ওদের শাকিরি, আমাদের তপু

বাংলাদেশ সাফ ফুটবলে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছে।

তপু বর্মণ নামে ছেলেটা গোল করলো। এরপর গোলের উৎসব চলছিল। হঠাৎ আরেক খেলোয়াড় ওয়ালি ফয়সাল সম্ভবত কিছু একটা বললেন গোল স্কোরার তপুকে। তপু হাঁটুগেড়ে বসে গুলি করার মতো ভঙ্গি করলেন, সামনে ওয়ালিসহ আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে। অদৃশ্য গুলিতে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন!

এইতো অল্প কিছু দিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলার সময় জাতিতে আলবেনীয় সুইজারল্যান্ডের এক খেলোয়াড় যখন সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গোল দিয়ে হাত দুটো’কে ঈগলের মতো করে বাঁকিয়ে উদযাপন করেছিল, তখন এই নিয়ে আমি পত্রিকায় একটা লেখা লিখেছিলাম।

ঈগল হচ্ছে আলবেনিয়ার পতাকার প্রতীক। আর সার্বিয়ানরা বলকান যুদ্ধে হাজার হাজার আলবেনীয়দের হত্যা করেছে। যেই খেলোয়াড় সুইজারল্যান্ডের হয়ে খেলছে, তার বাবা-মা’কেও বেঁচে থাকার জন্য আলবেনিয়া ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

তাই সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে সে ঈগলের মতো হাত উচিয়ে জানান দিতে চেয়েছে- তোমরা আমাদের হত্যা করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এই দেখো আমরা ঈগলের মতো উড়ছি।

আমি লিখেছিলাম- এরপর কোন এক ক্রিকেট বিশ্বকাপে আমাদের ক্রিকেট দল পাকিস্তানের সঙ্গে জয়ী হলে, এমন কিছু করলে মন্দ হয় না।

আমার যুক্তিটা খুবই সহজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানীরা যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে, পৃথিবীর অনেকেই সেটা আজও জানে না। এর মাধ্যমে যদি কিছুটা হলেও জানান দেয়া যায়। যেমন’টা ওই আলবেনীয় সুইস খেলোয়াড়ের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে হত্যার কথা জানতে পেরেছি। নইলে হয়ত আমরা অনেকেই ওই ঘটনা আজও জানতাম না!

আমার জানা নেই আমাদের তপু বর্মণ আজ ঠিক কোন কারণে ওভাবে উদযাপন করেছে। তবে আমার যা বুঝার আমি তা বুঝে গিয়েছি। জামা খুলে খালি গায়ে অমন উদজাপনের জন্য রেফারি অবশ্য এরপর তপু বর্মণকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে।

সেটা রেফারি দিতেই পারেন। নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়’রা যদি জার্সি খুলে উদযাপন করে, তাহলে হলুদ কার্ড দেখানোর নিয়ম আছে। হলুদ কার্ড পেলে সাধারণত খেলোয়াড়দের একটু মন খারাপ হতে দেখা যায়।

তবে অবাক হয়ে আজ দেখলাম, তপু বর্মণ একটুও মন খারাপ করেনি। ছেলেটা বরং হলুদ কার্ড পাবার সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত উঁচুয়ে দর্শকদের জানান দিয়েছে- তোমরা আমাদের অনুপ্রানিত করো।

ক্রিকেট দলের জন্য আর অপেক্ষা করতে হয়নি। ফুটবল দল খোদ ঢাকার মাঠে জিতে সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। এটাই বাংলাদেশ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।