এভাবেই ভয় ভাঙতে হয়!

একটা জয়ের জন্য কতটা উদগ্রীব ছিল বাংলাদেশ, সেটা এই উদযাপন থেকেই প্রমাণিত।  না হয় কেনই না মুশফিক ওভাবে নাগিন বনে যাবেন, কেনই বা জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সতীর্থরা ছুটে আসবে মাঠে?

একটা জয়টা আসছিল না বলেই তো দলের ভেতরে বাইরে কতরকম গুজব, কত রকম কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছিল। জমে গিয়েছিল জমাট বাঁধা হতাশা, জমে গিয়েছিল এক বুক ভয়।

বাইরে যখন সমালোচনা হয়, বোর্ডে যখন ছি ছি হয়, তখন সেটা ক্রিকেটারদের ছুয়ে যেতে বাধ্য। জবাব দেওয়ার একটা জায়গা খুঁজছিলেন ক্রিকেটাররা। বারবারই সবাই বলে আসছিলেন, একটা জয়! স্রেফ একটা জয়ই পাল্টে দিতে পারে সব।

ভয় ছিল সমর্থকদের মনেও, তাহলে কি আবারো অন্ধকার যুগে ফিরলো আমাদের ক্রিকেট? – এত প্রশ্ন, এত সংশয়ের উত্তর হয়ে অবশেষে সেই জয় আসলো। জয় আসলো ভিন্ন এক দেশে।

তামিম ইকবাল, লিটন দাসের ঝড়ো সূচনা, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ইনিংস আর মুশফিকুর রহিম নামের এক টর্নেডোর ব্যাটে ভর করে আসলো জয়। আসলো পাঁচ উইকেটের বড় এক জয়, নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের মাটিতে হারলো শ্রীলঙ্কা।

যে মুশফিকের অবিবেচক ব্যাটেই ২০১৬ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে এক উইকেটে ভারতের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ব্যাটই এদিন দায়িত্ববান। একের পর এক সপাটে শটে গ্যালারিতে আছড়ে গিয়ে পড়লো ডেলিভারিগুলো। ৩৫ বলে খেললেন ৭২ রানের এক দানবীয় ইনিংস।

একটু একটু করে ভয় ভাঙলো বাংলাদেশের, প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম স্তব্ধ হল।  সেই স্তব্ধতার মধ্যে যেন ছোট্ট একটা বাংলাদেশের গর্জন আরো বেশি তীব্র হল। সেই তীব্রতাই জানান দিল, বাংলাদেশ দলের সাময়িক ভয়টা কেটেছে। এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা।

সেই এগিয়ে যাওয়ার সূচনা হল কি নাটকীয় ভাবে। প্রতিপক্ষ আগে ব্যাট করে ২১৪ রান করে ফেলার পর আসলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ে স্বপ্ন দেখা একটু বাড়াবাড়ি। সেই দু:সাহসটাই বাংলাদেশ দেখালো। এটা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। আর এর আগে আর কোনো এশিয়ান দেশই এত বেশি রান তাড়া করে জেতেনি টি-টোয়েন্টিতে।

এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল, এর আগে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে কখনোই ২০০-এর মাইলফলক পার করতে পারেনি, আজ সেই দলটাই ২১৫ রান তাড়া করে জিতে গেল। ভয় জয় করার নেশা চলে আসলে আসলে আর ভয়-ডর নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কোথায়!

সমালোচনা ছিল, শ্রীলঙ্কার ইনিংসেরও পরও। আবারো বিবর্ণ বোলিংয়ের পর যা হয় আর কি। সেই জবাব দেওয়ার মিশনটা শুরু করলেন ব্যাটসম্যানরাই। ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে তামিম ইকবালের সাথে ইনিংসের সূচনা করলেন লিটন দাস। দু’জনে ঝড়ো চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে ফেলার পর বাকিটা ছিল স্রেফ স্রোতের গতির সাথে দায়িত্ব নিয়ে তাল মেলানো। সৌম্য, মুশফিক, রিয়াদরা করতে পেরেছেন সেটা, মুশফিক একটু বেশিই পেরেছেন। তাতেই তো ভয়টা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।