ওয়েব সিরিজের দুনিয়ায় স্বাগতম

এই নিয়ে কোনোই বিতর্ক নেই যে, প্রযুক্তির যত বিকাশ হবে বিনোদনের জগতে ততই পরিবর্তন আসবে। আজকাল লোকে হলে বসে ছবি দেখার চেয়ে নিজেদের আরামদায়ক বেডরুমে শুয়ে এলইডি টিভিতে বা হোম থিয়েটারে ছবি দেখতে পছন্দ করে। এজন্যই তো এখন চলছে ওয়েব সিরিজের যুগ। আস্তে আস্তে বলিউডের বিশাল ব্যবসার জগতে নিজেদের স্থান নিতে চলেছে ওয়েব সিরিজগুলো। আর ওয়েবে এখন দারুণ সব কাজও হচ্ছে। কে জানে হয়তো এই ওয়েব কালক্রমে মূল স্রোতে পরিণত হতে পারে।

  • স্যাকরেড গেমস

ভারতীয় ওয়েব সিরিজের ক্ষেত্রে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী কাজ। শুধু ভারত কিংবা উপমহাদেশ নয়, বৈশ্বিক দর্শকদের কাছেও এই সিরিজটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। একজন সৎ পুলিশ অফিসার, একজন ধুন্ধুমার গ্যাঙ লিডার, ও অপরাধের দুনিয়া মুম্বাইকে রক্ষা করার গল্প – এসব নিয়েই সিরিজটিকে সাজানো হয়েছে। সাইফ আলী খান, নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী ও রাধিকা আপ্তে সিরিজটির জন্য ছিলেন অলংকারের মত।

  • ব্যাঙ বাজা বারাত

দু’টি ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা দু’জন প্রেমে পড়েন। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। দুই পরিবারের সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিয়ের আয়োজনও করেন। বিয়ের তিনদিন আগে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয়। এরপর শুরু হয় নানারকম হাস্য-রসাত্মক ঘটনা। এসব নিয়েই দুর্দান্ত পারিবারিক কমেডি সিরিজ।

  • লিটল থিঙস

একটা ছোট্ট সুন্দর ভালবাসার গল্প, তবে একালের আদলে সাজানো। মূল চরিত্র দু’টি – ধ্রুব ও কাভিয়া। দু’জন দু’জনকে ভালবাসেন। এক সাথেই থাকেন। তাঁদের সংসারের ছোট ছোট সব ব্যাপার, কিছু রাগ, অভিমান, কিছু অভিযোগ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই সিরিজটা। গল্পগুলো খুবই সাধারণ, কিন্তু দারুণ, ঠিক সিরিজটির নামের মতই।

  • ইনসাইড এজ

ক্রিকেট মাঠের ভেতরের অন্ধকার অলিগলি নিয়ে এমন কাজ এর আগে হয়নি বললেই চলে। এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পাওয়ারপ্লে লিগের দল মুম্বাই ম্যাভেরিকের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প বলা হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে অর্থ, সেক্স, জুয়া, মাদক, ফিক্সিং, খুন-সহ অনেক চাঞ্চল্যকর সব ব্যাপার। খেলার ভেতরের খেলা দেখার জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু আর হতেই পারে না।

  • ব্রিদ

আর মাধবন ও অমিত সাধ অভিনীত ক্রাইম-ড্রামা জনরার থ্রিলার সিরিজ। একজন সাধারণ মানুষ কোনো অতিমানবীয় ঘটনার মুখোমুখি হলে নিজেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে সেটা এই সিরিজটা দেখলে বোঝা যায়। অন্যভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ভালবাসার মানুষকে বাঁচানোর জন্য একজন মানুষ কি করতে পারেন সেটাই এই সিরিজের গল্প।

  • বোস: ডেড/অ্যালাইভ

সিরিজের প্লট ঐতিহাসিক হলেও নির্মাতা এখানে বেশ কয়েকটা ক্ষেত্রেই কল্পনা ও কিছু জনশ্রুতির আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সুভাষ চন্দ্র বসু কি আদৌ মারা গিয়েছিলেন? যদি মারা না গিয়ে থাকেন তাহলে বাকিটা জীবন তিনি কোথায় ছিলেন? – এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর যারা আজো খুঁজছেন তাদের জন্য এটা একটা ‘মাস্ট ওয়াচ’। নেতাজীর চরিত্রে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ করেছেন রাজকুমার রাও।

  • হোয়াট দ্য ফোকস

মোটামুটি নতুন বিয়ে হওয়া এক দম্পতির গল্প। আসলে দম্পতি না, দু’জনের শ্বশুরবাড়ির সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়ার গল্প দেখানো হয়েছে। কমেডি কিংবা পারিবারিক ড্রামা – কোনো কিছুরই কোনো কমতি নেই এই সিরিজে।

  • মির্জাপুর

মির্জাপুরের মাফিয়া ডন অখণ্ডনান্দ ত্রিপাঠি। মূলত কার্পেট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি বেআইনী অস্ত্রের ব্যবসাও করেন। এর সুবাদে স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি রাজার মত সম্মান পান। তার ছেলে মুন্নাই সব কিছুর উত্তরাধিকার। তবে, তিনি ত্রিপাঠীর কর্মচারী গুড্ডু আর বাবলুকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন। এসব নিয়েই অন্ধকার জগতের রোমহর্ষক এক গল্প। এর সাথে থানা পুলিশ, স্থানীয় রাজনীতি, প্রেম, ভালবাসা, যৌনতা – সবই আছে।

  • ট্রিপলিং

তিন ভাই-বোনের গল্প। অনেকদিন দেখা হয় না বললেই চলে। হঠাৎ করে দেখা হয়ে যায়, ঘটনাচক্রে। তখন তারা পরিকল্পনা করে রোডট্রিপে যাওয়ার। মানে একটা গাড়ি নিয়ে নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। এর মধ্যেই ঘটে নানারকম অনাঙ্খাকিত ঘটনা। অনেক মান-অভিমান হয়, স্মৃতিচারণা হয়। এসব করতে গিয়েই সম্পর্কের নতুন অর্থ খুঁজে পায় তারা।

  • সেক্স চ্যাট উইদ পাপ্পু অ্যান্ড পাপা

খুবই শিক্ষামূলক একটি ওয়েব সিরিজ। সেক্স এডুকেশন যে আসলে খুব সহজেই শৈশব থেকেই একজন মানুষ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন সেটা দেখানো হয়েছে এই সিরিজে। সাত বছর বয়স কৌতুহলী শিশু পাপ্পু ও তাঁর বাবা আনন্দের কেমিস্ট্রি সিরিজজুড়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে গেছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।