সেই বর্মন, এই বর্মন

৫৮ লাখ টাকার ট্রান্সফার ফি!

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে এই অংকটা ‘আকাশচুম্বি’ই! তিনি কোনো স্ট্রাইকারও নয়। কাগজে কলমে তিনি স্টপার ব্যাক। মূল কাজ, প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে প্রতিহত করা।

২০১৬-১৭ মৌসুমে তপু বর্মনের এমন ট্রান্সফার ফি তাই অনেকেরই চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল। আবাহনী লিমিটেড থেকে সেবারই সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়ে তপু অবশ্য প্রমাণ করেছিলেন, দলটি খেলোয়াড় চিনতে ভুল করেনি।

গোল মুখে আক্রমণ প্রতিহত করার সাথে সাথে গোল করতে পারার দক্ষতা – সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের চূড়ান্ত এক অলরাউন্ড প্যাকেজই বলা যায় তপুকে।

কোচ জেমি ডে’র সাথে তপু বর্মন

আর চলমান সাফ সুজুকি কাপে তো তিনি রীতিমত গোল মেশিন। ভুটানের পর তিনি এবার গোল করলেন পাকিস্তানের বিপক্ষেও। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রোয়ে হেড করে বাংলাদেশকে কাঙ্খিত বিজয় এনে দেন তপু।

আর তাতেই এক ম্যাচ হাতে রেখে টানা দুই জয় নিয়ে গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে সাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। নয় বছরের অপেক্ষার অবসান হল। ২০০৯ সালের পর আবারো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ নামে পরিচিত সাফের সেমিফাইনালের টিকেট পেল বাংলাদেশ।

গোটা ম্যাচেই পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তপু। ঠিক যেন আধুনিক এক ডিফেন্ডারের প্রতিচ্ছবি। ইউরোপিয়ান ফুটবলে এমন অহরহ দেখা গেলেও বাংলাদেশের জন্য তো একদমই অভিনব।

গোল করার পর ওয়ালি ফয়সালকে সাথে নিয়ে তাঁর উদযাপনও ছড়ালো বাড়তি উদযাপন। এদের হাত ধরেই আবারো ফুটবলে ফিরুক সাফল্য, এমনটাই প্রত্যাশা!

আজ থেকে ১৫ বছর আগে এই ঢাকার মাটিতেই সর্বশেষ সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেবার দলের অধিনায়ক ছিলেন আরেক ‘বর্মন’ – রজনীকান্ত বর্মন। কাকতালীয় ভাবে তিনিও ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। আরো মজার ব্যাপার হল, দু’জনই চার নম্বর জার্সিধারী।

অধিনায়ক হয়ে ২০০৩ সালে এক বর্মন জিতেছিলেন সাফ শিরোপা, এবার কি নায়ক হয়ে আরেকজন বর্মন সেই একই শিরোপা ছুঁতে পারবেন? স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।