কিন্তু তারা যে নজীর গড়েছে সেটা আসলে দেশের সব কলেজগুলোর জন্যই অনুকরণীয় আদর্শ হওয়া উচিৎ। শিক্ষা নিয়ে বানিজ্যটা যখন একটা জাতির অন্যতম জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তখন এমন একটা ব্যাপার – স্রেফ ভাবাই যায় না!

কোনো যুদ্ধই একা জয় করা যায় না। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখন যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। সেই যুদ্ধে এগিয়ে এসেছে ডেমরা ল’ কলেজ। সৃষ্টি করেছে বিরল এক নজীর। সেই যুদ্ধে আমাদের সবাইকেই নামতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি কিংবা প্রতিটা প্রতিষ্ঠান নিজেদের অবস্থানে দাঁড়িয়েই কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারেন। শুধু দরকার স্বদিচ্ছার!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।