ফ্যান সিনেমা নিয়ে প্যানপ্যান

শুরুতেই বলে নিচ্ছি, ফ্যান সিনেমা দেখা না থাকলে এই লেখাটি আপনার জন্য না। এই লেখাটি আগাগোড়া স্পয়লারে ভর্তি। আগেই সাবধান করে রাখলাম।

ফ্যান সিনেমাটি আমি মোট তিনবার দেখেছি।

প্রথম বার দেখার কারণ- শাহরুখ খান ফ্যান। আর কোন কারণ লাগে না এই সিনেমা দেখার জন্য। দেখা শেষ করে সিনেমা ভাল লেগেছে বেশ।

দ্বিতীয় বার দেখার কারণ- সাধারণ একজন দর্শক যে সব ধরনের সিনেমা পছন্দ করে, সেই হিসেবে দেখেছি। দেখা শেষ করে মনে হয়েছে- ভালো, তবে আরও অনেক অনেক ভাল করার সুযোগ ছিল। শুধু শাহরুখ খানের অভিনয়ের জন্য একবার হলেও সিনেমাটা দেখা যায়। সেকেন্ড হাফে অনেক ঝামেলা সিনেমাতে।

তৃতীয় বার দেখার কারণ- আর একটু চোখ খুলে, একটু ডিটেলস এ দেখলাম। এবার একদম অন্যরকম লাগলো। নতুন বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করলাম।

চলুন এবার ফ্যান সিনেমার বিশ্লেষণে যাই। তার আগে একটু ইতিহাস ঘুরে আসি-

প্রথমেই যাওয়া যাক ফ্যান বা Fan শব্দটার দিকে। fan শব্দটি fanatic থেকে এসেছে বা এর সংক্ষিপ্ত রূপ। আর fanatic শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Fanum থেকে যেটি একটি মন্দির এর নাম ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে Sulla নামের একজন একনায়ক একটি fanum তৈরি করেছিলেন রোমান যুদ্ধ দেবতা Bellona এর পূজার উদ্দেশ্যে। সেই মন্দিরে প্রিস্ট বা পূজারীরা যে আচরণ করতেন, সেই আচরণ থেকে ফ্যান শব্দটার উৎপত্তি।

বলা হয়ে থাকে দেবতাকে খুশি করার জন্য সেই পূজারীরা কুঠার দিয়ে নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতেন আর চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে পড়তো। এই কাজটাকে স্বর্গীয় বা ডিভাইন মনে করা হত তখন। পূজারীরা একদম উন্মাদ বা ক্রেজি আচরণ করতেন। এই ধরনের কারো জন্য ক্রেজি আচরণ বুঝাতেই এখন ফ্যান শব্দটা ব্যবহৃত হয়। এইরকম রক্ত বের করা ক্রেজি না হলেও বর্তমানে গুণকীর্তনকারী বা ভক্ত হিসেবে ফ্যান শব্দটা ব্যবহৃত হয়।

মনিশ শর্মার ফ্যান সিনেমাও এমন একজন পূজারীর (গৌরব) এর গল্প, যে তার ঈশ্বর বা দেবতা (আরিয়ান) এর ভক্ত থাকে এবং একসময় কিছু কারণে ক্রেজি হয়ে যায়।

সিনেমার শুরুতেই দেখবেন গৌরবকে দেখানো হয় যে তার নিজের সাইবার ক্যাফে খুলছে। নিজের প্রিয় স্টারের নামে রাখা এই দোকানের নাম সাইবার চ্যাট। দোকানের গেটে ফটোকপি শব্দটা লেখা আছে। এই শব্দটা লেখার কারণ, গৌরব আসলেই আরিয়ানের ফটোকপি। এমনকি কিছুক্ষণ পর যখন দোকানে গুণ্ডারা এসে ঝামেলা করে, তখন তারাও তাঁকে ‘ফটোকপি’ বলে ডাকে। বেশিরভাগ বাচ্চাদের কাছে তাদের সুপারহিরোরা তাদের আইকন, আইডল। কিন্তু গৌরবের কাছে তার সুপারহিরো হচ্ছে আরিয়ান। এই কারণে তার দোকানে খেলতে থাকা দুটো বাচ্চাকে সে উঠিয়ে দেয় কারণ তাদের সুপারম্যান আর স্পাইডারমেনে তার কোন আগ্রহ নাই, তার আগ্রহ শুধু তার সুপারহিরো আরিয়ান খান্নাতে।

এই সাইবার ক্যাফের দোকান আরও কিছু মেসেজ দেয়। ইন্টারনেটের কল্যাণে স্টার আর ফ্যানরা কত কাছে চলে এসেছে। একজন আরেকজনের সাথে ফেসবুক, টুইটার এর মাধ্যমে কত সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে- যেটা একসময় চিন্তা করাই অসম্ভব ছিল। আবার এই টুইটার এর যে কত অপব্যবহার হতে পারে, সেটাও এই সিনেমাতে দেখানো হয়েছে। যে যোগাযোগ মাধ্যম ফ্যান আর স্টার কে কাছে আনে, সেটা ব্যাবহার করেই ফ্যান তার স্টার এর ইমেজ খারাপ করে এই সিনেমাতে।
এই যে একজন আরেকজনের ফটোকপি, এটা কিন্তু সিনেমাতে আরও বেশ কিছু জায়গায় বোঝানো হয়েছে। ট্রেলারে তো সংলাপই ছিল একটা এরকম- আরিয়ানকে বানানোর পর যে মাটি বেচে গিয়েছিল, সেটা দিয়ে আমাকে বানানো হল। দুইজন একেবারেই আলাদা দুইটা মানুষ, এরপরেও তাদের মাঝে কমন ব্যাপার বিস্তর।

গৌরবের আর একটা সংলাপ আছে – আমি আর সে আলাদা আলাদা, দূরে থাকি, কিন্তু এক। সিনেমাতে একটি দৃশ্য আছে, প্লেনের ভেতর আরিয়ানের সেক্রেটারি তাকে বলে – গৌরব একটা sanki (পাগল)। তখন আরিয়ান রিপ্লাই দেয়- আচ্ছা, তাহলে আমি কি? অর্থাৎ, এখানে তিনিও নিজেকে sanki বলেন এক অর্থে। দুইজনের মিলটা আবার দেখা গেল। গৌরব যখন আরিয়ান সেজে তার বাসার বেডরুমে ঢুকে আর তার স্ত্রীর সাথে দেখা হয়, তখন আরিয়ানের স্টাডি রুমে বিভিন্ন জিনিস দেখে গৌরব বলে- আরিয়ান সেসব স্মৃতিকে নিজের কাছে সবসময় রেখে দেয়, সংরক্ষণ করে, যেগুলো তার প্রিয়। সেম কাজ কিন্তু গৌরব ও করে- আরিয়ানের সব কিছু সে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে।

শুধু কমন কিছু ব্যবহার না, গৌরব আর আরিয়ান দুইজনের মাঝেই একটা সম্পর্কের ব্যাপার আছে আর সেই সম্পর্কের একটা প্রতিফলনের ব্যাপার আছে সিনেমাতে। গৌরব আছে তো আরিয়ান আছে, গৌরব নাই তো আরিয়ান কিচ্ছু না – এই একটা সংলাপেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। এছাড়া আয়নার উপরে লেখা – ‘main hu to tu hain’ (আমি আছি বলেই তুই আছিস)-এই বাক্যটা তাদের সম্পর্কের প্রতিফলনের ব্যাপারকে আরও বেশি করে জোরদার করে।

সিনেমার অন্যতম দারুণ একটি দৃশ্য হচ্ছে যখন গৌরব আর আরিয়ান এর প্রথমবার সামনাসামনি দেখা হয়। তারা থানার একটি রুমে বসে থাকে যেখানে তাদের সামনে আর পিছে- দুই দিকেই আয়না থাকে এবং সেই আয়নাতে দুইজনের প্রতিবিম্ব অসীম পর্যন্ত দেখা যায়। পুরাটাই প্রতিফলনের বা ইমেজের খেলা। ইমেজের ভেতরে ইমেজ, গল্পের ভেতরে গল্প। এরকম ইমেজ আর প্রতিফলন আরও আছে। গৌরব যখন টিকেট না থাকার কারণে ট্রেনে টিটির সাথে ধস্তাধস্তি হয়, তখন সব ঠিক হওয়ার পর সে যখন শান্ত হয়, তখনও তার চারপাশে আয়না থাকে – সেখানেও আবার ইমেজ বা প্রতিফলনের খেলা। আবার প্লেন থেকে নামার আগে আরিয়ান আয়নাতে নিজের চেহারা দেখে সেখানে একটি হাসি ফুটিয়ে বের হয় – এখানেও আমার সেই প্রতিফলন।

স্টেজ শো করার আগে (যেখানে কোন দর্শক আসে না) আরিয়ান নিজের চেহারাকে খুবই সূক্ষ্মভাবে আয়নায় দেখে – এখানেও আবার সেই ইমেজের খেলা। গৌরব যখন সুপারসিতারা কম্পিটিশনে নাচে, তখন তার পেছনে আরিয়ানের ছবি থাকে, যেন মনে হচ্ছিল আরিয়ান গৌরবের প্রতিফলন বা রিফ্লেকশন। যদিও গৌরব মারা যাওয়ার আগে আরিয়ান তাকে বুঝিয়ে বলে – অন্যের পরিচয়ে বাঁচার নিজের পরিচয় বানিয়ে সেটাতে বেঁচে থাকা অনেক এবশি শ্রেয়। সিনেমার মূল থিমও কিন্তু সেটাই।

সিনেমার পোস্টারেও এই রিফ্লেকশন বা প্রতিফলনের ব্যাপারটা আছে, খেয়াল করে দেখবেন। প্রথম পোস্টারে খেয়াল করে দেখবেন গৌরবের চেহারা অনেকটা সূর্যের আলোর মত উজ্জ্বল ( আলোটা দেখে অনেকটা উষ্ণ কিছু একটা বোঝায়)। ঠিক পাশেই দেখবেন আরিয়ানের ছবি এবং এখানে ঠিক উল্টো। আরিয়ানের চেহারাতে যেই আলোটা, সেটা দেখতে অনেকটা চাঁদের আলোর মত ( কিছুটা পানির মত বা ঠাণ্ডা রঙ ও বলতে পারেন)।

Gaurav Chandna নামটা বিশ্লেষণ করলে দেখবেন সেখানে chand শব্দটা আছে যার অর্থ হচ্ছে চাঁদ। আরিয়ান শব্দটার অর্থ খুঁজতে গেলে জানা যায় এটি এমনকিছু যা সূর্যের সাথে সম্পর্কিত, আর আমরা জানি সূর্য হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্টার ( সুপারস্টার)। আমরা জানি চাঁদের নিজের কোন আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। অর্থাৎ আরিয়ানের নিজের কোন আলো নেই (এই কারণেই পোস্টারে তার চেহারাতে চাঁদের মত আলো), সে গৌরবের আলোতে আলোকিত, গৌরবের জন্যই সে স্টার না সুপারস্টার ( গৌরবের চেহারাতে এই কারণে সূর্যের আলোর ছাপ) – যদিও এই জিনিসটা তাদের নামের অর্থের সাথে পুরোপুরি উল্টো একটি ব্যাপার।

কিন্তু, আরেকটি পোস্টারে  ব্যাপারটি একদম ভিন্ন, এখানে তাদের নামের অর্থের সাথে মিল রেখেই তাদের চেহারাতে আলো এসেছে। আরিয়ানের চেহারাতে সূর্যের মত আলো, আর গৌরবের চেহারাতে চাঁদের মত আলো। এখানেও আবার তাদের মাঝের সেই সম্পর্কের ব্যাপারটা চলে আসে- ফ্যানের একজন স্টার দরকার, আর স্টার ও ফ্যান ছাড়া কিছুই না। দুইজনের কাওকে ছাড়া আরেকজনের কোন অস্তিত্বই নাই। এই জিনিসটা আমরা সিনেমার আরও বেশ কিছু জায়গায় দেখি।

গৌরবকে যখন জেলে পেটানোর পরে রেখে দেয়া হয়, তখন তার চেহারাতে অনবরত আলোর পরিবর্তন খেয়াল করবেন আর সেই আলো দুটি- চাঁদের আলোর আর সূর্যের আলো। আরও দারুণভাবে এই ব্যাপারটি দেখি যখন গৌরব মারা যায়। ছাদ থেকে পড়ার সময় গৌরব তার হাতে কিছু মরিচবাতি নিয়ে পড়তে থাকে, সেই মরিচবাতির রঙ দুটি- হলুদ আর নীল ; আবার সেই সূর্য আর চাঁদ। ছাদ থেকে পড়ার মধ্যবর্তী অবস্থায় লাইটদুটো নিভে যায়। যেন গৌরবের মৃত্যু আমাদের মনে করায়- ফ্যান শেষ তো তার স্টার ও শেষ। দুইজনেই শেষ।

২৫ বছরের ক্যারিয়ারে নিজের কাজ ছাড়াও অন্য বেশ কিছু ঘটনার কারণে শাহরুখ খান মিডিয়াতে আলোচনায় এসেছেন। মজার ব্যাপার হল, এসব ঘটনার বিভিন্ন রেফারেন্স ফ্যান সিনেমাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেখানো হয়েছে আর সেগুলো স্ক্রিনে দেখাতে শাহরুখ খান কোন ধরনের ইতস্তত বোধ করেননি। একটি দৃশ্য দেখানো হয় যেখানে শাহরুখ তার স্ত্রীর সাথে সিড কাপুরকে থাপ্পড় মারা নিয়ে কথা বলছেন।

সিড কাপুরকে সংক্ষেপ করলে হয় Sk. বাস্তবে শাহরুখ খান একবার এক পার্টিতে ফারাহ খানের স্বামীকে চড় মেরেছিলেন, সেই লোকের নাম শিরিষ কুন্দল বা সংক্ষেপে SK (যদিও অনেকে বলবে এই sk দিয়ে আসলে সালমান খানকে বুঝানো হইসে!) সিনেমাতে আর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, খবরে বলা হচ্ছে – আরিয়ানের বয়স হওয়ার সাথে সাথে তার সাম্রাজ্য কিছুটা হলেও টলে উঠেছে আর তার শেষের বেশ কিছু সিনেমা ব্যর্থ হয়েছে আর সিড কাপুর তাকে বেশ টাফ কম্পিটিশন দিচ্ছেন, ঠিক যেমনটা গত কয়েকবছরে শাহরুখ এর সিনেমা আসলেই বেশ খারাপ গেছে। (যদিও ফ্যান ও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ) ২০০০ এর সময়ে ঋত্বিক যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন, তখনও এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

অনেকে তখন ঋত্বিকের সাফল্য দেখে বলেছিল – শাহরুখ এর ক্যারিয়ার শেষ। এমনকি শাহরুখ খান নিজের এক সাক্ষাৎকারে তখন ঋত্বিক কে দেখে তিনি আসলেই বেশ কিছুটা নার্ভাস ছিলেন, সেই ব্যাপারে বলেছিলেন। ফ্যান সিনেমাতে আমরা এক শিল্পপতির মেয়ের বিয়েতে আরিয়ানকে খানকে নাচতে দেখি, ঠিক যেমনটা বাস্তবে শাহরুখ খানকে দেখি লক্ষ্মী মিত্তাল এর মেয়ের বিয়েতে প্যারিসে নাচতে। আরিয়ান যখন গৌরবের পিছে ধাওয়া করেন তখন বেশ কয়েকটা জায়গায় আরিয়ান নিজের পিঠে হাত দিয়ে রাখেন আর আমরা দর্শক মাত্রই জানি গত বেশ কয়েকবছর যাবত শাহরুখ পিঠের ব্যথায় ভুগছেন, তার বেশ কয়েকবার সার্জারিও হয়েছে।

সিনেমাতে আর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, মেয়েঘটিত কেলেঙ্কারির জন্য (যেটা আসলে গৌরব করে) আরিয়ানের শো সবাই বয়কট করে, আরিয়ান দর্শকসারিতে একজন মানুষকেও দেখতে পায়না। ঠিক এমনটাই আমরা দেখেছিলাম গতবছর যখন ইন্ডিয়ার ইনটলারেন্স নিয়ে দেয়া শাহরুখ এর বক্তব্যে যখন অনেকেই শাহরুখ এর দিলওয়ালে বয়কট করেছিল।এরকম প্রতিটা জায়গায় ফ্যান সিনেমাটি শাহরুখ খানের প্রতি, শাহরুখের জীবন আর তার সিনেমার প্রতি ট্রিবিউট জানিয়েছে। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে শাহরুখ এর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমার নাম দিওয়ানা – যার আরেক অর্থ ক্রেজি।

ফ্যানের অর্থও কিন্তু অনেকটাই তাই! আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফ্যান সিনেমার শুরতেই দিওয়ানা সিনেমার ফুটেজ দেখানো হয়ে যেখানে শাহরুখ নীল শার্ট আর প্যান্ট পরে সেই চিরচেনা হাত ছড়িয়ে দেয়া ভঙ্গিতে দাঁড়ান। গৌরব ও এই সিনেমাতে ক্রেজি আর খুবই প্যাশনেট, অনেকটা ডর সিনেমার শাহরুখ এর মত, শুধু পার্থক্য একটাই এখানে গৌরবের ভালোবাসা শুধু আরিয়ানের জন্য।

সিনেমার ক্লাইম্যাক্স অর্থাৎ গৌরবের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়াটাও অনেকটা শাহরুখের ওয়ান অফ দ্যা বেষ্ট ফিল্ম বাজিগরের প্রতি একটা নীরব ট্রিবিউট (সেই বিখ্যাত শিল্পা শেঠি কে ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার দৃশ্য)। গৌরবের মোবাইলের রিংটোন থাকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে সিনেমার সেই ম্যান্ডালিনের সুর। আর কোন সিনেমাতে, আর কোন অভিনেতা বা স্টারকে নিজের জীবনের এরকম অনেক ঘটনাকে আমি এভাবে এতটা ডিটেলে আর দেখিনি।

ফ্যান সিনেমাতে আরিয়ান আর গৌরবের সম্পর্কটা বেশ কিছু জায়গায় অনেকটা দেবতা আর পূজারীর সম্পর্কের মত মনে হয়েছে। গৌরব যখন সুপারসিতারা কম্পিটিশনে অংশ নিতে চায় আর তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করে- কেন এইসব করে টাকা আর সময় নষ্ট? তখন সে উত্তরে বলে- আরিয়ানের সাথে দেখা করতে আমার ২০ হাজার টাকা লাগবে আর সেটা এখানকার প্রাইজমানি আর যেটা আপনি আমাকে কখনোই দিবেন না, সেই কারণে আমার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া।

এরপরে গৌরব আরও বলে – আপনি যখন হনুমান মন্দিরে পূজা দেয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে চারটা বাস চেঞ্জ করে যান আর প্রতিবার ১০১ টাকা ভাড়া দেন, তখন তো আমি কিছু বলি না। আসলে সিনেমাতে গৌরবের কাছে আরিয়ানই হল তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান, তার ঈশ্বর। ঈশ্বর এর অস্তিত্ব আছে কি নাই, সেটা নিয়ে আজকেও দুনিয়াতেও অনেক দ্বন্দ্ব, অনেক আগে থেকেই সেটা চলে আসছে।

ঈশ্বরকে দেখা যায়না, ছোঁয়া যায়না – শুধুই অনুভবের ব্যাপার। কিন্তু গৌরবের কাছে যে ঈশ্বর, সেই আরিয়ানকে দেখা যায়, ছোঁয়া যায়। গৌরব যার জন্য পাগল, সে তো অন্তত আসলেই আছে, তার একটা অস্তিত্ব আছে। কিন্তু তার বাবা যেই ঈশ্বরের জন্য পাগল, সেই ঈশ্বরকে তো দেখা যায়, আসলেই অস্তিত্ব আছে কিনা সেটা নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক আছে- তাহলে আসলে বেশি ক্রেজি কে? গৌরব না তার বাবা? খুবই অদ্ভুত একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন আমাদের দিকে দর্শক এই আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ একটি সংলাপের মাধ্যমে।

সিনেমাতে ফ্যান আর স্টারের অবস্থান বেশ নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে ঈশ্বর আর পূজারীর কনসেপ্ট মাথায় রেখে। গৌরব যখন প্রথম আরিয়ানকে দেখে তখন আরিয়ান অনেক উঁচুতে দাঁড়িয়ে নিজের বাড়ি থেকে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছে, অন্যদিকে গৌরবের অবস্থান নিচে ভিড়ের মাঝে যেখানে তাকে দেখা যায়না বললেই চলে। অনেকটা যেমন- ঈশ্বর থাকেন ঐ উপরে আর নিচে তার হাজারো ভক্তকুল যেখানে একজনকে আলাদা করে খুব একটা দেখা যায়না।

জেলে যখন প্রথম দুইজনের দেখা হয়, তখনও আরিয়ান দাঁড়িয়ে থাকে আর গৌরব মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় থাকে। এখানেও আরিয়ান উঁচুতে আর গৌরব নিচু অবস্থানে। আরিয়ানকে মোবাইলে যখন গৌরব থ্রেট দেয়, তখন আরিয়ান বলে – আমাকে নিচে নামানোর জন্য তোমাকে আগে আমার উচ্চতায় উঠতে হবে। সম্ভবত এই কারণেই সিনেমা শেষ হতে হতে আমরা দেখি যে, আরিয়ানের পারফর্মেন্স দেখার জন্য গৌরব কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে, আরিয়ানের পারফর্মেন্স দেখে। মেসেজ অনেকটা এরকম যে, অর্ধেক সিনেমাতে আরিয়ানকে নাকানি চুবানি খাওয়ানোর পরে গৌরব এখন আরিয়ানের লেভেলে উঠে এসেছে।

জেলখানায় গৌরবকে পেটানো আর আটকে রাখার পর একটি দৃশ্য আছে এমন- গৌরব হুট করে কিছুটা বমি করে উঠে। এরপরেই দেখা যায় সে দিল্লী চলে আসে, নিজের দোকান বিক্রি করে দেয়, আরিয়ানের সমস্ত পোস্টার পুড়িয়ে দেয়। বমি করার দৃশ্যটা দেখে মনে হয়েছে- আরিয়ানের প্রতি তার যে ভালোবাসাটা ছিল, যে অন্ধ মোহটা ছিল, সেটা যেন গৌরবের শরীর থেকে সেই বমির সাথে বের হয়ে গেল।

ফ্যান সিনেমাতে একটা সার্কেল ও দেখানো হয়েছে। বেশ কিছু ঘটনা সিনেমার দুইজনের মাঝেই সমভাবে বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। একজনকে দিয়ে সার্কেল শুরু হয়েছে তো আরকেজনকে দিয়ে সার্কেল শেষ হয়েছে। সিনেমার প্রথম অর্ধেকে গৌরব আরিয়ানের পিছে দৌড়ায়, আর সিনেমার সেকেন্ড হাফে আরিয়ান গৌরবের পেছনে দৌড়ায়। প্রথমে আরিয়ানের জন্য গৌরব জেলে যায়, আর পরে গৌরবের জন্য আরিয়ান জেলে যায়।

দশমীর একটি মেলাতে সিনেমা শুরু হয়, সিনেমার শেষটাও ঐ দশমীতেও হয়। প্রথম দশমীতে গৌরব আরিয়ানকে নকল করেন, আর সিনেমার শেষের দশমীতে আরিয়ান গৌরবকে নকল করেন। গৌরবের পুরস্কার পাওয়ার দৃশ্যে একটি বড় স্টারকে দেখা যায়, যা দ্বারা গৌরবের সাথে তার স্টার মানে আরিয়ানের সম্পর্ক বুঝানো হয়। দশমী উৎসবটাও বেশ ভালোভাবে কানেক্ট করা হয়েছে।

দশমী এমন একটি উৎসব যা শুভ কিছুর জয়কে সেলিব্রেট করে আর অশুভর উপরে শুভ কে স্থান দেয়। রাবণ ছিল রাক্ষসদের সর্দার, কিন্তু নিজের ইগোর কারণে তিনি রামের কাছে হেরে যান। গৌরবও আরিয়ানের সবচেয়ে বড় ফ্যান ছিল, কিন্তু শুধু একটি সরির জন্য সে শেষ পর্যন্ত তার জীবন হারাল। দশমীর সাথে ঘটনাটা খুবই সুন্দর করে কানেক্ট করা হয়েছে।

ভালোবাসার বিপরীত শব্দ ঘৃণা বললেও, অনেকের মতে ঘৃণার পরিবর্তে অবহেলা শব্দটা বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ ঘৃণা এর মানে হল আপনি এখনও আসলেই কিছুটা হলেও কেয়ার করেন, আপনি এখনও কিছুটা হলেও কানেক্টেড। এই জিনিসটা ফ্যান সিনেমার ক্ষেত্রে বেশ যায়, এখানে ভালোবাসার বিপরীত শব্দ হিসেবে ঘৃণা শব্দটাই বেশি খাটে। এই কারণেই আরিয়ানের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার পাওয়ার পরেও গৌরব তাকে একদম অবহেলা করতে পারে না কারণ ২৫ বছর ধরে সে তাকে ভালবেসেছে যেটা হুট করে অবহেলা করা সম্ভব না।

এই কারণে তার ভেতরে ঘৃণার জন্ম হয় আর সে আরিয়ানের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, অর্থাৎ আরিয়ানের সাথে কানেক্টেড থাকে। সে আরিয়ানের জন্য খুন করতেও প্রস্তুত থাকে আর সেটা তার কাছে কোন ক্রাইম মনে হয়না, তার কাছে ক্রাইম একটাই- কেও যদি আরিয়ানের কোন ক্ষতি করে। এই কারণেই সিড কাপুরকে শাস্তি দেয়ার পর জেলে আরিয়ানের সাথে দেখা হলে গৌরব বলে- ক্রাইম তো এটা মানুষের নজরে, আপনার মনে তো প্রেম আছে। আবার এই গৌরবই পরে বলে- যে আপনাকে ভালোবাসে, তার মন ভেঙে দেয়াও ক্রাইম।

খুবই মজার ব্যাপার হল, এই সিনেমাতে আরিয়ানকেও ক্রিমিনাল হিসেবে দেখানো যাবে। জেলে এসে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে সে সমস্ত প্রমাণ গায়েব করে দিতে বলে, যেটা একটা ক্রাইম। গৌরব তার বাসায় ভাংচুর করলে সে নিজের স্ত্রীকে বলে- এখন আমি তাকে আমার দিল্লীওয়ালা চেহারা দেখাব- অর্থাৎ আইন নিজের হাতে তুলে নিব। এটাও একভাবে বললে ক্রাইম। অর্থাৎ দুইজন যে একই মানুষ এবং যার যার জায়গা থেকে একই কাজ করছে, সেটাও আএকবার দেখানো হল। অর্থাৎ আবার সেই ইমেজ আর প্রতিফলনের খেলা।

এবার আসি ফ্যানের সমালোচনায়।

সেকেন্ড হাফ থেকেই ফ্যানের স্ক্রিপ্টে সমস্যা শুরু হয়। গৌরব লন্ডনে পৌঁছে মাদাম তুসোর জাদুঘরে ঝামেলা করে, নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ সে ফাঁকি দেয় – হুট করে এতটা শক্তিশালী সে কীভাবে হয়ে উঠলো? নিজের দোকান বিক্রির টাকা দিয়ে সে লন্ডনে এসেছে আর বাকিসব করেছে – বুঝলাম। কিন্তু সেই জিনিসটা আর একটু ডিটেলস এ দেখালে কি ক্ষতি হত? তাহলে আর জিনিসটা অতিমানবীয় লাগতো না।

গৌরবের সাথে আরিয়ানের চেহারাতে সিংহভাগ মিল থাকলেও গৌরবের দাঁত কিন্তু একটু উঁচু, এটা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়। গৌরব যখন আরিয়ান সেজে উল্টাপাল্টা কাজ করে, তখন এই ব্যাপারটা দেখা যায়না কিন্তু কাজ সমাপ্তির পরেই আবার সেই জিনিসটা দেখা যায়- খুবই দুর্বল জায়গা এটা। বিদেশে মিডিয়ার সাংবাদিকদের সামনে আরিয়ান প্রেস কনফারেন্স করছেন, অথচ একসময় উত্তেজিত হয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্বদেশী মানে হিন্দি ভাষায় কথা বলছেন! একটা সরির জন্য এতকিছু? মেনে নেয়া যায় এই জিনিসটা? খুব বেশিই নড়বড়ে যুক্তি এটা।

আরিয়ান প্রথম থেকেই গৌরবের সাথে বেশ কিছুটা রাফ আচরণ করে যার কারণ স্পষ্ট না। হ্যাঁ, যদি এমন দেখানো যেত যে এর আগে কোন এক ফ্যানের পাগলামির কারণে আরিয়ানের সমস্যা হয়েছে, আর এরপর থেকে ফ্যানদের সাথে দেখা করার ব্যাপারে আরিয়া সাবধান থাকে- তাহলে জিনিসটা বেশ যুক্তিযুক্ত হত। গৌরব খুব সহজে আরিয়ানের নাম্বার পেয়ে যায়, তার সাথে কথা বলে, কেও তাকে ধরতে পারে না- কিন্তু সেটা কীভাবে হচ্ছে বারবার সেটা যদি একটু ডিটেলস এ দেখানো যেত, তাহলে আর এতটা উদ্ভট লাগতো না সেকেন্ড হাফ।

স্টারের জন্য ফ্যানদের যেসব পাগলামি, সেটাও খুব একটা ডিটেলস দেখানো হয়নি। শুধু সুপারসিতারা কম্পিটিশনে যা একটু দেখানো হয়েছে। আরও বেশি কিছু দেখানো যেত- গৌরবের ছোটবেলার কোন ঘটনা, আরিয়ানের সিনেমা লুকিয়ে দেখতে গিয়ে ক্লাস মিস করা, সবার কুৎসা শোনা, বন্ধুদের সাথে আরিয়ানকে নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে মারামারি, সবার কাছে হাসির পাত্র হওয়া – এগুলো আরও একটু ডিটেলস এ দেখালে ভালো লাগতো। আর যে জাবরা গান নিয়ে এত কথা- সেটা সিনেমাতে নাই। অথচ সেটা সিনেমার সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক, ইচ্ছে করলেই ব্যবহার করা যেত জায়গামত।

সিনেমার শেষটাও বেশ অদ্ভুত। গৌরব কে মরতে হবে কেন? শেষে তো সব ঠিকই হয়ে যাচ্ছিল। আর গৌরব মারা গেলে আরিয়ান কীভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন? এর চেয়ে যদি ফিনিশিং এভাবে হত- শেষ পর্যন্ত গৌরব নিজের ভুল বুঝতে পারে, নিজের বাবা মায়ের কাছে ফিরে আসে আর নিজের কলসেন্টারের গার্লফ্রেন্ড নেহাকে বিয়ে করে। আর সেই বিয়েতে যদি আরিয়ান খান্না নাচতে আসত- তাহলে একটা বেশ হ্যাপি এন্ডিং হত যা স্টার আর ফ্যান- দুইজনের জন্য বেশ আশাব্যাঞ্জক হত।

যাই হোক, হইলে তো অনেক কিছুই হতে পারতো। কিন্তু এরপরেও ফ্যান সিনেমাটা স্পেশাল। এই ধরনের কনসেপ্টে বলিউড এ আর কোন সিনেমা হয়নি। ছয় ঘণ্টার প্রতিদিনের মেকাপের পর শাহরুখ গৌরব এ পরিণত হতেন, আবার মেকাপ তুলে আরিয়ানের ক্যারেক্টার করতেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু দৃশ্যের জন্য শাহরুখ এর রেড চিলিস ভিএফএক্স এর প্রতিষ্ঠান এই সিনেমার পেছনে মাসের পর মাস খেটে গিয়েছে। নিজের পায়ের ভাঙা হাড় নিয়ে শাহরুখ দিনে ১৬ ঘণ্টা করে শুটিং করেছেন। আর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে শাহরুখের একাগ্রতা, কাজের প্রতি ডেডিকেশনের কারণে। প্রথমবার আরিয়ানকে দেখার পরে গৌরবের চিৎকার করে যেই রিএকশন, সেখানে শাহরুখের অভিনয় কিছুতেই ভোলা সম্ভব না।

এরপরেও ফ্যান ফ্লপ ব্যবসায়িকভাবে। ফ্লপ হওয়াটা খুব একটা কষ্টের না শাহরুখ এর মত মানুষের জন্য যিনি ২৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। কিন্তু শাহরুখের অনেক নিম্নমানের, ব্রেইনলেস সিনেমা যখন কোটি কোটি রুপি কামাই করে ফেলে আর ফ্যানের মত সিনেমা সিনেমা মূলধনও তুলতে পারে না – তখন কষ্টটা আসলেই বেশ লাগে।

ফ্যান কানেকশনের সিনেমা। এই কানেকশনের ব্যাপারে কেও কানেক্ট না করতে পারলে সে আসলে একজন ফ্যানের অনুভূতি বুঝতে পারবে না। সবাই যার যার তত্ত্ব নিয়ে হাজির হবে যে, এত ফ্যান হওয়ার কি আছে? এরকম পাগলামির কি আছে? একজন মানুষই তো, সিনেমা করে জাস্ট, তার জন্য এত কি? কিন্তু দিনশেষে উত্তর একটাই- কানেকশন। এই জিনিস যে একবার ফিল করেছে, সে ছাড়া আর কেও বুঝবে না। যেমনটা আরিয়ান বুঝতে পারেনি যে গৌরবের কানেকশন কেমন। এই কানেকশন মাঝে মাঝে সময়, স্থান আর মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে যায়- যেমন গৌরবের মৃত্যু। গৌরব মারা গেছে, কিন্তু তার কানেকশনের শক্তি মারা যায়নি, সেটি অমর। এই কারণেই গৌরব মারা যাওয়ার পরেও আরিয়ান নিজের বাসার বাইরে তার একটু ঝলক দেখে।

এরকম হাজারো গৌরব দুনিয়ার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যাদের জন্যই একজন মানুষ স্টার হতে পারে। সেই স্টাররা নিজের জন্মদিনে বাসার ভেতর থেকে ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ায়। ফ্যান সিনেমা দেখার পর থেকে সেই স্টাররা আশা করি আর একটু বেশি সময় তাদের ফ্যানদের দিকে হাত নাড়াবে, আর একটু মনোযোগ দিয়ে তাদের ফ্যানদের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা দেখার চেষ্টা করবেন। তাহলেই ফ্যান সিনেমাটি সার্থক। আর না হলে, র‌্যাহনে দে, তু নেহি সামঝেগা!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।