সেরা ১০ নারীকেন্দ্রিক নাটক

উপমহাদেশের বেশিরভাগ সিনেমা পুরুষকেন্দ্রিক হলেও, কিছু সংখ্যক নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও হয়েছে। যেগুলি পেয়েছে বিশেষ প্রশংসা ও পুরস্কার। তেমনি আমাদের নাট্যজগতেও নানা সময়ে উঠে এসেছে বিভিন্ন নারীদের গল্প। কাজগুলো ঠাঁই করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়ে। সেইরকমই অন্যতম সেরা ১০ নারীকেন্দ্রিক নাটক নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।

  • জননী (১৯৯১)

স্বামী বাউণ্ডুলে, স্ত্রীকেই দেখতে হয় যাবতীয় কাজকর্ম। অসুস্থ শ্বশুর আর তিন সন্তান নিয়ে তাঁর অভাবের সংসার। একদিন স্বামী তাঁর জমানো টাকা নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, অসুস্থ মেয়ে আর সংসার নিয়ে অকূল পাথারে পড়ে স্ত্রী। সে স্বপ্ন দেখে ঘুরে দাঁড়াবার, বড় মেয়েকে হারিয়েও একদিন সে ঘুরেও দাঁড়ায়। এই যেন চিরাচরিত সংগ্রামী নারীর জীবন,এমনই এক গল্প সাজিয়েছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। জনসচেতনামূলক এই ‘জননী’ নাটকে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ডলি জহুর। এছাড়া ছিলেন আবুল খায়ের, আসাদুজ্জামান নূর, মোজাম্মেল হক ও মেহের আফরোজ শাওন। নাটকটিতে শাওন ছিলেন শিশুচরিত্রে।

  • চেনা অচেনা মুখ (১৯৯৯)

অর্থ স্বাচ্ছল্যে ভরা সুখী দম্পতি পারভেজ ও নূপুর এক রাতে দূর্ঘটনা বশত আশ্রয় নেয় গরীব মোর্শেদ ও নূরী দম্পতির বাসায়।এই এক রাতেই উঠে আসে নানান গল্প। দুই ভিন্ন চিন্তাধারার নূপুর ও নূরী মিশে যায় এক জগতে,উঠে আসে তাদের অতীত কাহিনী। গ্রামের সেই সামান্য নারী নূরী থেকে অনেক কিছু শিখতে পায় শহুরে আধুনিকা নারী নূপুর। ফারিয়া হোসেনের রচনা ও পরিচালনায় এই নাটকের নাম ‘চেনা অচেনা মুখ’। প্রধান চরিত্রে ছিলেন বিপাশা হায়াত ও মৌসুমী। এছাড়া অভিনয় করেছেন মনির খান শিমুল ও জাহিদ হোসেন শোভন।

  • করিমন বেওয়া (২০০১)

মুক্তিযুদ্ধের অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। গ্রামে দু:খ কষ্টে বেঁচে আছেন বীরাঙ্গনা করিমন বেওয়া। গ্রামের মাতবরের নজর তাঁর ভিটা-জমির দিকে। একদিন ঢাকা থেকে একদল আসে, তাঁকে বিশেষ সম্মাননা দেবার জন্য। ঢাকায় যায় করিমন। কিন্তু তাদের ধারনা হয় তাঁরা ভুল করিমনকে আনা হয়েছে, ফিরিয়ে দেয়া হয় তাঁকে। যখন তাঁরা সঠিক জানতে পারে, আবার যান করিমনের কাছে, কিন্তু তিনি আর আসেন না। আনিসুল হকের উপন্যাস ‘একজন বীরাঙ্গনার খোঁজে’ অবলম্বনে মুস্তফা সরোয়ার ফারুকী নাটকটি নির্মাণ করেন একুশে টিভির জন্য। নাম ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ার।

  • আয়েশা (২০০১)

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সৈনিক জয়নাল আবেদীনের বিধবা স্ত্রী আয়েশা। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অপরাধে ফাঁসির আদেশ হয় জয়নালের। বিচারবহির্ভূত এই ফাঁসিকে ঘিরে আবর্তিত কাহিনির মূল পটভূমি সত্তর দশকের রংপুরের দুই পরিবার এবং ১৯৭৭ পরবর্তী তাঁদের জীবন প্রবাহ। সত্য ঘটনার পটভূমিতে আনিসুল হক উপন্যাস লিখেন ‘আয়েশামঙ্গল’। আর এই উপন্যাসকেই নাট্যরুপ দেন নির্দেশক মুস্তফা সরোয়ার ফারুকী। অভিনয় করেছিলেন বন্যা মির্জা ও আহমেদ রুবেল। সম্প্রতি আবার ফারুকী একই উপন্যাস নিয়ে নাটক বানিয়েছেন। অভিনয় করেছেন তিশা ও চঞ্চল চৌধুরী।

  • বউ (২০০৭)

ঘরে এসেছে নতুন বউ, তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য চাল চলন পছন্দ হয় না মেজাজী শ্বাশুড়ির। বউকে সে নানা কারণে অপমান করে, এতে রুষ্ট হয় তাঁর স্বামী ও ছেলে। একদিন রাগ করে নতুন বউ যখন চলে যেতে চাইলো বাপের বাড়িতে, তখন শ্বাশুড়িই তাকে বাধা দিতে আসে। উঠে আসে তাঁর অতীতের কথা। বৃন্দাবন দাশের রচনা ও সালাউদ্দিল লাভলু পরিচালিত এই নাটকের নাম ‘বউ’। অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, তিন্নি, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, সালেহ আহমেদ, চ্যালেঞ্জার-সহ আরো অনেকে।

  • মায়া (২০০৭)

মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা এক নারী অনেকদিন পর দেশে ফিরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক বিদেশি সাংবাদিক তাঁকে বিয়ে করেছিল, বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই আসেন। দেশে এসে কাজ করতে থাকেন বীরাঙ্গনাদের নিয়ে, উঠে আসে বীরাঙ্গনাদের মানবেতর জীবন। দিন শেষে সব বীরাঙ্গনাই একজন হয়ে উঠেন। ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় নির্মিত ‘মায়া’ নাটকটি নির্মান করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। এতে একক অভিনয় করেছেন তারিন। বেশ প্রশংসিত হয়েছিল এই নাটকটি।

  • নুসরাত, সঙ্গে একটি গল্প (২০০৭)

এক মাত্র সন্তানকে বিপদে পড়েছেন নুসরাত, আত্বীয় ও পরিচিতদের কাছে সে আশ্রয় খুঁজে, কিন্তু সে পায় না।সঙ্গী শুধু এক সিএনজি ড্রাইভার, কি করবে সে! শিবু কুমার শীলের চিত্রনাট্য ও মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালিত এই নাটকের নাম ‘নুসরাত,সঙ্গে একটি গল্প’। অভিনয় করেছেন অপি করিম, আনিসুর রহমান মিলন।

  • তারপর ও আঙ্গুরলতা নন্দকে ভালোবাসে (২০০৯)

যে স্বামীর কপটতায় আজ সে পতিতা, সেই স্বামীই একদিন তাঁর উপস্থিত হয় পতিতালয়ে, সে অসুস্থ আশ্রয় চায় আঙ্গুরলতার কাছে। একদিন সে মারা যায়, কিন্তু সৎকারের জন্য টাকা নেই তাঁর কাছে, উপায়ান্তর না দেখেই মৃত স্বামীকে লুকিয়ে ঘরে খদ্দের আনে। সেই টাকা দিয়ে সৎকারের সময় যাকে সে ঘৃনা করতো, হঠাৎ করেই তাঁর প্রতি ভালোবাসা জেগে উঠে আঙ্গুররলতা। বিমল করের গল্প থেকে এই নাটকটি নির্মান করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, অনিমেষ আইচ, মনিরা মিঠু।

  • বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভালো (২০১৭)

একজন নিম্নমধ্যবিত্ত নারীর সংগ্রাম, সন্তানকে দেশে রেখে বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন যাপন উন্নতি করতে চায়, কিন্তু একাকী মা তাঁর সন্তানের প্রতি টান অনুভব করে। এই গল্প নিয়েই আলোচিত অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প নিয়ে তানভীর এহসান নির্মাণ করেন ‘বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভালো’।  কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা।

  • ফেরার পথ নেই (২০১৮)

সাম্প্রতিক কালের দুই ইস্যু নিয়ে এই নাটক। আপনার কাছের মানুষ বাসা থেকে বেরোনোর পর আর ফেরে না, হারিয়ে যায় যে, অপেক্ষায় থাকা প্রিয়মানুষগুলোর তাঁর আর ফেরার পথ নেই। ঘটনাবহুল এই ইস্যু নিয়ে আশফাক নিপুণের নাটক ‘ফেরার পথ নেই’। অভিনয়ের দিক দিয়ে মেহজাবীন অনেক পরিনত, তাঁর কান্নার দৃশ্য নিয়ে অনেক সময় কথা হয়, তবে এই নাটকে সবচেয়ে কাছের মানুষের বিদায়ে তাঁর কান্নার দৃশ্য আপনার চোখ ভিজিয়ে দিবে। পাশাপাশি মেহজাবীনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন আফরান নিশো।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।