ঢাকাই ছবি ২০১৯: নৈপুণ্যহীনতার ভিড়ে আলোচিত নায়কেরা

গত বেশ কয়েক বছর ধরে ঢালিউডে বিরাজ করছে হতাশা। সিনেমা ব্যবসা করছে না, দর্শক সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসছে না। নেই পর্যাপ্ত মানসম্মত প্রেক্ষাগৃহ। বছর বছর কমছে সিনেমার সংখ্যা। তারই সূত্র ধরে দেখা যাচ্ছে হিট ছবি উপহার দিতে পারছেন না কোন নায়ক, যেটা এককালে ঢালিউডে নিয়মিতই দেখা যেত। তবুও বছর শেষে হিসাব কষতে হয়, কারা ছিলেন বছরের সেরা নায়ক। মন্দা বাজারের কারণে এবার দেখতে হচ্ছে বছরের আলোচিত নায়কের তালিকা।

  • শাকিব খান

প্রায় দুই দশক ধরে ঢালিউড মাতাচ্ছেন শাকিব খান। মন্দার বাজারে হিট ছবি উপহার দিচ্ছেন তিনিই। ঢালিউডের ভার নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে চলছেন দীর্ঘদিন। ঢালিউডের একমাত্র সুপারস্টারের খেতাব এখন তারই। বছরের একমাত্র ব্যবসা সফল ছবি মালেক আফসারির ‘পাসওয়ার্ড’ – এ অভিনয় করেছেন তিনি। আলোচিত অন্যান্য ছবি ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’, ‘নোলক’ – এর নায়কও ছিলেন তিনি। বছরের শেষ ভাগে শুরু করেছেন ‘বীর’ সিনেমার শুটিং।

এ সিনেমার মধ্য দিয়ে ৫০ – তম সিনেমার পরিচালনা শুরু করেছেন কাজী হায়াৎ। দর্শকপ্রিয় হয়েছে শাকিবের কয়েকটি ছবির গান। বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার। প্রযোজক হিসেবেও জিতে নিয়েছেন রকমারি সম্মাননা। শাকিব আলোচনায় এসেছেন রাজউকের নকশা না মেনে বাড়ি করায়, সেজন্য রাজউক তাকে জরিমানাও করেছে। সার্বিকভাবে প্রতিবারের মতোই বছরজুড়ে গণমাধ্যমের প্রিয় ছিলেন শাকিব খান।

  • আরিফিন শুভ

চলতি বছর গোলাম সোহরাব হোসেন দোদুলের ‘সাপলুডু’ ছবি দিয়ে আলোচনায় ছিলেন আরিফিন শুভ। বিদ্যা সিনহা মিমের সাথে করা এ ছবিটি নিয়ে এক শ্রেণীর দর্শকের যথেষ্ঠ উৎসাহ ছিল। তবে প্রত্যাশা মাফিক সাফল্য পায়নি শুভর এ ছবি। চলতি বছর ঘোষণা এসেছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ – এর সিক্যুয়েল ‘মিশন এক্সট্রিম’ -এর। উন্মোচিত হয়েছে এ ছবির পোস্টার। পোস্টার ছিল শুভময়। ঋতুপর্ণার সাথে ওপার বাংলায় মুক্তি পায় শুভর ‘আহা রে’। ছবিটিতে প্রশংসিত হয় শুভ – ঋতুর রসায়ন।

কথা ছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী চরিত্র ‘অপু’ বেশে আসবেন শুভ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুভর আর অপু হওয়া হলো না, এ নিয়েও বছরের একটা সময় বেশ আলোচনায় ছিলেন শুভ। আমেরিকায় অভিনয় নিয়ে পড়তেও গিয়েছেন তিনি চলতি বছর। নেটফ্লিক্সের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন শুভ। শুভ প্রথমবারের মতো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ (২০১৭) ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন এবার। সবমিলিয়ে আরিফিন শুভ আলোচনায় ছিলেন বছরজুড়েই।

  • সিয়াম আহমেদ

নতুন নায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় ছিলেন সিয়াম আহমেদ। এ বছর তাকে দেখা যায় তৌকির আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে। ব্যবসা না করলেও ছবিটি প্রশংসিত হয়। ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে নির্মিত এ ছবিতে সিয়ামের অভিনয়ও প্রশংসা কুড়ায় বোদ্ধাদের। এ বছর প্রথমবারের মতো পরীমনির সাথে জুটি বাঁধেন তিনি। তার সাথে চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির শুটিং সম্পন্ন করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি যুক্ত হন ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘শান’, ‘ইত্তেফাক’, ‘পাপ-পুণ্য’, ‘স্বপ্নবাজি’ ছবিতে। অমিতাভ রেজার ‘রিকশা গার্ল’ ছবির বিশেষ চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। অধিকাংশ ছবিই মুক্তি পাবে আগামী বছর। এসবের বাইরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছেন সিয়াম এ বছর। ব্যারিস্টার সিয়াম পেশাগতভাবে আইন পেশায় যুক্তও হয়েছেন চলতি বছর। কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনের। পুরস্কৃত হয়েছেন গেল বছরের ‘পোড়ামন – ২’ ও ‘দহন’ ছবির জন্য। আশা করাই যায় ২০২০ সাল হবে সিয়ামময়। 

  • তাহসান রহমান খান

গায়ক বা ছোটপর্দার অভিনেতা হিসেবে তাহসানের সুনাম ছিল অনেকদিন ধরেই। ২০১৯ সালে এসে বড় পর্দাতেও তার অভিষেক হয়ে গেছে। ‘যদি একদিন’ ছবিতে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় ও তাসকিন রহমানের সাথে কেন্দ্রীয় চরিত্রেই ছিলেন তাহসান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ ছবিতেও আছেন তিনি। সিনেমাটিতে আছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী, অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী মেগান মিশেল।

  • নিরব হোসেন

চিত্রনায়ক নিরবের বছর শুরু হয় মালয়েশিয়ার ছবি ‘বাংলাশিয়া’ দিয়ে। সে দেশে রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য পান নিরব। তারপর বাংলাদেশে সাইফ চন্দনের ‘আব্বাস’ ছবির মাধ্যমে আলোচিত হন। তার ছবির ডায়লগও নেটিজেনদের মাঝে জনপ্রিয় হয়। বছরের শেষ ভাগে বুবলীর বিপরীতে ‘ক্যাসিনো’ ছবির কাজ শুরু করে চমক দেখান তিনি। ছবির জন্যই সারা বছর আলোচনায় ছিলেন নিরব। নিরবের জন্য তাই বছরটি স্মরণীয় ছিল সবমিলিয়ে।

  • মামনুন হাসান ইমন

চলতি বছর ইমন আলোচনায় ছিলেন মালেক আফসারির ‘পাসওয়ার্ড’ ছবির জন্য। তার চরিত্রটি নিয়ে আলোচনার কমতি ছিল না। এর বাইরে ইমনের আরো কয়েকটি ছবি মুক্তি পায় যেগুলো হতাশ করেছে। মিষ্টি মারিয়ার বিপরীতে ‘ভালোবাসার উত্তাপ’, আইরিনের বিপরীতে ‘আকাশমহল’ ও অরিনের বিপরীতে ‘বেগমজান’ ছবিতে দেখা যায় তাকে। ছবিগুলো তার ক্যারিয়ারে ছবির সংখ্যাই বাড়িয়েছে শুধু। ইমন মূলত এক ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ দিয়েই আলোচনায় ছিলেন।

এছাড়াও তাকে দেখা গেছে অনিমেষ আইচের ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বুলেট’ ওয়েব সিরিজের বিশেষ চরিত্রে। বছরের শেষ দিকে তিনি শুরু করেছেন সৈকত নাসিরের ‘আকবর – ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ ছবির কাজ। সাফল্য না পেলেও ছবির মাধ্যমে সারা বছরই আলোচনায় ছিলেন ইমন।

উপরের আলোচনায় না এলেও বছরের বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে সাইমন সাদিক, রোশানদের খবর। বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার সৃষ্টি করেন আলেকজান্ডার বো। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে কাজ দিয়ে আলোচনায় আসাই একজন নায়কের জন্য আত্মতৃপ্তির, কথা দিয়ে নয়। আগামী বছর চিত্র পাল্টাবে এটাই প্রত্যাশা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।