আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া: ত্রাসের সাম্রাজ্য মুম্বাইয়ের মুর্তিমান আতঙ্ক

আরব সাগরের তীরে গড়ে উঠা ভারতের স্বনামধন্য শহর বোম্বে। যদিও এখন নতুন নাম মুম্বাই। সিনেমার রুপালি জগত থেকে মাফিয়াদের আস্তানা, মুম্বাইকে চেনে না এমন লোক পাওয়া দুষ্কর।  এই শহরের অলিগলিতে বেড়ে ওঠে মাফিয়ারা, গড়ে তোলে সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য।

একালের মেরিন ড্রাইভ কিংবা জুহু সৈকতের ধারে হাঁটতে থাকলে কখনোই মনে হবে না যে এই শহর এক কালে গিজ গিজ করত মাফিয়াদের পদাচারণায়। মুম্বাই শহর তো বটেই, গোটা ভারতবর্ষ কাঁপিয়ে বেড়াতেন এই শহরের গ্যাঙস্টাররা। চলুন, একটু অন্ধকার জগতের পথ ধরে হাঁটা যাক।

  • করিম লালা

আসল নাম আব্দুল করিম শের খান। বেড়ে উঠেছেন আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে। ৩০ এর দশকে তিনি মুম্বাইতে আসেন আর ৫০ এর দশকে তিনি মুম্বাইয়ের একজন স্বঘোষিত ‘ডন’ নামে পরিচিতি পান।

জীবনের প্রথমদিকে তিনি মুম্বাই পোর্টের ডক-ইয়ার্ডে কাজ করতেন। এরপর আস্তে আস্তে তাঁর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে হাজী মাস্তান, ভারাদারঞ্জন মুদালিয়ারসহ মুম্বাইয়ের নাম করা মাফিয়াদের সাথে। তাঁর নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী ছিলো। ছিলো জুয়ার ঠেক, ছিনতাইকারী দল।

তবে শোনা যায় তাদের আদিপত্যের মূল ছিলো সোনা রুপা আর ইলেকট্রনিক সামগ্রীর চোরাকারবারি।  সেই সময় সিনেমা জগতের অনেকের সাথেই তার সখ্যতার কথা শোনা যায়। হেলেন থেকে দীলিপ কুমার সবার সাথেই তার ভালো ওঠাবসা ছিলো।

৭০-এর দশক পর্যন্ত লালা-হাজী-মুদালিয়ার এই তিন ত্রয়ী মুম্বাই শহরের ত্রাস ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে করিম লালার আধিপত্য কমতে থাকে। লালার নির্দেশেই হত্যা করা হয় মুম্বাইয়ের আরেক মাফিয়া দাউদ ইব্রাহীমের বড় ভাই সাঈদ কাসকারকে।

প্রতিশোধ স্বরূপ ১৯৮৫ সালে দাউদ হত্যা করে লালার ভাইয়ের ছেলে সামাদ খানকে। এর পর থেকে করিম লালার উপস্থিতি অনেকটাই নীরব হয়ে যায়। ৯০ বছর বয়সে, ২০০২ সালে করিম লালার মৃত্যু হয় সেই মুম্বাইয়েই।

  • ভারাদারঞ্জন মুদালিয়ার

জন্ম আর বেড়ে উঠা তামিলনাড়ুর উপকূলীয় শহর তুতিকোরিনে। প্রথম জীবনে কুলি আর জীবনের ইতি সুপরিচিত মাফিয়া হিসেবে।

মুম্বাইতে এসে কুলির কাজের পাশাপাশি মুদালিয়ার ডক-ইয়ার্ডের মালামাল চুরি করতেও হাত পাঁকান। আস্তে আস্তে তার সাথে হাত মেলান মুম্বাইয়ের আরেক মাফিয়া হাজী মাস্তান আর করিম লালা।

মাফিয়া ছাড়াও মুদালিয়ারের আরো একটি পরিচিতি ছিলো। তামিলনাড়ুর মাতুঙ্গা, ধারাভি এবং সিওন কোলিওয়াডার গরীব দুঃখী মানুষের অঘোষিত বিচারক ছিলেন তিনি।

১৯৬০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত মুম্বাইতে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন মুদালিয়ার। কিন্তু ৮০‘র দশকে ইন্সপেক্টর ওয়াই.সি পাওয়ারের টার্গেটে পরিণত হন মুদালিয়ার। এই পুলিশ ইন্সপেক্টরের নেওয়া বেশ কিছু জোড়ালো পদক্ষেপের কারণে মুদালিয়ারকে মুম্বাই ছাড়তে হয়। গুটিয়ে নিতে হয় তার ত্রাসের রাজত্ব।

১৯৮৮ সালের দুই জুন মৃত্যুবরণ করা এই গ্যাঙস্টারকে নিয়ে বলিউডেও কম তোলপাড় হয়নি। কমল হাসানের ‘নায়াকান’ কিংবা অমরেশ পুরির ‘মশাল’ – অনেক সিনেমার পর্দা রঙিন হয়েছিলো ভারাদারঞ্জন মুদালিয়ারের জীবনীর মাধ্যমে।

  • আবু সালেম

আসল নাম আবু সালেম আব্দুল কাইয়ুম আনসারি। এছাড়াও তার আরো অনেক নাম ছিলো যেমন আকিল আহমেদ আজমী কিংআ আবু সামান। ডি-কোম্পানি তথা দাউদ ইব্রাহিম গ্রুপের এই সক্রিয় সদস্যের জন্মস্থান উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলায়।

প্রথমজীবনে তিনি ছিলেন দিল্লীর একজন ট্যাক্সিচালক। এরপর মুম্বাইতে এসে ডি-কোম্পানির ড্রাইভার হিসেবে যোগ দিয়ে অস্ত্র এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ জিনিস আনা নেওয়া করত। আবু সালেম দাউদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হওয়ার পাশাপাশি নানান অপরাধ কাজে নিজেকে যুক্ত করে ফেলে।

চিত্র পরিচালক সুভাষ ঘাঁই, রাহুল রায় ,রাকেশ রোশানদের থেকে চাঁদাবাজি করার কথা সবারই প্রায় জানা। তবে সবথেকে উল্লেখ্য বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ গুলশান কুমার হত্যার পিছনের সবথেকে বড় মদদদাতা ছিলো আবু সালেম। ১৯৯৩ এর মুম্বাই ব্লাস্টের সাথেও তার নাম ভালো ভাবে জড়িত ছিলো।

৯৮ সালের মাঝামাঝিতে দাউদের সাথে আবু সালেম পালিয়ে যান আর ২০০২ এ পর্তুগালের লিসবনে, সালেম তার অভিনেত্রী বান্ধবী মণিকা বেদী সহ পুলিশের হাতে ধরা পরেন। ২০০৫ সালে বিল্ডার প্রদীপ জৈন হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন জেল সাজা হয়।

  • হাজী মাস্তান

অজয় দেবগণের ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’ সিনেমাটার কথা মনে আছে?  সুলতান মির্জার চরিত্রটি হাজী মাস্তানের ছায়া অবলম্বনে তৈরী।

লাবাববিন তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা হাজী মাস্তানের জন্মস্থান মাদ্রাজ বর্তমান তামিলনাড়ুতে। ৩০’র দশকে বাবার হাত ধরে মুম্বাইতে আসেন। ডক-ইয়ার্ডে কুলি হিসেবে জীবন শুরু করেন। আস্তে আস্তে হাত পাকান স্মাগলার হিসেবে। শুরু করেন সোনা, রুপা, ট্রানজিস্টার চুরির কাজ।

অবৈধ পানীয় দ্রব্যের কারবারি করে মাস্তান অল্পদিনেই বিশাল সম্পদের মালিক হোন। টনি মালাবার হিলের তার বিলাস বহুল বাড়িই তার প্রমাণ। লালা, মুদালিয়ারের সাথে হাত মিলিয়ে অল্পদিনেই তার আধিপত্য আকাশচুম্বী হয়ে যায়।

৬০-৭০এর দশকে মুম্বাইয়ে গ্যাঙস্টারের সংখ্যা বাড়তে থাকে,সেই সাথে বাড়তে থাকে মাফিয়াদের মধ্যেকার অন্তর্কোন্দল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে এগিয়ে আসেন হাজী মাস্তান। তিনি বিভিন্ন এলাকা, বিভিন্ন মাফিয়াদের মধ্যে ভাগ করে দেন।

৭০ সালে ‘ইন্ডিয়ান ইমারজেন্সি’ শুরু হলে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। জেলে থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েন, গঠন করেন ‘দলিত মুসলিম সুরক্ষা মহা সংঘ’।

বলিউড পাড়ায় তার উপস্থিতি ভালোই সরব ছিলো। সেই সময় বলিউডের সিনেমায় তিনি প্রচুর অর্থ লগ্নি করতেন। দীলিপ কুমার, রাজ কাপুর, ধর্মেন্দ্রদের সাথে তাঁর সখ্যতা ভালোই ছিলো।

নিঃসন্তান হাজী মাস্তান দত্তক নিয়েছিলেন সুন্দর শেখরকে। শেখর হিন্দু থেকে মুসলিমে ধর্মান্তরিত না হলেও, নামটি ঠিকই পাল্টে সুলেমান মির্জা রাখেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ জুন মুম্বাইয়ে তাঁর দেহাবসান হয়।

  • অরুণ গাওলি

অরুণ গাওলি বা অরুণ গুলাব আহির মুম্বাইয়ের একজন গ্যাঙস্টার। মাফিয়া সাম্রাজ্যে অবতরণের পূর্বে অরুণ ছিলেন একজন দুধ ব্যবসায়ী। ৭০-এর দশকে অরুণ এবং তাঁর ভাই কিশোর (পাপ্পা) মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নাম লেখান।

অরুণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে হাতেখড়ি হয় সেন্ট্রাল মুম্বাইয়ের মাফিয়া গোষ্ঠী ‘বাইকুল কোম্পানি’র সাথে হাত মেলানোর মাধ্যমে। রামা নায়েক ছিলেন ‘বাইকুল কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা। এক সময় দাউদ ইব্রাহিমের সাথে খুব দহরম মহরম থাকলেও এক সময় এই সম্পর্ক সাপে-নেউলে পরিণত হয়।

রামা নায়েক পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পরে, ‘বাইকুল কোম্পানি’র দায়িত্ব জিবি অরুন গাওলি। যদিও এটি পুলিশ এনকাউন্টার ছিলো, কিন্তু অরুণ এবং ‘বাইকুল কোম্পানি’র অনুসারীরা ধরেই নিয়েছিলো এটি দাউদ ইব্রাহীমের মদতেই হয়েছে।

সেই থেকে অরুন এবং দাউদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই মাফিয়া রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। ‘অখিল ভারত সেনা’ নামে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দলও রয়েছে। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ে নির্বাচিত এমএলএ হন তিনি।

মুম্বাইতে অসামান্য প্রভাব বিস্তারকারী এই গ্যাঙস্টার বিপাকে পরেন শিব সেনার প্রভাবশালী নেতা কামলেকার জামসেন্দকারকে হত্যার মাধ্যমে। অরুণ গাওলি এবং অন্য ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত ২০১২ সালে অরুন গাওলিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

যদিও, অনেকে মনে করেন, এটা স্রেফ সাজানো গোছানো একটা ষড়যন্ত্র মামলা। তাঁর জীবন অবলম্বনে বলিউডে নির্মিত হয়েছে অর্জুন রামপাল অভিনীত সিনেমা ‘ড্যাডি’।

  • দাউদ ইব্রাহীম

মুম্বাই যেখানে মাফিয়াদের স্বর্গ আর সেই স্বর্গের শাহেনশাহ বলা যায় দাউদ ইব্রাহীমকে। পুরো নাম দাউদ ইব্রাহীম কাসকার। জন্ম ১৯৫৫ সালে মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার এক কোনকানি মুসলিম পরিবারে। বাবা ছিলেন মুম্বাই পুলিশের হেড কনস্টেবল। বাবার চাকরির কারণে দাউদ ছোটবেলাতেই চলে আসে মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকাতে।

দাউদের মাফিয়া জগতে আসার পিছনের ঘটনাটা ভালোই মজাদার। পুলিশ কনস্টেবল বাবাকে সেই সময়ের প্রখ্যাত মাফিয়া হাজী মাস্তান দ্বারা প্রায় লাঞ্ছিত হতে দেখত দাউদ। তখন থেকে মাস্তানকে শায়েস্তা করার ছক কষতে থাকে সে। আর এই দাউদ মাফিয়া জগতে এমন আধিপত্য বিস্তার করে যে একসময় হাজী মাস্তানকে হঁটিয়ে সেই হয়ে উঠে মুম্বাই শহরের মাফিয়াদের প্রধান।

দাউদ ইব্রাহিমের মূল কারবারি ছিল অর্থ পাচার আর চাঁদাবাজি। এই সবের মাধ্যমেই সে বিশাল বিত্ত বৈভব এর মালিক বনে যান। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ব্লাষ্টের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিলো।২০০৮ সালের মুম্বাই হামলাতেও তার পরোক্ষ যোগাযোগ ছিলো।

৬২ বছর বয়সী দাউদ ইব্রাহীমের অবস্তান সম্পর্কে নানা রকম কথা বাতাসে ভাসতে থাকে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তথ্য হচ্ছে দাউদ ইব্রাহীম এখন পাকিস্তানে আছেন। আর এই ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আরেকটা পক্ষ মনে করেন, তিনি আছেন দুবাইয়ে।

ভারত সরকার দাউদ ইব্রাহীমকে ধরিয়ে দিলে ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। দেখা যাক এই পুরষ্কার আদৌ কারো ভাগ্যে জোটে কিনা নাকি দাউদ ইব্রাহীম ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবেন।

অভিনেত্রী মন্দাকিনির সাথে দাউদ
  • ছোটা রাজন

আসল নাম রাজেন্দ্র সদাশীপ নিকালজে। মুম্বাইয়ের ক্রাইম সিন্ডিকেটের আলোচিত মুখ ছিলেন একটা সময়। ১৯৮২ সালে তিনি বড় রাজন গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে বড় রাজন গ্যাঙ রেষারেষির জের ধরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

দাউদ ও ছোটা রাজন

দায়িত্ব পড়ে তখন ছোটা রাজনের কাঁধে। তিনি হাত মেলান দাউদ ইব্রাহিমের সাথে। অরুণ গাওলির সাথে দাউদের বিরোধ যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে তখন ১৯৮৯ সালে রাজন চলে দুবাই। তখন থেকেই তিনি দাউদের ডান হাত।

যদিও, দু’জনের এই বোঝাপড়া বেশিদিন টেকেনি। ডি কোম্পানির সাথে বিরোধে জড়িয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি আলাদা হয়ে যান। খুন, মাদক, স্মাগলিং – এমন কোনো অপরাধ নেই যার সাথে নিজেকে জড়াননি রাজন।

২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেবছরই ছয় নভেম্বর ২৭ বছর পর তিনি ভারতে ফেরেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের দুই মে সাংবাদিক হত্যা মামলায় তিনি যাবৎজীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। আপাতত তাঁর ঠিকানা মুম্বাইয়ের তালোজা জেল।

  • ছোটা শাকিল

তিনি ডোংরিতে একটা ট্র্যাভেল এজেন্সি চালাতেন। আসল নাম বাবু বিয়া শেখ। প্রথম জীবন থেকেই তাঁর দাউদ ইব্রাহিমের সাথে সখ্যতা ছিল। তাই তো তিনি ‘ডি কোম্পানি’র একদম শুরুর দিকের সদস্য ছিলেন।

১৯৮৮ সালে তিনি বিশাল চিতাহ, জনি আখাওয়াত, মুশু ভাইদের সাথে দাউদের দলে যোগ দেন। তখন ছোট রাজন গ্যাঙয়ের যাবতীয় সন্ত্রাসী কাজের নেতৃত্ব দিতেন। আর শরদ শেঠির দায়িত্বে ছিল ম্যাচ ফিক্সিং আর জুয়া।

মুম্বাইয়ের বোমা হামলার পর ১৯৯৩ সালে ছোটা রাজন আর দাউদ ইব্রাহিমের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। এই সুযোগটা কাজে লাগান ছোটা শাকিল। ডি কোম্পানির হয়ে তিনিই তখন যাবতীয় অপারেশন পরিচালনা করতেন। বলিউডেও টাকা ঢালতেন।

আবু সালেম আদর্শ মানতেন এই ছোটা শাকিলকে। শাকিলই তো সালেমকে বলিউডে জায়গা করে দেন। যদিও, এক সময় এই দু’জনও মতবিরোধের কারণে আলাদা হয়ে যান।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে শাকিল স্বীকার করেন যে তিনি ছোটা রাজনের ওপর  প্রাণঘাতি হামলা চালিয়েছিলেন। ‘লাইফ অব মাফিয়া’ প্রামান্য চিত্রের জন্য তিনি পর্দার সামনেও এসেছেন।

তার সহযোগী ও ‘বস’ দাউদ ইব্রাহিমের মত তাঁর হদিসও কারো কাছে নেই। তবে, কিছুদিন আগে শোনা গেছে শাকিল মারা গেছেন। যদিও, খবরের সত্যতা কেউই নিশ্চিত করতে পারেননি।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্ক্রল.ইন ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।