বিশ্বকাপ মাতানো বোলার কিংবা আড়ালের নায়ক

আধুনিক যুগের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদেরই জয় জয়কার থাকে। বিশ্বকাপের মত বড় টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। ব্যাটসম্যানরাই লাইমলাইটে থাকেন। তবে সেরা ও সবচেয়ে বৈচিত্রময় বোলিং আক্রমণই বিশ্বকাপ জেতায়।

১৯৭৫ ও ১৯৭৯ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ১৯৮৩ ও ২০১১ আসরে ভারত কিংবা ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া প্রতিবারই শিরোপা জিতেছে তাদের শক্তিশালী বোলিং ইউনিটের কারণে। ফলে, বলা যায় বোলাররাই এখানে আড়ালের নায়ক। বিশ্বকাপের মঞ্চের সেরা সেসব হিরোদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

৫.

জহির খান ও জাভাগাল শ্রীনাথ (ভারত)

ভারতীয় দুই কিংবদন্তী ফাস্ট বোলার বিশ্বকাপে যথাক্রমে ২৩ ও ৩৪ ম্যাচে ৪৪টি করে উইকেট শিকার করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে ভারতীয় দলের আক্রমণ বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন জহির খান। ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার-আপ হওয়া ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমনের নেতৃত্ব দেন শ্রীনাথ। বিশ্বকাপে দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে যৌথভাবে শীর্ষে থাকা এ দু’জন সর্বকালের সেরাদের তালিকায় আছেন পঞ্চম স্থানে।

শ্রীনাথের বোলিং গড় ২৭.৮২। যার মধ্যে দুই ইনিংসে তিন শিকার করেন চারটি করে উইকেট। ২০.২৩ গড়ে জহির নিয়েছেন এক ইনিংসে চার উইকেট।

৪.

চামিন্দা ভাস (শ্রীলঙ্কা)

শ্রীলঙ্কার জার্সি গায়ে সম্ভবত এ যাবতকালের সেরা পেসার বিধ্বংসী ভাস। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন নিজের সেরা ফর্মে। ৩১ ম্যাচে ৪৯ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করা ভাস ১৯৯৬ আসর জয়ী লঙ্কান দলেরও সদস্য ছিলেন।

শ্রীলংকান বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা বাঁ-হাতি ভাসের বিশ্বকাপে বোলিং গড় ২১ দশমিক ২২। বিশ্ব আসরে তার সেরা বোলিং ফিগার হল – ৬/২৫। চার উইকেট শিকার করেন দুই ম্যাচে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন তিনি।

ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান)

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেয়ার সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন তিনি। ওয়াকার ইউনিসসহ পাকিস্তান দলের ধ্বংসাত্মক বোলিং লাইন আপের অংশ ছিলেন আকরাম। ২৩. ৮৪ গড়ে ৩৮ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ শিকারী তিনি।

রিভার্স সুয়্যিং-এর মাস্টার বাঁ-হাতি এ পেসার ছিলেন নিজ প্রজন্মের গ্রেটেস্টে বোলার। ১৯৯২ শিরোপা জয়ী এবং ১৯৯৯ রানার্স আপ হওয়া পাকিস্তান দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। তিন বার চার উইকেট শিকারসহ বিশ্বকাপে তার সেরা বোলিং ফিগার – ৫/২৮।

২.

মুত্তিয়া মুরলিধরণ (শ্রীলঙ্কা)

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তী এই স্পিনার ওয়ানডে এবং টেস্ট উভয় ফর্মেটেই সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ৪০ ম্যাচে ৬৮ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি। আইসিসি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেরা ১৯.৬৩ বোলিং গড়ের মালিক তিনি।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য ছিলেন মুরলি। তবে দুর্ভাগ্য ২০০৭ এবং ২০১১ আসরের রানার্স হয়ে সন্তষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চারটি করে উইকেট নেয়া মুললির সেরা বোলিং ফিগার – ৪/১৯।

১.

গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)

একটা সময় বিশ্ব ক্রিকেটকে এককভাবে শসন করেছে অস্ট্রেলিয়া। যার অন্যতম কারণ ছিল প্রজন্মের সেরা গ্লেন ম্যাকগ্রা নামের একজন ফাস্ট বোলার। ১৯৯৯-২০০৭ এক নাগারে তিনবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ম্যাকগ্রা। তাই, কেন তিনি এ তালিকার শীর্ষে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

বিশ্বকাপে ১৮.২০ গড়ে ৩৯ ম্যাচে ম্যাকগ্রার শিকার ৭১ উইকেট। বিশ্বকাপে অধিকাংশ ম্যাচেই দলের মূল অস্ত্র ছিলেন তিনি। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে শচিন টেন্ডুলকারের উইকেট শিকারের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন ম্যাকগ্রা। বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগার – ৭/১৫। এ ছাড়া দুই ম্যাচে চারটি করে শিকার রয়েছে তার।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের পরবর্তী পাঁচ জন হলেন লাসিথ মালিঙ্গা, এ্যালান ডোনাল্ড, জ্যাকব ওরাম, ড্যানিয়েল ভেট্টরি এবং ব্রেট লি। এদের মধ্যে জহির খান ও শ্রীনাথের চেয়ে মাত্র ১ উইকেট পিছিয়ে থাকা মালিঙ্গা আসন্ন আসরে খেলতে যাচ্ছেন এবং শীর্ষ পাঁচ-এ উঠে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির যথাক্রমে ৩৩ ও ২৯ উইকেট নিয়ে আছেন শীর্ষ ২৫ জনের তালিকায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।