রত্ন থেকে বিশ্ব সেরাদের কাতারে

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ। এবার স্মৃতির পাতা থেকে বিশ্বকাপ শুরুর আগের বাস্তবতায় ফেরা যাক। সম্ভাব্য সেরা তারকা কারা হবেন বলে ভেবেছিলেন? অনুমান মিলছে? নাকি সম্ভাবনা, হিসাব-নিকাশ সব ওলট পালট করে নায়ক বনে গেছেন অন্য কেউ। চলুন প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির খাতাটা মিলিয়ে নেওয়া যাক।

  • কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

একেবারেই অচেনা এই তারকা মোনাকো থেকে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিয়েই আলোচনায় উঠে আসে। বিশ্ব মঞ্চে এসে ১৯ বছর বয়সি এই টিন এজ প্রমাণ করেছেন কেন তাকে নিয়ে এতো হৈচৈ। বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকে আর্জেন্টিনাকে চোখের জলে বিদায় করার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় অবদান ছিল এমবাপের। ম্যাচে ফ্রান্স ৪-৩ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে। যেখানে ১৯ বছর বয়সি এমবাপে দুই গোল করার পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছেন পেনাল্টি আদায়ে।

১৯৫৮ আসরে পেলের পর কোন টিন এজারের এটিই একাধিক গোলের রেকর্ড। শোনা যাচ্ছে আসলে দল বদলের বাজারে তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য মরিয়া স্বয়ং রিয়াল মাদ্রিদ। তবে, বিশ্বকাপ জিতে এমবাপে জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত পিএসজিতেই থাকতে চান তিনি।

  • লুকা মড্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পাঁচ মৌসুমে অংশ নিয়ে চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেতাব জয়ী মড্রিচ বিশ্বকাপ আসরে এসেও প্রমাণ করেছেন তিনিই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার। গতকাল ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জয়ের আগে তিনি জিতে নিয়েছেন তিনটি ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মিড্রচের ক্রোয়েশিয়া নিজেদের আগমনী বার্তা জানিয়ে রাখে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করা মড্রিচ অবশ্য ডেনমার্কের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে টাইব্রেকারের মাধ্যমে তাদেরকে জয় পেতে হযেছে ডেনিশদের বিপক্ষে। একইভাবে রাশিয়াকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মত ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ক্রোয়েশিয়া।

  • ইডেন হ্যাজার্ড (বেলজিয়াম)

সেমি-ফাইনালে বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশন হয়তো সামান্য ব্যবধানে হেরে গেছে ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু চার বছর আগে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ এবং দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত ২০১৬ ইউরো টুর্নামেন্টের মতই নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন হ্যাজার্ড।

চেলসির এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে তিনটি গোল করেছেন। তবে তার গোলগুলো ছিল দলকে প্রেরনা ফিরিয়ে দেয়া গোল। শেষ ষোলর লড়াইয়ে জাপানের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও তার লড়াকু মনোভাবের কারণে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বেলজিয়াম। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেও পিছিয়ে পড়েছিল হ্যাজার্ডের দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় হয়েছে বেলজিয়ানদের। দলকে যদিও ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেননি, তবে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় হয়েছে বেলজিয়াম।

  • হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

শেষটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ড দলের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইনের। প্রথম পর্বে সেই ৬ গোল করার পরের তিন ম্যাচে গোল করা তো দূরের কথা প্রতিপক্ষ গোলমুখে রাখতে পারেননি একটি শটও। তাতে কেইনের সাফল্য ম্লান হচ্ছে না। তার সেই ৬ গোলকে টপকে যেতে পারেননি আর কেউ। টুর্নামেন্ট শেষে গোল্ডেন বুট উঠলো তাই ইংল্যান্ড অধিনায়কের হাতে।

এবার প্রথম পর্বেই কেইন ৬ গোল করে ফেলায় মনে হচ্ছিলো, এবার গোলসংখ্যাটা বেশি হবে। কিন্তু কেইন নিজেও আর গোল পাননি; নকআউট পর্বেও আর সেরকম বেশি গোলও কোনো খেলোয়াড় করতে পারেননি। নকআউট পর্বের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচনাও সইতে হচ্ছে কেইনকে। তবে এই সময়ে পাশে পাচ্ছেন তিনি কোচ ড্যারেন সাউথগেটকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।