স্রোতের বিপরীতে ত্রিরত্ন

হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভার কোনো কমতি নেই। তবে, সব প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীরা এখানে সব সময় নিজেদের প্রাপ্য সম্মান বা জনপ্রিয়তা পান না। অনেক সময় বড় চরিত্রগুলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় ছোট কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারফরম্যান্স।

বিপুল তারকা থাকার কারণে মধ্যম মানের অনেক সিনেমা ব্যবসা সফল হলেও, তুলনামূলক কম জনপ্রিয় তবে দক্ষ তারকাদের কনটেন্টবহুল সিনেমা দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। ফলে, এমন সিনেমা ও তাদের কুশিলবরা দর্শকদের মন থেকে সহজেই হারিয়ে যান।

তবে, প্রচলিত প্রতিভাবানদের বাইরে থেকেও অফবিট কিছু অভিনেত্রী নিয়মিত প্রশংসা কুড়িযে চলেছেন দর্শকদের কাছ থেকে। কমার্শিয়াল কিংবা নন কমার্শিয়াল, নেটফ্লিক্স কিংবা ওয়েব সিরিজ – যেখানে যতটুকু সময়ই তারা থাকুন না কেন মুগ্ধ করছেন। এমনই তিন জন অভিনেত্রীকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

  • কালকি কোচলিন

‘ইয়েহ জাওয়ানি হ্যা দিওয়ানি’ সিনেমায় কালকির টমবয় চরিত্রটির কথা কে বা ভুলতে পারে! ‘কিংবা এক থি ডায়েন’-এর লিসা চরিত্রটিকেও ভুলে গেলে চলবে না। এই দু’টি চরিত্রে বানিজ্যিক সাফল্য পেয়েছেন কালকি। তবে, এর বাদে আরো বেশ কিছু ছবিতে কালকি কাজ করেছেন, যেগুলো দুর্দান্ত অভিনয় আর গল্প থাকার পরও স্রেফ স্টার পাওয়ারের অভাবে বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি।

কালকির অভিনয়ের গভীরতা বুঝতে ‘মার্গারিটা উইট আ স্ট্র’, ‘দ্যাট গার্ল ইন ইয়োলো বুটস’, ‘আ ডেথ ইন দ্য গাঞ্জ’, ‘আই অ্যাম’, ‘ওয়েটিং’ না দেখলেই নয়। বড় পর্দা ছাড়াও মঞ্চ ও ওয়েব সিরিজেও কাজ করেন তিনি। আর স্বামী যখন নির্মাত অনুরাগ কাশ্যপ, তখন ভিন্নধর্মী সব চরিত্রে সামনে আরো দেখা যাবে কালকিকে।

  • রাধিকা আপতে

এই সুন্দরী অভিনেত্রী সত্যিকারের ভিন্নধারার একজন অভিনেত্রী। ২০০৫ সালের ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘ওয়াহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি’-তে ছোট্ট একটি চরিত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর অভিষেক হয় বলিউডে। সেখান থেকে শুরু করে তিনি অফবিট সিনেমা ‘রক্ত চরিত্র’ ও ‘শোর ইন দ্য সিটি’ দিয়ে পেয়েছেন ব্যবসাসাফল্য। সর্বশেষ অক্ষয় কুমারের সাথে করা ‘প্যাডম্যান’-এর কথা তো বলাই বাহুল্য।

‘পারছেদ’, ‘কউন কিতনে পানি মে’, ‘হান্টার’, ‘বাদলাপুর’, ‘মাঝি: দ্য মাউন্টেন ম্যান’ সিনেমাগুলোতে তাঁর চরিত্রগুলোও আলোচিত হয়েছে। বাংলা, মারাঠি, তামিল, তেলেগু সিনেমাতেও তিনি কাজ করেন। এমনকি করেছেন শর্ট ফিল্মও। ‘কৃতি’ ও ‘অহল্যা’র মত কাজ গুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন অবশ্য তিনি ব্যস্ত নেটফ্লিক্সে। ‘লাস্ট স্টোরিজ’, ‘স্যাকরেড গেমস’-এর পর তিনি এসেছেন ‘ঘাউল’ নিয়ে।

  • স্বর্ণা ভাস্কর

শুরুতে টানা ব্যর্থতার ‍মুখ দেখলেও একটু একটু করে সাফল্য পেতে শুরু করেছেন তিনি। ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’ ‘দ্য ইউনাইটেড কার্তি কৃষান প্রোজেক্ট’ ব্যর্থ হলেও সাপোর্টিং রোলে তাঁর করা ‘তানু ওয়েডস মানু’, ‘রানঝানা’, ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’, ‘তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস’, ও ‘লিসেন…আমায়া’ ব্যবসা সাফল্য পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বর্ণার ‘নিল বাত্তে সান্নাটা’, ‘আনারকলি অব আরাহ’ বক্স অফিসে ভাল করেছে। ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ সিনেমা কারিনা কাপুর কিংবা সোনম কাপুরের মত তারকার উপস্থিতিতেও তিনি আলাদা ভাবে সমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।  এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই হয়তো তিনি বলিউডের ‘এ’ তালিকাভুক্ত অভিনেত্রীদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলবেন।

– আউটলুক ইন্ডিয়া ও মেনএক্সপি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।