সৃজনশীলদের দুর্দশার জীবন আমাকে কাঁদায় না!

সিনেমা বানাতে গিয়ে পলাশ এখন হোটেল বয়। শিরোনামটা এরকমই। সিনেমা বানাতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে সুদে ঋণ নিয়ে, জমি বিক্রি, স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সিনেমা বানিয়েছেন তিনি। তার দুর্দশা দেখে তাকে ছেড়ে গেছেন আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে নিজের স্ত্রীও।

এক মুঠো ভাতের জন্য তিনি এখন কাজ করছেন মিরপুরের এক রেস্তোরাঁয়। আড়াইশ টাকা মাইনে আর তিন বেলা খাবারের বিনিময় একজন সৃজনশীল মানুষ এই কাজ করছেন। খবরটা প্রকাশের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। না, কান্নাকাটির বিষয় না এটা। কেন?

প্রথমত, হোটেলে কাজ করা ছোট কাজ না। এই দেশে ছোটভাবে দেখা হয়। রিকশা চালানো, সিএনজি অটোরিকশা চালানো, অন্যের গাড়ি চালানো, সেলুনে কাজ করা, দোকানের কর্মচারী হওয়া সবই ছোটভাবে দেখা হয়। অথচ বিদেশে গিয়ে এই কাজগুলো করেই কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছেন উচ্চশিক্ষিত অসংখ্য মানুষ।

এসব কাজ করেই সমাজের উঁচু স্তরে বসে বড় বড় কথা বলেন অনেক বড় মানুষ। শুধু এদেশে এসব কাজ করলেই সে তুচ্ছ হয়ে যায়। কেউ রেস্তোরাঁয় কাজ করছে, এটা আসলে দুঃখের কিছু নাই। এই কাজ এই শহরে লক্ষ লক্ষ তরুণ করছে। আমরা যারা চাকুরি করে খাই, আমাদের বেসিক কাজ কী? অন্যের অধীনেই তো। এত ভাবের কিছু নাই তো।

দ্বিতীয়ত, আমরা শাহবাগ বা মগবাজার মিডিয়া গলির আশেপাশে চকচকে চোখের কিছু স্বপ্নবাজকে দেখি, যারা জীবনে আর কিছু না করুক, একটা সিনেমা বানাবেই। গল্প নিয়ে ঘুরছে। প্রি প্রোডাকশনের সবকিছু নিয়ে ঘুরছে। সে নিজে স্বপ্ন দেখছে, স্বপ্ন দেখাচ্ছে আশেপাশের গীতিকারকেও। গান লেখো এই সেই থিমের ওপর।

সঙ্গীত পরিচালকের সাথে কথা বলছে। অভিনয়ের জন্য ঘুরঘুর করা ছেলেমেয়েদের নাচাচ্ছে। কিন্তু আসল যে কাজ, অর্থ, মানে টাকা। মানে প্রোডিউসার। সেটার খবর নাই। প্রোডিউসার নিশ্চিত না করে সিনেমা বানাতে যাওয়াকে স্বপ্ন তো বলা যাবেই না, এটা রীতিমত দুঃস্বপ্ন। এটা ক্রাইমের আওতায় পড়ে। টাকা পয়সার ঝরঝরে নিশ্চয়তা না পেয়ে সিনেমা বানাতে গিয়ে পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে ফেলা লোকজনকে আইনের আওতায় এনে ভরে দেয়া উচিত। তুই মরলে মর। ফ্যামিলির সবাইকে দুস্থ বানাবার তুই কে?

এত স্বপ্ন কেন? এত স্বপ্নই যদি দেখতে হয়, তো হোটেলে চাকুরি করে টাকা জমিয়ে তারপর সিনেমায় নামা ভালো। সিনেমা করতে গিয়ে নিজে সর্বস্বান্ত হয়ে আর পরিবারকে ধ্বংস করে যে মানুষ শুটিং করে বেড়ায়, তারে ধরে এনে বেঁধে রাখা উচিত।

আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করি মূলত পরিবারের লোকজনকে ভালো রাখার জন্য। আর যারা পরিবারের লোকজনকে অসহায় বানিয়ে ফেলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে, সেইসব সৃজনশীল মানুষ দুর্দশার জীবন কাটালে তা দেখে আমার কান্না আসে না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।