ট্রলম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন

অনলাইনে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ট্রলিংয়ে সুনির্দিষ্ট যে কী-ওয়ার্ডগুলো ব্যবহৃত হয়, শীর্ষ দশ বাছাই করলে সেখানে গতি দানব, গুটিদানব, খামাসু এই তিনটি শব্দ থাকবেই। মজার বিষয় হলো তিনটি কী-ওয়ার্ডই একই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ, যাকে আমরা সুজন নামেই চিনি।

ডেটানুসারে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ট্রলিংয়ের যদি র‍্যাংকিং করি সেখানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ওপেনার ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, শুভাগত হোম, ফরহাদ রেজা, আশরাফুল, ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী- আতহার আলী-জাফরউল্লাহ শরাফত প্রমুখ থাকবেন।

তবে এদের মধ্যে আশরাফুল আর লিটন দাস এর অবস্থান কিছুটা আলাদা। ট্রলিংয়ের পাশাপাশি এদের ফ্যান গোষ্ঠীও নেহায়েত ক্ষুদ্র নয়।

সমালোচনা আর ট্রলিং সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। সমালোচনা করতে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে গভীর পর্যবেক্ষণ থাকতে হয়, এজন্য তাকে স্টাডি করার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রল করতে এসব কিছুই লাগে না, যা মন চায় বলে দেয়া যায়।

ফেসবুকের উগ্র জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম অংশই সমালোচনার লাইনে না হেঁটে জাদরেল ট্রলবাজ প্রজন্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কেবল ক্রিকেট নয়, এই ট্রলবাজ গোষ্ঠী শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি-ব্যবসা সকল ক্ষেত্রের মানুষকে নিয়েই ট্রল করে। ট্রলিংকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছে অনেকে। আমাদের গড় মানুষের বিনোদনের কীরকম সংকট আর সেন্স অব হিউমার কতটা নিম্নস্তরের তা এই সমস্ত ট্রলিং পেজের আস্ফালন দেখেই ধারণা করে নেয়া যায়।

ট্রলিং র‍্যাংকিংয়ে সুজনের চাইতে উপরে তো বহুদূর, তার ধারেকাছেও কেউ নেই। ১৩ বছর আগে যে ক্রিকেটার অবসরে চলে গেছেন, এখনো তার ক্রিকেটিং স্কিল কীভাবে ট্রলিং কিংবা সমালোচনার বিষয় হয় এটা দীর্ঘদিন আমার বিস্ময়ের জায়গা ছিল।

২০০০ সালের পূর্বে বাংলাদেশের হয়ে যারা ক্রিকেট খেলেছেন এদের মধ্যে আমার সর্বাধিক পছন্দ ওপেনার শাহরিয়ার বিদ্যুৎ, পর্যায়ক্রমে থাকবে আতহার আলি, সিমার সাইফুল ইসলাম, স্পিনার রফিক। আল শাহরিয়ার রোকনের শটগুলোর কারণে তার প্রতি ভালো লাগা কাজ করতো, অপিকে সম্ভাবনাময় মনে হতো।

এদের বাইরে প্রত্যক ক্রিকেটারকে দেখেই মনে হতো, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখনো ১৯৫০ এর দশকে পড়ে আছে। আকরাম, বুলবুল, পাইলট, হাবিবুলদের পারফরম্যান্স চলনসই হলেও ক্রিকেটার হিসেবে নজর কাড়ার মতো লাগেনি আমার। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দৈন্য বিবেচনা করে এটাকে মেনে নিয়েছিলাম। এর মধ্যেও কয়েকজন ক্রিকেটারকে দেখে কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারতাম না এরা কীভাবে জাতীয় দলে খেলে। প্রথমেই দৃষ্টি পড়তো স্পিনার এনামুল হক মনির দিকে; ইনি কিসের স্পিনার!

পেসার মঞ্জুরুল, স্পিনার সুমিত, স্পিনার দুর্জয়, এরা যেন ক্রিকেটের চাইতে কমেডিই বেশি ছিল। তবে তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল সুজন। ব্রায়ান লারা যে ম্যাচে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেন, গ্যালারি থেকে উত্তেজিত দর্শক সুজনের উদ্দেশে জুতা প্রদর্শন করেছিল, বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটারকে এমন নির্মম অপমান হজম করতে হয়নি সম্ভবত।

তবু আমি ২০০০ এর পূর্বে জাতীয় দলের হয়ে খেলা প্রত্যেক ক্রিকেটারকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই। তারা নিজেদের ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের চিন্তা না করে কেবলমাত্র ভালোবাসার টানে খেলাটাকে আকড়ে ধরেছিলেন বলেই আজকের সাকিব, মুশফিকরা দেশের শীর্ষ সেলিব্রিটি এবং ধনাঢ্য এথলেট। সাকিব বা মুশফিকদের চাইতেও খেলাটার প্রতি সেই সমস্ত ক্রিকেটারের ডেডিকেশন নিঃসন্দেহে অনেক গুণ বেশি ছিল। ঘাটতি ছিল সামর্থ্যে আর সুযোগ-সুবিধায়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট আরো ১০০ বছর পুরনো হলেও দুটি জয়কে আমি অতুলনীয় অবস্থানে রাখবো।

১. আইসিসি ট্রফিতে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচে জয়, যার মাধ্যমে সেমি ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবং স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

২. ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়া। গুরুত্ব বিচারে এটি নেদারল্যান্ডকে হারানোর চাইতেও অনেকখানি এগিয়ে থাকবে, কারণ বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ক্ষেত্রে এই জয়ের সরাসরি অবদান ছিল। কেনিয়া সেসময় বাংলাদেশের চাইতেও সম্ভাবনাময় ছিল, নেদারল্যান্ড বাংলাদেশেরও আগে বিশ্বকাপে খেলে, একই আসরে অংশ নেয়া স্কটল্যান্ড – এরা প্রত্যেকে এখনো ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে মাটি খুঁজে পায়নি, এবং টেস্ট স্ট্যাটাস না পেলে বাংলাদেশের পরিণতিও ভিন্নতর হতো না আদৌ। এই ম্যাচটা জিতিয়েছিলেন সুজন।

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এখনো পর্যন্ত সবচাইতে বেশি আফসোস হয় মুলতান টেস্ট নিয়ে, জিততে গিয়েও জেতা হয়নি। কিন্তু সেই ম্যাচের স্কোরকার্ডটা যদি দেখে থাকেন, জিতে গেলে সেই ম্যাচের সেরা পারফরমারের পুরস্কারটাও সুজনের পাওয়া অনেকটাই অবধারিত ছিল।

সুজন আদতে কেমন ক্রিকেটার ছিলেন? তিনি একজন স্টক বোলার যিনি ৪র্থ বা ৫ম বোলার হিসেবে ৭-৮ ওভার বোলিং করবেন এবং ৭-৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫-৩০ রান করে দিবেন। তাকে বলা যেতে পারে একজন মিনি অলরাউন্ডার। ১৯৯৮ এর ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে অভিষেক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪৭ বা ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছিলেন একটা। এমনকি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওপেন করেছিলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে পেসার শান্ত, মঞ্জুকে বসিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে বসে থাকা শফিউদ্দিন বাবু আর নিয়ামুর রশিদ রাহুলকে সুযোগ দেয়ার দরুণ বোলিংয়েও ওপেন করতে হয়েছিল।

তখনকার মানদণ্ডেও মিনি অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি সন্তোষজনক ক্রিকেটার ছিলেন না, যে কারণে অনবরত বাদ পড়েছেন দল থেকে। তবু ফিরে এসেছেন, এবং মিডিয়া তাকে ফাইটার নামে ডাকতো।

স্কিলের ঘাটতি থাকলেও তৎকালীন অধিকাংশ ক্রিকেটারের তুলনায় তার সাহস বেশি ছিল।

দলে তার নিক ছিল চাচা, কেন এই নিকে ডাকতো সে ব্যাপারে অথেনটিক তথ্য না পেলেও আমার ধারণা অল্প বয়সে বিয়ে করার কারণে সতীর্থরা হয়তো দুষ্টুমি করে চাচা ডাকতে শুরু করেছিল, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে যায়।

ক্রিকেটার হিসেবে যেমনই হোক সুজন মিডিয়া ম্যান হিসেবে যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। তাকে মিথিকাল ফাইটার ক্যারেক্টার বানানোর সমস্ত কৃতিত্বই মিডিয়ার, তাদের ব্যাক আপ ছাড়া হয়তোবা তার পক্ষে এতোবার দলে কামব্যাক করার সুযোগ আসতো না, এবং এখনো পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে মাঠ থেকে অবসর নেয়া হতো না।

সুজন যে সময়ে খেলতেন তৎকালে মিনি অলরাউন্ডার হিসেবে তার চাইতে বেটার অপশনও খুব বেশি ছিল না। মুশফিক বাবু আসার পর তার কদর কমে গিয়েছিল।

পৃথিবীতে কোনোদিনই মিনি অলরাউন্ডাররা জনপ্রিয় হয়নি, দর্শক তাদের আমলে নেয় না, যদিও টিম কম্বিনেশনে তারা গুরুত্ব রাখে। দর্শক তাদের আমলে না নিলেও অপছন্দ বা নিন্দা করে না। সুজন এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম, তিনি রীতিমতো নিন্দিত চরিত্র।

মিনি অলরাউন্ডারের অধিনায়ক বনে যাওয়া এবং টেস্ট খেলা এই বিতর্কে আরো ইন্ধন যুগিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুজন আপৎকালীন সমাধান হয়ে আসছেন অনেক আগে থেকেই। আকরাম খান অধিনায়কচ্যুত হলেন, নতুন অধিনায়ক বুলবুল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে সহ অধিনায়ক কাকে করা যায়? সুজনকে বানিয়ে দাও।

২০০৩ বিশ্বকাপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের কলংকজনক অধ্যায়৷ মাঠের পারফরম্যান্সের চাইতেও অধিনায়ক পাইলটের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, নাইটক্লাবে যাওয়া, এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দলের অবস্থা লেজেগোবরে; পাইলটকে নাহয় বরখাস্ত করা হলো, অধিনায়ক কে হবে?

সেই সময়ের দলে একজন ক্রিকেটারও ছিলো না যাকে দায়িত্ব দেয়া যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সুজনই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ক্রিকেটিয় পারফরম্যান্স নয়, ম্যানেজারিয়াল দক্ষতার কারণে। সেই সময়ের পেপার-পত্রিকা ঘাঁটলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত ইনসাইট পাওয়া যাবে, এবং সুজনের পরে হাবিবুল যখন অধিনায়ক মনোনীত হয়, প্রথম আলো প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনাম করেছিল ‘পারফরম্যান্সের জয়’।

সুজনকে অধিনায়ক হিসেবে বিদেশী ধারাভাষ্যকার বা সাবেক ক্রিকেটাররাও মেনে নিতে পারেনি, প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে। একবার কোনো এক ম্যাচে সুজন আউট হওয়ার পর ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন – ‘he bats at no 10, bowls only few overs, still he is in the team, and he is the captain of the team!’

আরেক বিদেশি সাবেক ক্রিকেটার সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ‘তোমাদের দলে বেশ কিছু ভালো ক্রিকেটার আছে, কিন্তু অধিনায়ক খুবই দুর্বল। মাহমুদকে সরিয়ে দাও।’

সাকিব যদি অধিনায়ক হতে না চায় একবার ভাবুন তো বর্তমান স্কোয়াডে অধিনায়ক কে হতে পারে? বিসিবি তখন এক জটিল সমস্যায় পড়ে যাবে, এবং যাকেই অধিনায়ক করুক শেষ পর্যন্ত, একটা উল্লেখযোগ্য সময় পর্যন্ত তাকে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সুজনের অধিনায়ক হওয়াটাও প্রক্সি দেয়া বা আপৎকালীন ব্যবস্থা বলা যেতে পারে।

কিন্তু ২০০৩-০৪ এর সময়টাতে যারা বাংলাদেশের খেলা অনুসরণ করতেন, এবং মাঠের বাইরের ঘটনাবলীও পর্যবেক্ষণ করতেন, তারা একটু স্মরণ করতে চেষ্টা করুন সুজনের প্রেস কনফারেন্সগুলো। ওরকম স্মার্টলি কথা কোনো বাংলাদেশি অধিনায়ককে বলতে শুনেছেন?

কিংবা যাদের স্মৃতিশক্তি আরো ভালো, তারা স্মরণ করুন সুজন বাংলাদেশের ২-১টা ম্যাচে ইংরেজিতে কমেন্ট্রি দিয়েছিল; আতহার বা শামীম চৌধুরীর সাথে তুলনা করলেই কোয়ালিটির পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারই শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে, যারা শিক্ষিত তারা খেলা ছেড়ে অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়েছে। যারা দলীয় রাজনীতি করে তারা বোর্ডে জায়গা পেয়েছে। তো এইসব দলীয় রাজনীতির আজ্ঞাবাহীদের মধ্যে মাঠ বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সুজন স্মার্টনেস আর যোগ্যতায় এগিয়ে। বিসিবি তো আদতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, তাদের পেইড সিইও আছে, অর্গানোগ্রাম আছে, ছুটি-ছাটার ইস্যু আছে।

যাদের চাকরির অভিজ্ঞতা আছে তারা মাত্রই জানবেন, অফিসে কিছু লোক কেবলমাত্র বসের মনোরঞ্জন দিয়েই চাকরি রক্ষা করে, যে বা যারা কিছুটা দক্ষ ঘুরেফিরে সব কাজেই তাদের নিযুক্ত করা হয়, যে কারণে তাদের কাজের লোড অনেক বেশি হয়ে যায়। এর বাইরে তৃতীয় একটি শ্রেণি থাকে যারা কাজে যেমন দক্ষ, তেমনি কীভাবে ক্যারিয়ারে উপরে উঠা যায় বা ক্ষমতা পাওয়া যায় সেই রাজনীতিতেও সক্রিয়, এরাই মূলত অফিসের মাফিয়া হয়ে উঠে। সুজনকে তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত করা যেতেই পারে।

সুজন একই সাথে বিসিবির পরিচালক, বেশ কয়েকটি টিমের কোচ, আবার জাতীয় দলের ম্যানেজার, এবং ক্ষেত্রবিশেষে আপৎকালীন হেড কোচও। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পদ আছে যা একটা অপরটার সাথে সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ঘটায়।

কিন্তু ট্রলপ্রিয় ব্রেইনলেস গোষ্ঠী সেই সকল গভীর তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়ে তার কবেকার কোন ক্রিকেট স্কিল সেটাকেই তার পরিচয় ধরে নিয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির ব্যাপারটা এড়িয়ে যাচ্ছে। তার সময়ে যারা মূল বোলার ছিল তারাই বা এমন কি আহামরি দ্রুতগতির পেসার ছিলেন। কিংবা কিছুদিন আগে সর্বকালের অযোগ্য টেস্ট একাদশে সুজনের স্থান পাওয়া নিয়ে খুব হাসাহাসি হলো। সুজন টেস্ট খেলেছে কয়টা যে কারণে সে এই তালিকায় আসতে পারে। ২০০৩-০৪ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট নিশ্চয়ই এতোটা স্মার্ট ছিল না যে ফরম্যাট অনুযায়ী পৃথক অধিনায়ক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিবে।

উপরন্তু এইসকল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সংগঠক এবং প্রশাসক সুজনকে রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রশ্ন উঠে না, সুজনের কী কী যোগ্যতা আছে যার কারণে তিনি এতগুলো পদে থাকেন, সেই যোগ্যতাগুলোর তালিকা করে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো কয়েকজন দক্ষ সুজন তৈরি করা হচ্ছে না কেন?

কিংবা আপৎকালীন কোচের প্রসঙ্গ এলেই সুজন চলে আসেন, তিনি কোন লেভেল পর্যন্ত কোচিং করেছেন? ভালো কোচ হওয়ার জন্য ভালো ক্রিকেটার হওয়া একেবারেই আবশ্যক নয়, ইন্টারন্যাশনাল কোচকে ভালো ট্যাকটিশিয়ান এবং ট্যালেন্ট ম্যাক্সিমাইজ কৌশল আর হিউম্যান ম্যানেজমেন্টে দক্ষ হতে হয়; এগুলোর কোনটাতে সুজনের যোগ্যতা প্রমাণিত ফ্যাক্ট?

তবে বিপিএল এ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস এর কোচ থাকাকালে তিনি মোহর শেখ, নাঈম শেখ, আলিস সহ বেশ কিছু নতুন ট্যালেন্টকে সুযোগ দিয়েছিলেন, যা প্রশংসনীয়।

কিংবা নিউজিল্যান্ড সফরে খালেদ মাসুদ পাইলট ম্যানেজার ছিলেন, বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার সংবাদ এসেছে অনলাইন পোর্টালে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে খেলোয়াড়দের নাগিন ড্যান্স ক্রিকেটিয় দৃষ্টিকোণে অসভ্যতা লাগলেও, সুজনেরও তাদের সাথে শামিল হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা বুঝা যায়- তিনি জেনারেশন গ্যাপ মানেন না, মিশে যেতে পারেন যে কোনো প্রজন্মের সাথেই।

একজন অতি নিম্ন-মধ্যম ক্রিকেটারের ক্রিকেট বাণিজ্যের হর্তা-কর্তা হয়ে উঠা মানতে খারাপ লাগে, নাকি সাকিব বা মাশরাফি যদি সুজনের মতোই এতগুলো পদে আসীন থাকে সেটা মানতে আপত্তি থাকবে না? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি সংগঠক এবং পারফরমারের ভূমিকাই বোঝেন না, আর যদি ‘না’ হয় তাহলে প্রক্রিয়ার সমালোচনা করুন, ব্যক্তির নয়।

যখনই আপনি গতিদানব, গুটিদানব, খামাসু এর মতো লেইম কী-ওয়ার্ড নিয়ে ট্রল করছেন, তখনই নিজের লেভেল নামিয়ে ফেলেছেন; আপনি ক্রিকেট বুঝেন না, রাজনীতি বুঝেন না, এমনকি ভালো-মন্দ বোধ বা রুচিও তৈরি হয়নি আপনার মধ্যে। আপনি দলগতভাবে হেঁটে চলা একটি নাদুস-নুদুস মেষশাবক মাত্র!

এবং আপনাদের পৃষ্ঠপোষকতা আর মদদেই সুজনরা নিজেদের অনিয়মগুলোকে হালাল করে নেয়। ট্রল করতে গিয়ে আদতে যে নিজেই সার্কাসের জোকার সেজেছেন এবং প্যান্টের ছিদ্র বড়ো হতে হতে সেই ছিদ্র দিয়ে ব্যাঙ ঢুকে পড়েছে আর এশিয়া মহাদেশের মানচিত্র বা হেমা মালিনীর হাসির মতো প্রকাশ্য হয়ে গেছে আপনার পশ্চাদ্দেশ, সেই বোধ আর হবে না আপনার!

এর চাইতে ট্রল করা কত সহজ! পাপোন্দা, কায়েস ব্রো, গতিদানব, ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী লিটন, সুমাইয়া সরকার, গুটিদানব – কেয়ামত ঘটে যাওয়ার পরও নামের তালিকা ফুরোবে না।

একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ট্রলিং ইউনিভার্সিটি গড়ে উঠবে এই চিরযৌবনা বাংলার বুকে সেই প্রত্যাশায় ক্রাউন সিমেন্টের বিজ্ঞাপন দেখতে থাকি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।