আস্থার দেয়াল যেন ভেঙে না পড়ে

নিদাহাস ট্রফি প্রায় শেষের পথে। আর দুটো ম্যাচ পর পর্দা নামছে এ টি-টোয়েন্টি আয়োজনের। হঠাৎ করে আয়োজন করে শ্রীলঙ্কান বোর্ড খুব একটা খারাপ করেনি। খরার মাঝে একটি জয়, তাও আবার রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়ে; বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম নয়। ভাবছেন এখনই বাংলাদেশের রেকর্ড নিয়ে রেকর্ড বাজাচ্ছি কেন? খেলা তো আরেকটা এখনো বাকি। জানি, খেলা বাকি; তা নিয়েই তো আমার ভয়। আমরা যতোই বলিনা কেন জয় পরাজয়ে দলকে সাপোর্ট করি আসলেই কি তাই?

দিনের পর দিন ম্যাচ হারলে নানা মুনির নানা মত পাওয়া যায়। অলি-গলিতে দেখা যায় সমালোচক, যিনি কখন‌ো ব্যাট হাতে নেননি তিনিও বনে যান সবজান্তা। আমরাও মাথা নাড়ি, ঠিক ঠিক।

কখনো ভেবে দেখেছেন যে ছেলেটা কাক-ডাকা ভোরে আরামের ঘুম ছেড়ে ট্রেনিং-এ যায়, ঘন্টার পর ঘন্টা নেটে ঘাম ঝরায়, মাঠে খারাপ করলে তার কেমন লাগে? আপনি কি পারবেন কোন সম্মুখ সমালোচনা সহ্য করতে? আমি নিজেই হয়তো পারবোনা, আর ওরা দিনের পর দিন হাজার হাজার দর্শকের গালি হজম করছে। ফেসবুকে বা টুইটারে মনমতো কোন পোস্ট দেয়ার আগে দশবার ভাবে, দর্শক কিছু বলবে নাতো?

সব সহ্য করে তারা খেলে যায়, জয়ের স্বপ্ন দেখাতে চায় সেই দর্শকদের যারা একটি-দুটি খারাপ ম্যাচের জন্য বাবা-মা তুলে গাল দেয় তাদের। জিততে পারলে তারা হিরো, না পারলে জিরো। প্রফেশনালিজম শুধু ক্রিকেটারদের নয় দর্শকদের জন্যও প্রযোজ্য।

লিটন দাশ ক্রমাগত সমালোচিত হচ্ছিল আশানুরূপ পারফরম্যান্স না দেখাতে পারায়। রেকর্ড গড়া জয়ের ম্যাচে সে জ্বলে উঠলো, ফলাফল বাংলাদেশের জয়। শুরু হলো লিটন বন্দনা। পরের ম্যাচে সে এমন ভুল করে বসলো যা তাকে আবার সমালোচনায় ফেলে দিল।

লিটন এখন আবার ভিলেন হবার পথে। সৌম্যকে নিয়েও এমন হয়েছে। মানুষের সমালোচনা সহ্য করে নিজেকে গড়ে তোলা সবার পক্ষে সম্ভব হয়না। সাব্বিরের মতো হিটারও সেপথে যাচ্ছে। আফতাব, অলক কাপালী হারিয়ে গেছে অকালে; এদেরও কি সে হাল হবে? হতে দেয়া যায়?

আমরা কিছু হলে বোর্ডকে দোষারোপ করি। কিছুটা তাদের দায় তো আছেই, আমাদের কি কম? মিডিয়া তাই লেখে যা মানুষ চায়। আমরা যা চাই তাই লিখে চলে মিডিয়া, মনগড়া রিপোর্টও হয়তো হয়। টিআরপি বাড়ে, আমরা সমালোচনায় মুখর হয়ে আড্ডায় ক্রিকেটজ্ঞ বনে যাই। আর ক্ষতিটা করে দেই সেসব ক্রিকেটারের, ভবিষ্যতে নিজেকে তৈরী করার সাহসটুকু ক্ষয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।

খেলায় একদল জিতবে আরেকদল হারবে। আমরা হারতেও পারি জিততেও পারি। আরেকটি সেমিফাইনাল ভেবে জয়ের জন্য উন্মুখ হতে পারি, হবো। দলকে উৎসাহ দেব গলা ফাটিয়ে, চার-ছয় মারলে হাততালি দেব; আউট হলে মন খারাপ করবো; বোলার মার খেলে চুপ থাকবো, আউট করতে পারলে আনন্দ করবো।

কিন্তু, আস্থা হারাবো না। ওরা যতোই খারাপ খেলুক ওদের ওপর বিশ্বাস রাখবো। আস্থার দেয়ালে কোন দাগ লাগতে দেব না, আমাদের ভালোবাসাকে নাজুক হতে দেব না; পথ হারাতে দেব না বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।