এই কান্নাই হোক আগামীর শক্তি!

অনেক রংবদল হল। ১৮ তম ওভারে গিয়ে মাত্র এক রান দিয়ে এক উইকেট নিয়ে লড়াইটা জমিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১২ বলে তখন ভারত জয় থেকে ৩৪ রান দূরে। যদিও, এর পরে ওভারেই মোড় গেল ঘুরে। আগের তিন ওভারে ২২ রান দিয়ে ফেললেন রুবেল হোসেন। হঠাৎ করেই যেন দীনেশ কার্তিকের ওপর ভর করলো গেইল কিংবা ডি ভিলিয়ার্স।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রান। প্রথম পাঁচটা বল খারাপ করেননি সৌম্য সরকার। বাকিদের নির্ধারিত ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনিই ছিলেন অধিনায়কের ভরসা। প্রথম পাঁচ বলে সাত রান আর উইকেট – একজন পার্টটাইমার এর চেয়ে বেশি আর কিই বা করবেন। শেষ বলটায় আর হল না। দীনেশ কার্তিক হাঁকালেন ছক্কা, ছিটকে গেল বাংলাদেশের স্বপ্ন।

২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ ছিল। হয়নি, টেল এন্ডারে নায়ক বনে গিয়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরণ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে আবারো সেই একই দৃশ্য। এবার দুই রানে হারতে হল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে হারতে হল ভারতের বিপক্ষে। তিনটি সুযোগই ছিল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এবারই প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলতে হল দেশের বাইরে।

ভিনদেশেও ভাগ্য পাল্টালো না। এবারো সেই হার। সত্যি কথা বলতে, পার্থক্যটা গড়ে দিলেন দীনেশই। মাত্র আট বলে ২৯ রান করেছেন। ৩৫০-এর ওপর স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে বেদম পেটালেন। ইনিংসে ছিল দু’টি চার ও তিনটি ছক্কা। ইনিংসটা হয়তো দীনেশ কার্তিকের ক্যারিয়ারেরই সবচেয়ে মনে রাখার মত স্মৃতি উপহার দিল তাঁকে। তবে, পারলে শেষ বলটা ভুলে যেতে চাইবেন সৌম্য সরকার, ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ। কান্না নিয়ে প্রেমাদাসাকে বিদায় বললো সাকিব আল হাসান দল। এই কান্নাই হোক আগামীর শক্তি।

এরপর এ বছরই সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কাকে ত্রিদেশিয় সিরেজের ফাইনালে হারিয়ে দেওয়ার। হয়নি, আগের তিন বারের মত এবারো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল হারলো বাংলাদেশ।

আলাদা করে বলতে হয় সাব্বির রহমান রুম্মানের কথা। ব্যাটিংয়ে তিনিই তো ছিলেন বাংলাদেশের প্রাণ। গোটা নিদাহাস ট্রফিতেই তাঁকে কমবেশি সমালোচনা হজম করতে হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার ম্যাচে রান আউটের পর তাঁর বাদ পড়াটা নিশ্চিতই ছিল, কোনোক্রমে টিকে গিয়েছিলেন। এবার যেন সেটারই প্রতিদান দিলেন।

৫০ বল ক্রিজে ছিলেন। এর মধ্যে হাঁকালেন সাতটি চার ও চারটি ছক্কা।  টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডারে কেউই আর বলার মত কোনো স্কোর পাননি। সাব্বিরের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে আউট হয়ে না গেলে হয়তো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্কোরটা আরো বড় হতে পারতো। সাব্বির সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন। শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ একাই তুলেছিলেন ১৮ রান। তাতে লড়াই করার পুঁজি পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

লড়াইটা চললো শেষ বল অবধি। কিন্তু হল না। আরেকটি স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে কাল দেশে নামবেন সাকিব-রিয়াদরা-সৌম্যরা। কাল হয়তো মুখগুলো মলিনই থাকবে, কাপ জয়ের পর যে উৎসবের মঞ্চ দেশে তাঁদের জন্য প্রস্তুত ছিল, তা হয়তো হবে না।

তবে, একটিবার বুকে হাত দিয়ে ভাবুন। বলুন যে ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কায় খেলতে গিয়েছিল, তাতে এই ফাইনালে যাওয়ার সাফল্যটাও কি কম কিছু? এক বুক সাহস নিয়ে লড়াই করার পর ছেলেগুলো যেভাবে মাঠেই স্বজন হারানোর মত কাঁদলো, তাঁরা আর যাই হোক আমার-আপনার মত ড্রয়িংরুমে-প্রেসবক্সে বসাদের গালির পাত্র নন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।