টিভি স্বত্ব ও বিসিবির মার্কেটিং ঘাটতি

৬ হাজার ১৩৮ কোটি রুপি!

এই পরিমাণ অর্থ দিয়েই ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে ভারতীয় ক্রিকেটের টিভি স্বত্ব কিনেছে স্টার ইন্ডিয়া। সনি পিকচার্স নেটওয়ার্ক এবার জোর লড়াই করেছে। শেষ পর্যন্ত ৬ হাজার ১১৯.৫৯ কোটি রূপি দর তুলেও টিকতে পারেনি।

এর আগে ২০১২-২০১৮ মেয়াদে ৩ হাজার ৮৫১ কোটি রুপিতে টিভি স্বত্ব কিনেছিল স্টার। এবারের মেয়াদে অর্থ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ।

নতুন মেয়াদে ছেলেদের জাতীয় দলের ১০২টি ম্যাচ পাচ্ছে স্টার। ম্যাচ প্রতি স্টার দিচ্ছে গড়ে ৬০ কোটি রুপি। তারা এই পরিমাণ অর্থ খরচ করে আবারও লাভও করবে অনেক। ম্যাচ প্রতি তাহলে তাদের আয় কত হবে!

ছেলেদের জাতীয় দলের পাশাপাশি মেয়েদের ম্যাচ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কিছু ম্যাচও থাকবে।

এছাড়া আইপিএলের স্বত্ব তো স্টার গতবছরই কিনে নিয়েছে। ২০১৮-২০২২ মেয়াদে আইপিএলের জন্য দিচ্ছে তারা ১৬ হাজার ৩৪৭.৫ কোটি রুপি। ম্যাচ প্রতি গড়ে সাড়ে ৫৪ কোটি রুপি (এছাড়া ২০১৫-২০২৩ মেয়াদে আইসিসি টুর্নামেন্ট গুলোর স্বত্ব আগেই কিনেছে তারা ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে)।

অথচ ১৯৯২ সালে ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য উল্টো বিসিসিআইয়ের কাছে ৫ লাখ রুপি দাবী করেছিল দূরদর্শন! সেই চিত্র পরে পাল্টেছে। কোত্থেকে কোথায় চলে গেছে! ২০০৬ সালে নিম্বাসের আগমণ দিয়ে টাকার অঙ্ক চোখ কপালে তোলা পর্যায়ে যাওয়ার শুরু। স্টার সেটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে প্রতি মেয়াদে।

আসলে নিম্বাস বা স্টার নয়, ভারতীয় ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় উঠছে বলেই ব্রডকাস্টাররা জলের মত পয়সা খরচ করতে ভাবছে না। মাঠের পারফরম্যান্সের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি বিসিসিআইয়ের মার্কেটিং পলিসিও নিশ্চয়ই বড় ভূমিকা রাখছে (এসব শুধু টিভি স্বত্ব, জার্সি স্পন্সর, টাইটেল স্পন্সরসহ অন্যান্য খাত বাদই দিলাম)।

ভারতের বাজারের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। সেটা করছিও না। তবে ক্রিকেট তো বাংলাদেশেও সবচেয়ে আকর্ষণীয় পণ্য! বিজ্ঞাপনের বাজারে শীর্ষ ক্রিকেটাররা যা চাইছেন ও পাচ্ছেন, তার ধারেকাছে নেই অন্য মডেলরা।

দলের খেলা থাকলে পুরো দেশ স্থবির হয়ে পড়ে প্রায়। তো এই পণ্যের ওজন আমাদের বোর্ড কতটা অনুধাবন করতে পারছে? কতটা কাজে লাগাতে পারছে? আকর্ষণীয় পণ্যটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কতটা পেশাদারীত্ব ও সৃষ্টিশীলতা দেখাতে পারছে আমাদের বোর্ড বা মার্কেটিং টিম? যতটা পাওয়া উচিত, টিভি স্বত্ব থেকে ততটা আদায় করতে পেরেছে বোর্ড? নিম্বাসের কাছে পাওনার কথা বাদই দিলাম, ভবিষ্যতে পারবে?

সত্যিই পারলে কিন্তু গাজীর দুয়ারে ঠেকতে হতো না!

– ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।