অনুভা-বৈশাখী: দুই নারীতে রবি ঘোষ

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

রবি ঘোষের অভিনয় জীবন যেমন আলোচিত, তেমনি তাঁর বৈবাহিক জীবন অনালোচিত আজও। যদিও এই ব্যাপারটা যথেষ্ট আলোচনার দাবী রাখে।

ভালোবাসার বিয়ে অনুভা গুপ্ত (প্রথম স্ত্রী) রবি ঘোষের দাম্পত্য জীবন দিনেদিনে ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছিল। অনুভা মারা যাবার আগে অনুভার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী মঞ্জু দে নামী হোটেলে’র সামনে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন অনুভাকে।

অনুভা ও রবি

সেদিন হন বাড়িছাড়া। এরপর অনুভাকে তাঁর বাড়ি থেকে মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। শীলনোড়া দিয়ে কি স্বামী মেরেছিলেন ? চরম কলহ উত্তেজনায়? কিনারা হয়নি। স্বর্গীয় হন অনুভা গুপ্ত।

অনুভা গুপ্তর কোনো কাজ নিয়ে চর্চা কি আলোচনা ওঁর মৃত্যুর পর কিছুই হয়নি। কিছুটা যেন আড়াল করা হল ঠাকুরবাড়ির নতুন বৌঠান রহস্যের মতো। কিন্তু ওঁর অভিনীত কম ছবি নেই।

উত্তম কুমারের সঙ্গে কঙ্কাবতীর ঘাট ছবিতে অনুভা।

অনুভা এক-দু বছরের বড় ছিলেন রবি ঘোষের থেকে। ক্যারিয়ারও রবি ঘোষের অনেক আগে শুরু করেন নায়িকা হিসেবে।
চরিত্রাভিনেত্রী রূপেও জনপ্রিয়া।

অনুভা গুপ্ত অভিনীত ছবি ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কঙ্কাবতীর ঘাট’, ‘রত্নদীপ’, ‘চাঁপা ডাঙার বউ’। ‘হাসুলী বাঁকের উপকথা’ ছবিতে অনুভা সেরা সহঅভিনেত্রীর বিএফজেএ পুরস্কারও পান। কাঞ্চনজঙ্ঘা, ছদ্মবেশী, বালিকা বধূ,পরিণীতা, চিঠি, দিবা রাত্রির কাব্য ইত্যাদিও জনপ্রিয়।

রবি ঘোষ ও অনুভা গুপ্ত

অনুভা গুপ্তর দ্বিতীয় স্বামী কিন্তু রবি ঘোষ। তাহলে প্রথম স্বামী? ফুটবলার অনিল দে!

অনুভা গুপ্ত ছিলেন রাণী রাসমণীর পরিবারের মেয়ে। অনুভা-রবি’র বিয়েতে হাজির ছিলেন জনা কয়েক লোক। তার মধ্যে অনুভার প্রিয় বান্ধবী মঞ্জু দে আর সবথেকে বয়েসে ছোটো সদস্য মাধবী মুখোপাধ্যায়। বিয়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন অভিনেত্রী মঞ্জু দে একটি বাড়িতে যে ভদ্রলোকের স্ত্রী ছিলেন একজন জার্মান নারী।

লাক্সের বিজ্ঞাপনে অনুভা

মাধবী মঞ্জু দে কে বলেছিলেন, ‘এবার তাহলে অনুভাদি সুখেই থাকবে বল?’ মঞ্জু দে ম্লান হেসে বলেছিলেন, ‘তা বলা যায়না। অনুভা এত চাপা স্বভাবের মেয়ে এত সহ্যক্ষমতা ওঁর , ও ভালো আছে কিনা আমি তুমি কেউই বুঝতে পারবনা। ও কিছুই বলবেনা।’

অনুভা গুপ্ত মারা যাবার কিছু বছর পর ১৯৮২ তে রবি ঘোষ দস্তিদার (আসল পদবী) দ্বিতীয় বিয়ে করেন বৈশাখী দেবীকে। বৈশাখী ঘোষদস্তিদার।

নিমাই ঘোষের ক্যামেরায় শর্মিলা ঠাকুরের সাথে রবি ঘোষ।

দুজনের মনের মিল খুব ছিল। বেশী বয়সেই বিয়ে হয়। রবি ঘোষ পর্দায় যত কমেডি করতেন বাস্তবে ততই সিরিয়াস।
বৈশাখী দেবী জানাচ্ছেন রবি ঘোষ সেভাবে রোম্যান্টিক স্বামী ছিলেন না। কিন্তু দায়িত্ববান ও যত্নশীল স্বামী ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়েতে কি মানুষ সহনশীল বেশী হয়? সে কথা প্রাক্তনই হয়তো বলতে পারতেন।

বৈশাখী ঘোষ রবি ঘোষ হানিমুনে গেছিলেন ড্রাইভ করে পুরীতে। কিন্তু জনপ্রিয়তা এত যে পুরীতে কাটাতে পারেননি বেশী সময়।
বৈশাখী দেবী জানিয়েছেন রবি ঘোষের প্রথমা স্ত্রী তাঁর অনুভাদি মারা যান হঠাৎই সেরিব্রাল অ্যাট্যাকে। বৈশাখী আর রবি-তে কম আলোচনা হলেও অনুভা গুপ্তকে নিয়ে আলোচনা হত তবে সেটা অনুভার অভিনয় গুণ নিয়ে।

অনুভা কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবিতে সত্যজিত রায় ক্যামেরার পিছনে।

রবি ঘোষ সিরিয়াল করতে করতে ১৯৯৭ এ বৈশাখী দেবীকে বলেছিলেন আজকের লাস্ট শট দিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। সেটাই রবির অস্তাচলে শেষ ফেরা হল।

সেদিনই তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন অভিনয় জীবন থেকে অবসর নিয়ে অভিনয় শেখানোতে মনোনিবেশ করবেন। কিন্তু সেটা আর হলনা তাঁর।  রবি ঘোষের ছাত্র যেমন অভিনেতা গৌতম দে। যিনিও আজ প্রয়াত।

রবির দ্বিতীয় বিয়ে।

নিজের আত্মজীবনী লিখে সব কথা সব রটনা পরিস্কার করে দিয়ে যাবেন এমনটাও চেয়েছিলেন রবি ঘোষ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।