আলোচিত নয়, তবে আকর্ষণীয়!

বলিউডে প্রতি বছর কতশত সিনেমা মুক্তি পায় তাঁর কোনো সীমা পরিসীমা নেই। এর মধ্যে কিছু সিনেমা অনেক বেশি আলোচিত হয়, ব্লকবাস্টার কিংবা হিট হয়। কিছু সেমি হিট, কিছু অ্যাভারেজ, কিছু ফ্লপ হয়। এর বাইরেও কিছু সিনেমা থাকে যেগুলোকে ঠিক হিট-ফ্লপের মাপকাঠিতে বিবেচনা করা যাবে না। অনেক বেশি ব্যবসাসফল বা আলোচিত না হলেও সিনেমাগুলো বেশ আকর্ষণীয়।

  • ইয়ে তেরা ঘার ইয়ে মেরা ঘার (২০০১)

নির্মাতা প্রিয়দর্শনের খুব আন্ডাররেটেড একটা সিনেমা। কিন্তু অসাধারণ সিচুয়েশনাল কমেডি। সুনীল শেঠি আর্থিক সমস্যায় পরে মুম্বাই আসে তার বাড়ি বিক্রি করার জন্য। কিন্তু বাড়ির ভাড়াটিয়া মহিমা আর তার পরিবার বাড়ি ছাড়তে রাজি না। অনেক চেষ্টা করেও ব্যার্থ হবার পর সুনিল যায় তার পুলিশ অফিসার বন্ধু পরেশ রাওয়ালের কাছে। পরেশ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ করতে এসে মহিমার প্রেমে পরে যায়। আর মহিমা নিয়ে আসে তাঁর মামা মুম্বাইয়ের ডন সৌরভ শুক্লাকে।

শেষ পর্যন্ত জানা যায় এই বাড়ির সাথে মহিমার জীবনের খুব কষ্টের এক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তারপর কি হয়? পুরো সিনেমাই হাসির তুফান ছোটানোর মত। পরেশ, সুনীল আর শুক্লার জবরদস্ত পারফরমেন্স তো আছেই। যারা দেখেননি দেখতে পারেন।

  • গ্যাঙ (২০০০)

গাংগু, আবদুল, নেহাল আর গ্যারি – চার বন্ধুর নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে গ্যাঙ। মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে নির্মিত খুব আন্ডাররেটেড একটা সিনেমা।

পরিচালকের মৃত্যুর কারণে সিনেমাটির কাজ পাঁচ বছর বন্ধ ছিল। সিনেমার কাহিনীও পাঁচ বছর এগিয়ে দেয়া হয়। ফলে কন্টিনিউশন নিয়ে কোনো কোনো সমস্যা হয়নি।

  • চালো দিল্লী (২০১১)

মধ্যবিত্ত ও স্বল্প শিক্ষিত কাপড় ব্যবসায়ী বিনয় পাঠক আর আধুনিক শিক্ষিতা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার লারা ঘটনা ক্রমে এক ভয়ংকর যাত্রা পথে সঙ্গী হন। সব কিছুতেই ‘ড্যাম কেয়ার মনোভাব দেখানো বিনয় আর সর ব্যাপারেই ‘ওভার রি-অ্যাক্ট’ করা লারার গল্প নিয়ে নির্মিত কমেডি মুভি চালো দিল্লি।

পুরো সময় জুড়ে আপনাকে হাসাবে শাসান্ত শাহ’র এই ছবি। দারুণ একটা কমেডি সিনেমা। ছোট্ট একটা চরিত্রে আছেন স্বয়ং অক্ষয় কুমার।

  • রকেট সিং: সেলসম্যান অফ দ্য ইয়ার (২০০৯)

সারা জীবনই কোনো ভাবে পাশ করা হারমিত সিং বি.কম পরীক্ষায় ৩৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করে। জীবনে সেলসম্যানের জব ছাড়া আর কিছু করতে পারবেনা ভেবেই একটি কম্পিউটার বিক্রির প্রতিষ্ঠান এ সেলস ম্যান হিসেবে জয়েন করে।

এরপর থেকেই নানা রকম সমস্যায় পরতে থাকে। বসের চরম ভাবে অপমান করে হারমিতকে। এরই মধ্যে একপর্যায়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসার সুযোগ চলে আসে। অফিসের রিসোর্স ব্যবহার করে ব্যবসা চলতে থাকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারনে অফিসের অনেককেই পার্টনার বানাতে হয়। এক সময় বসের কাছে সবাই ধরাও পরেন। তারপর কি হয়?

‘চাক দে ইন্ডিয়া’, ‘আব তাক ছাপ্পান’-এর মত সিনেমার নির্মাতা শিমিত আমনের আরেকটি মাস্টারপিস এই সিনেমা। খুবই আন্ডাররেটেড হলেও রণবীর কাপুরের ক্যারিয়ার তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ  করেছেন এই ছবিতে।

  • ওয়ান টু থ্রি (২০০৮)

তিন ব্যক্তির এক নাম – লক্ষ্মীনারায়ণ। এক হোটেলে এসে হাজির হন তিনজনই। একজন আসেন তার চাকরি বাঁচাতে রগচটা বসের জন্য গাড়ি কিনতে (সুনীল শেঠি,তার আবার ডান-বাম নিয়ে বাতিক আছে), আরেকজন আসেন নিজের আন্ডারগার্মেন্টস ব্যবসার ডিল করতে (পরেশ রাওয়াল)।

আরেকজন আসেন মায়ের স্বপ্নপূরনের জন্য (তুষার)। তার মায়ের স্বপ্ন ছেলে মার্ডার করে ‘ভাই’ (গ্যাঙস্টার) হবে। কিন্তু নামের কারণে সব ওলটপালট হয়ে যায়। ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। মুভিটা সেসময় এভারেজ ব্যবসা করায় এর দ্বিতীয় কিস্তি হবার কথা থাকলেও তা আর হয়নি।

  • রক্ত চরিত্র (২০১০)

ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা পলিটিকাল থ্রিলার রক্ত চরিত্র ১ ও ২। পলিটিক্স আর আন্ডারওয়ার্ল্ড এর অনবদ্য সংমিশ্রনে ভারতীয় রাজনীতিবিদ পরিতালা রবীন্দ্র’র জীবনের উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে এই সিনেমা।

ছবিটি হিন্দি,তামিল ও তেলেগু তিন ভাষায় নির্মিত হয়। বিবেক ওবেরয় ও দক্ষিণের সুপার স্টার সুরিয়ার অনবদ্য অভিনয় যুদ্ধের সিনেমা রক্ত চরিত্র। রাম গোপাল ভার্মার জীবনের অন্যতম সেরা নির্মান এটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।