বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি

সেইন্ট পিটার্সবার্গে খুব গোলমেলে একটা অবস্থার মধেই পড়তে যাচ্ছেন থিয়েরি অঁরি। কাকে সমর্থন করবেন তিনি? নিজের দেশ ফ্রান্স, না কর্মক্ষেত্র বেলজিয়াম? আজকালকার পেশাদার ফুটবলে যুগে নি:সন্দেহে আবেগের কোনো জায়গা নেই, কিন্তু একবারও কি ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের কৌশল সাজাতে বুক কাঁপবে না অঁরির?

১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নরাই এখন ফাইনালের পথে বেলজিয়ামের বাঁধা। মানে অঁরির লক্ষ্য হল এখন লা ব্লুজদের বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফেরার টিকেট ধরিয়ে দেওয়া। কারণ, আর্সেনাল ও বার্সেলোনার সাবেক এই কিংবদন্তি যে এখন রবার্তো মার্টিনেজের কোচিং স্টাফ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অঁরি কাজ করছেন বেলজিয়াম দলের সহকারী কোচ হিসেবে।

এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালটা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন অঁরি। ব্রাজিলের স্বপ্ন ভঙ্গ করা তো তাঁর এবং ফরাসিদের কাছে ছেলের হাতের মোয়া। ১৯৯৮ সালে এই ফরাসিরাই ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্যারিসে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশম, আজ যিনি ফ্রান্সের কোচ। তাই, অঁরির লড়াইটা নিজের সাবেক নেতার সাথেও।

সেবার দলে থাকলেও ফাইনাল খেলা হয়নি অঁরির। তবে, ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল তিনি খেলেছিলেন, ব্রাজিল হারিয়ে দেওয়ার সেই ম্যাচে জার্মানির মাটিতে গোলও করেছিলেন তিনি। এবার তিনি মাঠে না থাকলেও, মাঠের বাইরে থেকে বেলজিয়ানদের ব্রাজিল বধের কৌশলটা বাতলে দিয়েছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়টা তাই ফরাসিদেরও।

ফ্রান্সের হয়ে ৫১ টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন অঁরি। এবার তাঁর মিশন সেই নিজের দলের বিপক্ষেই গোল আদায়ের কৌশল খুঁজে বের করা। ব্যাপারটা ফরাসিদের জন্য ভুতুড়ে একটা ব্যাপার। অলিভার জিরুদ তো বলেই দিলেন এমন কিছু আশা করেনি ফ্রান্স।

তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমাদের বিপক্ষ ডাগ আউটে থিয়েরিকে দেখব, এটা বিস্ময়কর এক ব্যাপার। তিনি যে ভুল ক্যাম্প বেছে নিয়েছেন সেটা প্রমাণ করতে চাই। পারলে আমি খুব গর্বিত হবো। আমাকে ও অন্য ফরাসি ফরোয়ার্ডকে পরামর্শ দিতে অঁরিকে আমাদের দলে পেলে খুব ভালো লাগতো। তবে, এটাতে মোটেও আমাদের হিংসা হচ্ছে না।’

অঁরির সাথে ৩১ বছর বয়সী জিরুদের একটা ব্যক্তিগত লড়াইও আছে। কারণ, আগে বেশ কয়েকবার জিরুদের কড়া সমালোচনা করেছেন অঁরি। তবে, জিরুদের দাবী সেসব মনে রাখেননি।

বললেন, ‘ও আমার সম্পর্কে কিছু একটা বলেছিল বছর কয়েক আগে। ওসব আমি ভুলে গেছি। আমি এখন খেলায় মনোযোগ দিচ্ছি, আমার কাজ হল ফ্রান্সের হয়ে মাঠের খেলায় ভাল করা। এটা আর ১০ টা ম্যাচের মতই গুরুত্বপূর্ণ। আমি জয়ের জন্য ক্ষুধার্থ, চাইবো বাকিদের মধ্যেও এই বার্তাটা ছড়িয়ে দিতে।’

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।