স্পুফ ফিল্ম: যে জনরায় জানার কোনো শেষ নেই!

সাউথ ইন্ডিয়ার সিনেমা মানেই তো গুলি করে সেটা হাত দিয়ে আটকে ফেলে, গুলি পৌছানোর আগে নিজে পৌছে যায়, মরা মানুষ জ্যান্ত হয়ে যায়, মাটিতে পা রেখে মাটি ফাটিয়ে ফেলে..ব্লা ব্লা ব্লা!

এমন কথাগুলো নিশ্চই অনেক বিজ্ঞ সিনেমাপ্রেমিদের কাছ থেকে শুনেছেন? আচ্ছা, শোনা বাদই দেই, নিজেই হয়তো সেট ম্যাক্সে আল্লেরি নারেশের ‘জিরো নো হিরো’ বা ‘সুদিগাদু’ ছবিটা দেখেছেন? না দেখলেও ফেইসবুকের কল্যানে লাইকের হাহাকারে ডুবতে বসা পেইজগুলোতে অন্তত ক্লিপ দেখেছেন, তাইনা? চলেন, সেই সিনেমাগুলো নিয়েই আলোচনা করি। এগুলো মূলত হলো ‘স্পুফ ফিল্ম’।

  • স্পুফ ফিল্ম আবার কী? খায় নাকি মাথায় দেয়?

আসলে, মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্য বেশকিছু পরিচিত/জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্যগুলো একসাথে করে রিক্রিয়েট করে সিনেমা বানানো হয়। তবে সবকিছুই হবে লজিকলেস এবং কমিক ধাঁচের। যেমন : বাহুবালির ‘গলা কাটা’র দৃশ্য নিলো, অন্যদিকে ব্রুস লি সিনেমার চিরঞ্জীবির মাস ইন্ট্রো নিলো।

এভাবে জনপ্রিয় সিনেমাগুলো থেকে অংশবিশেষ নিয়ে এবং নিজেরদের মতো করে সিনেমা বানানো হয়। যার মূল কারণ হলো এটা দর্শককে হাসাবে, হাসতে হাসতে সবাই সিনেমা থিয়েটারে গড়াগড়ি খাবে। সিনেমার এই জনরাই হল স্পুফ ফিল্ম। সহজ ভাষায় এটাকে কোনো জনপ্রিয় ছবির প্যারোডি ভার্সন বলা যায়।

  • এস্পুফ ফিল্মের শুরু কোথায়?

ভেবেছেন এই স্পুফ ফিল্ম শুধু সাউথ ইন্ডিয়াতেই হয়? না। সাউথ ইন্ডিয়াতে এই জনরা প্রথম এসেছে ১০ বছর হলো। ‘তামিজ পাদাম’ ছিল’ তামিল ভাষায় নির্মিত পূর্ণ দৈর্ঘ্য স্পুফ ফিল্ম। সেটারই রিমেক হল ‘জিরো নো হিরো’। তবে, বাইরের বিশ্বে স্পুফ ফিল্ম খুব পুরনো জনরা।

বিশ্বের প্রথম স্পুফ ফিল্ম হল আমেরিকায় ১৯০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য লিটল ট্রেন রবারি’। এটা ১৯০৩ সালের ছবি ‘দ্য গ্রেট ট্রেন রবারি’র প্যারোডি। এরপর বিশ্বে এমন শতশত প্যারোডি ফিল্ম মুক্তি পেয়েছে। টাইটানিকের প্যারোডি হয়েছে ‘টাইটানিক ২’ নামে।

স্পুফ ফিল্ম নির্মানে বলিউডও পিছিয়ে নেই। স্বয়ং ‘শোলে’ ছবির আদলেই দু’টো স্পুফ ফিল্ম নির্মিত হয়েছে। সেই দু’টো হল ১৯৯১ সালের ‘রামগড় কি শোলে’ আর ২০০২ সালের ‘ডুপ্লিকেট শোলে’। ‘ধুম’-এর প্যারোডি হয়েছে ‘ঘুম’ নামে।

আসলে স্পুফ কিংবা প্যারোডি ফিল্ম যাই বলুন না কেন, এসব বানানো হয় দর্শককে ভরপুর বিনোদন দেয়ার জন্য। এই ধরণের নির্মাতারা স্ক্রিপ্ট সংকটে ভুগলেও বিনোদনের ব্যাপারে কোনো সংকটে ভুগেন না। নির্মল বিনোদনে এই ধরণের ছবির বিকল্প নেই।

তবে, এসব স্পুফ ফিল্মের দুয়েকটা ক্লিপ থেকে পুরো ছবিকে বিচার করতে পাওয়া ঠিক নয়। নিজেদের চলচ্চিত্র বোদ্ধা দাবী করা অনেকেই না জেনে, এই বিষয়ে ট্রল করেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।