মহারাজা, তোমারে সেলাম!

একে একে মাঠে নামছেন ক্রিকেটাররা। লর্ডসের করিডর ধরে। চারপাশে নানাবয়সী অসংখ্য দর্শক। আছেন ক্ষুদে ভক্তরাও। ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলেন একজন অতিমানবও। তাঁকে দেখে ওই ক্ষুদে ভক্তদের চোখে মুখে কি বিস্ময়। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির সুবাদে এমন একটা ছবি খুব ভাইরাল হয়েছে।

এতদিন চোখের সামনে ক্রিকেট মহাতারকাদের দেখলে এমন অবাক হতাম। ঢাকার মাঠে শচিন টেন্ডুলকার, সনাথ জয়াসুরিয়া কিংবা ওয়াসিম আকরামদের দেখলে কত উৎসুক জনতা যে ভিড় করতো তার কোনো সীমা পরিসীমা নেই।

সেই সময় হয়েছে বাসি। সময় এখন আমাদের। আইসিসির স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটির সাবজেক্ট তাই আর কেউ নন, আমাদের সাকিব আল হাসান। সম্ভবত এই বিশ্বকাপে সাকিবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বিশ্বকাপে আসার পর থেকেই সাকিব বলে এসেছেন, ‘নিজেকে কিংবা নিজের দলকে প্রমাণের তাগিদ ছিল ভিতরে ভিতরে।’ সেটা করতে গিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সাকিব আক্ষরিক অর্থেই হয়ে উঠেছেন এক মহামানব।

৬০৬ রান করেছেন। ১১ টি উইকেটও নিয়েছেন। ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন অনন্য ‘ওয়ান ম্যান শো’র নজীর আর নেই! বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দলকে নিয়ে যেতে পারেননি, তবে অনেকগুলো মাইলফলক ছুঁয়ে তবেই বিদায় নিয়েছেন বীরের বেশে। সাকিব এখন ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপের এক আসরে ৬০০ রান ও ১০-এর বেশি উইকেট পেয়েছেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন সাকিব। ২০০৩ সালে শচিন গ্রুপ পর্বে ৫৮৬ রান করেছিলেন। এবার সেই লিটল মাস্টারের ১৬ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন সাকিব। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে শচিন ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেনের পর সাকিবই একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি এক আসরে ৬০০’র ওপরে রান করেছেন। শচিন ২০০৩ বিশ্বকাপে ৬৭৩ ও হেইডেন ২০০৭ বিশ্বকাপে ৬৫৯ রান করেছিলেন।

সাকিব শচিনের পর বিশ্বকাপের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপের এক আসরে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি এক আসরে নিজের খেলা সবগুলো ম্যাচেই চল্লিশোর্ধ্ব রান করেছেন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের রেকর্ডে কুমার সাঙ্গাকারার পাশে বসেছেন সাকিব। সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক বিশ্বকাপে ১২ টি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন। সাকিবও তাই।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় নয় নম্বরে চলে এসেছেন সাকিব। তালিকায় তার ওপরের আট জন হলেন – শচিন টেন্ডুলকার (২২৭৮), অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (১৭৪৩), শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (১৫৩২), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা (১২২৫), দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (১২০৭), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (১১৮৬), শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া (১১৬৫) ও দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস (১১৪৮)।

সাকিবের নাম এখন থেকে এমন কিংবদন্তিদের সাথেই নিয়মিত উচ্চারিত হবে। আমাদের জন্যও এই সাকিব নতুন একজন, যাকে দেখে আমরা ওই ব্রিটিশ শিশুদের মত অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবো। আর বলবো – মহারাজা, তোমারে সেলাম!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।