মডেল তিন্নি: এক বেদনাবিধুর ও নৃশংস ট্র্যাজেডি

১৯৯৯ সালের কথা। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মেয়েটি। সেখানে অবস্থান ছিলো ষষ্ঠ। এরপর ম্যাগাজিনে ফ্যাশন সংখ্যায় মডেল হলেন। এমন সময় পরিচয় ঘটে এক ফ্যাশন ডিজাইনারের সাথে। কাছে আসা, পরিণয়। প্রথম আলোর নকশা, সাপ্তাহিক ২০০০ এর ফ্যাশন সংখ্যা, ডেইলি স্টারের ঈদ ফ্যাশন সংখ্যায় দেখা গেল।

২০০০ সালে আফজাল হোসেনের পরিচালনায় হেনোলাক্স কমপ্লেক্সন ক্রিমের মডেল হলেন। উঠে এলেন দর্শক এর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকেই জানতে চাইলেন ঐশ্বরিয়ার মত দেখতে এই মেয়েটি কে?

তিনি হলেন তিন্নি। পুরো নাম সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। ঢাকায় তাঁর জন্ম হয় ১৯৭৮ সালে।

বেশ কিছু পণ্যের মডেল হলেন ওই সময়। তারকা খ্যাতি পেলেন, সপ্তম আকাশে উড়লেন। কিন্তু ঐশ্বরিয়া নয়, তানিয়া মাহবুব তিন্নি হতে চেয়েছিলেন নিজের মত। ২০০১ সালে মোহন খানের পরিচালনায় ‘মেঘবতী’ নাটক করলেন মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে।

তারপর মা হলেন। কিন্তু, সেটা নীরবে, নিভৃতে। তিন্নি এই খবর জানাতে চাইলেন না মিডিয়ায়। এরই মধ্যে বাদল খন্দকারের ‘বৃষ্টির চোখে জল’ নামের ছবিতে তিন্নি শাহেদের বিপরীতে অভিনয়ের কথা শোনা গেল। তিন্নি বলেছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী আনন্দ-কে, ‘আমি কিন্তু সিনেমায় নামবো না, উঠবো।’

প্রথম আলোর প্রয়াত সাংবাদিক রোজিনা মুস্তারিন টুশি ছিলেন তিন্নির কাছের মানুষ। কিন্তু তিন্নির বাংলা ছবিতে অভিনয় করা সেই পর্যন্ত। তারপর আর এগোয়নি। এরমধ্যে ভারতের ‘প্রিয় সাথী’ মুভিতে শাহেদের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও শ্যুটিংয়ের দিন তাঁকে পাওয়াই গেল না।

তিন্নি ও তাঁর মেয়ে আনুশকা

২০০২ সালের নভেম্বর মাসে বুড়িগঙ্গা থেকে লাশ উদ্ধার হয় তিন্নির। সাংবাদিকদের কাছে সন্তানের জন্মের বিষয় অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

প্রশ্ন হলো, সিনেমায় অভিনয় করতে গেলে কেন বিয়ে, সংসার, সন্তান বিষয়গুলো লুকোতে হয়? এটাই কেন রেওয়াজ? অভিনেত্রী হলে একজন যদি সব দিক দিয়ে যোগ্য হয় তাহলে তিনি বিবাহিত ও সন্তানের মা হলে অসুবিধা কোথায়? প্রাচীন ধ্যান-ধারণা বুকে চেপে রেখে কি এগোনো যায়?

এদেশে সন্তানের মা হয়েও দোর্দণ্ড প্রতাপে যুগের পর যুগ নায়িকা হয়েছেন এমন উদাহরণ কি নেই? তবে কেন এই লুকোছাপা র প্রয়োজন?

তিন্নির মেয়ের নাম আনুশকা। দিকে তাকিয়ে দেখুন, সে বঞ্চিত হয়েছিল মাতৃস্নেহ থেকে আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে। দেশ হারালো একজন সম্ভাবনাময়ী মডেল ও অভিনেত্রীকে। এমন নৃশংস ট্র্যাজেডির শিকার যেন আর কাউকে হতে না হয়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।