ট্রিট কালচার ও আমাদের অন্তহীন ক্ষুধা

নুহাশ হুমায়ূনের ৭০০ টাকা দেখলাম। ভালো লেগেছে। অভিনয়, এবং ভেতরের অন্যান্য মালমশলা নিয়ে বিশদ আলোচনায় যাবো না। কারণ এর মেসেজটা সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। আমাদের এই ফুটানিচর্চিত চচ্চরি শহুরে সমাজের গালে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর মারা হয়েছে। এর দরকার ছিলো।

আমি নিজে এই নীতি মেনে চলি, এবং এভাবেই চলবো। প্রেম করেছি রিকশায় ঘুরে, ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসে। এখন দুজনেই চাকরি করি। সপ্তাহে একদিন একসাথে কফি খাবার চেষ্টা করি। আর টিউশনি করা পোলাপান ৭০০ টাকা নিয়ে যায় ডেটিংয়ের খানাপিনার জন্যে! ফাইজলামি! শুধু গার্লফ্রেন্ড বলে কথা না, এখন কিছু হলেই, ট্রিট দেন!

ভাই নতুন মোবাইল কিনছেন, ট্রিট দেন!

নতুন শার্ট গায়ে দিছেন, ট্রিট দেন!

ফেসবুকে অনেকগুলা লাইক পাইছেন, ট্রিট দেন!

নতুন চাকরি পাইছেন, ট্রিট দেন!

আরে, চাকরি পাইছে, বেতন পায়া সারে নাই তোমাদের এখন ট্রিট দিবে? মামা বাড়ির আবদার! আর ট্রিট আবার একজনকে দিলে চলবে না, এখন তো মোবাইল কোম্পানিগুলা শিখাইছে, বন্ধু-আড্ডা-মজা- এটাই জীবন! সুতরাং কেউ যদি লজ্জার মাথা খায়া ট্রিট দিতে রাজি হয়ও, তাহলে তাকে আপনার মত আরো দুয়েকটা গাধার পাকস্থলীর ভার বহন করতে হবে, কারণ আপনি ট্রিট দেয়ার খবর ইতিমধ্যেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন।

আগে ছিলো- ভাই খাওয়ান। ভাই কিছু ডাইলপুরি বড়জোর একটা মোগলাই পরোটা খাওয়ায় দিলেই হয়া যাইতো। কিন্তু এখন তো আবার ট্রিটের যুগ! এসির বাতাস আছে, বাহারী নামের খাবার আছে, এমন জায়গায় যেতে হবে। আর যদি জন্মদিন হয় তাহলে তো কথাই নাই! বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ব্র্যান্ডের খাবার খাইতে পারলে যেন জন্ম সার্থক হয়!

পোলাপাইন, নিজেদের সম্মান করতে শেখো। তোমার বন্ধুবান্ধবের সাথে তাল মিলায়া চলতে গিয়ে বাস্তবতা অস্বীকার করে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে অসম্মান করো না। তোমাদের ঠিকমত খাওয়াইতে নিজেদের ভালো ভালো খাবার বিসর্জন দিতে হয়েছে অনেক বাবা-মাকে। এখন তোমরা বান্ধবীকে ঠিকভাবে ট্রিট দেয়া হচ্ছে কি না এই টেনশনে যদি নিজেদের ছোট করে রাখো, তাহলে তাদের কেমন লাগবে ভাবো?

প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধবকে নিজের অবস্থা খুলে বলো, শেয়ার করো সবকিছু। দেখবা হালকা লাগবে। ওরাও তোমাকে রেসপেক্ট করবে। আর যদি না করে, তাহলে নতুন বন্ধুবান্ধব খুঁজে নাও। জীবন কারো জন্যে থেমে থাকে না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।